Breaking News
Home / চট্টগ্রাম / নকল ও মানহীন স্বাস্থ্য সামগ্রীতে বাজার সয়লাব। বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি!

নকল ও মানহীন স্বাস্থ্য সামগ্রীতে বাজার সয়লাব। বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি!

নকল ও মানহীন স্বাস্থ্য সামগ্রীতে বাজার সয়লাব। বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি!
কমল চক্রবর্তী –  করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে যে যার মত ইচ্ছা মাফিক তৈরী করে দেদারসে বিক্রি করছে নকল হেন্ড সানিটাইজার, নকল হেক্সাসল,নকল মাস্ক, নকল পিপিই ও নকল সেভলন। যা ব্যাবহারে শরীরের মারাত্বক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক জটিলতা। জেলা প্রশাসনের অব্যাহত অভিযানেও থেমে নেই ব্যবসায়ীদের অপ-কৌশল ।
নগরীতে হাত বাড়ালেই মিলছে এসব নকল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য সামগ্রী। অলিতে গলিতে রাস্তায়, ফুটপাতে সব খানে পাওয়া যায়। আর লোকজন কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া কিনে নিচ্ছে। অন্যদিকে বেশি লাভের আাশায় অনেক বড় বড় দোকান গুলোতেও বিক্রি হচ্ছে। নগরীর হাজারী লেইন, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, গোলাম রসুল মার্কেট, খাতুনগঞ্জ,টেরিবাজার, পশ্চিম মাদারবাড়ি, পাথরঘাটা রোড সহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসকল নকল স্বাস্থ্য সামগ্রীর মিনি কারখানা।
আর ওখান থেকে কেজি দরে ড্রাম ভর্তি করে কিনে নানা প্রকারের লেভেল লাগিয়ে বিক্রি হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেকে পানিতে এলকোহল মিশিয়ে নিজের ইচ্ছা মাফিক রং মিশিয়ে নানা রকমের কালার বানিয়ে বিক্রি করছে। আবার অনেকে কোন প্রকার স্বাস্থ্য বিধি ও নীতিমালা না মেনে এলকোহলে সামান্য উপকরন মিশিয়ে বিক্রি করছে দেদারসে। পাইকারি ও খুচরা কেজি দরে বিক্রি করছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। আবার সেই গুলো নানা প্রকারের লেভেল লাগিয়ে ৩ থেকে ৪ গুন দানে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। হেক্সাসল ও সেভলন বানাতে কি কি উপাদানের দরকার সেই সম্পর্কে ওদের কোন নূন্যতম ধারণা নেই। মনগরা নিয়মে তৈরি করে বিক্রি করছে যে যার মত।
সেই সাথে বাজারে সয়লাব নকল পিপিই ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এ সকল নকল পিপিই। মাস্ক মিলে ১০ থেকে ১৫ টাকায় । যা অত্যন্ত নিন্মমানের। কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়া নিজেরা ইচ্ছা মত বানিয়ে বিক্রি করছে পাইকারি ও খুচরা দরে। নগরীর বেশ কিছু স্থানে গড়ে উঠেছে এসকল নকল কারখানা। বিভিন্ন টেইলারিং দোকানে তৈরি করছে এসকল নকল ও মানহীন মাস্ক ও পিপিই। হাত ঘুরে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। মানুষ দাম কম দেখে কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া কিনে নিচ্ছে এসকল স্বাস্থ্য সামগ্রী। ফলে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ঔষধ প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এইসব নকল ও মানহীন স্বাস্থ্য সামগ্রী ব্যবহারে শরীরে নানা প্রকারের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে পাশাপাশি ক্যান্সারও হতে পারে।
নগরীর কয়েকটি চিহ্নিত স্থানে অভিযান চালিয়ে তৈরী কারকদের জরিমানার পাশাপাশি কারখানাগুলো সীলগালা করা উচিৎ। শুধু জরিমানা করে এর সমাধান আসবে না। কারন জরিমানা করার পর জরিমানার অর্থ তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে এবং একই কাজ আবার করে। ফলে দিন দিন নগরীতে এর বিস্তার ঘটছে। যা কারো জন্য মংগলজনক নয়।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে শত শত এইসকল নকল স্বাস্থ্য সামগ্রীর দোকান। দিন দিন বেড়ে চলেছে এর আধিপত্য বিস্তার। তাই এখনি এর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। না হয় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে নগরবাসী।

Check Also

মেজর সিনহা: চট্টগ্রামের রেঞ্জ ডিআইজি কক্সবাজারে

মেজর সিনহা: চট্টগ্রামের রেঞ্জ ডিআইজি কক্সবাজারে ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খান: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *