Breaking News
Home / জেলা-উপজেলা / লাঞ্চনা ও অপমান সইতে না পেরে আনোয়ারায় স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

লাঞ্চনা ও অপমান সইতে না পেরে আনোয়ারায় স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

লাঞ্চনা ও অপমান সইতে না পেরে আনোয়ারায় স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

মোঃওসমান :আনোয়ারা উপজেলা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি::-

আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা গ্রামে জেএসসি পরীক্ষার রেজিট্রেশন করতে না পেরে দুর্জয় দাশ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে নিজ ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের মিলন দাশের ছেলে ও কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ বারের জেএসসি পরীক্ষার্থী।

নিহতের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার জেএসসি পরীক্ষার রেজিট্রেশনের শেষ দিন। কয়েকদিন আগে জেএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে স্কুল থেকে জানানো হয় জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স দুই বছর বেশি। তাই রেজিস্ট্রেশন করতে হলে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে আনতে হবে। এ কথা শুনে প্রথমে উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর কাছে গেলে তিনি চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরুকে ফোন করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে দিতে বলেন। সেখান থেকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাতরী ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠান। তথ্য সেবা কেন্দ্রের মহিউদ্দিনের কাছে গেলে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় অথবা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একটা প্রত্যয়নপত্র আনতে বলেন। প্রত্যয়নপত্রের জন্য প্রথমে কৈনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি বলেন ইউএনওর কাছে তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে আমাদের নামে অভিযোগ করেছেন তিনি নিষেধ করেছেন প্রত্যয়নপত্র না দিতে। সেখানে না পেয়ে প্রত্যয়নপত্রের জন্য কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি বলেন এ দায়ভার আমরা নিতে পারবনা। তখন প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করে বললাম প্রত্যয়নপত্র না দিলে সে পরীক্ষা দিতে পারবেনা। প্রত্যুত্তরে প্রধান শিক্ষক বলেন এ বার দিতে না পারলে আগামী বছর দিবে। সেখানেও না পেয়ে পরবর্তীতে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের কাছে যাই। তিনি বলেন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে আনলে আমরা এখান থেকে সার্টিফিকেট দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেব। সোমবার পুনরায় কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে অনেক অনুরোধের পর ২০০ টাকা দিয়ে স্কুলের কেরানি হুবহু আগের বয়স ঠিক রেখে একটা প্রত্যয়নপত্র দেয়। এটা নিয়ে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের মহিউদ্দিনের কাছে গেলে তিনি বলেন এটা আগের বয়সের। এটা দিয়ে নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে দেওয়া যাবে না। বার বার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অনেক চেষ্ঠা করেও জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও জেএসসির পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন করতে না পেরে অপমানের ক্ষোভে সোমবার রাতে রুমের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। তার ছোট বোন দেখে দা দিয়ে দড়ি কেটে দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেনি। একই সার্টিফিকেট দিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলেও কোন সমস্যা হয়নি কিন্তু জেএসসি পরীক্ষার রেজিট্রেশনের সময় সমস্যা হচ্ছে?

এ ঘটনার পরও স্কুলের কোন শিক্ষক বা স্কুল কমিটির কোন সদস্য আমাদের বাসায় দেখতেও আসেনি। আজ মঙ্গলবার সকালে স্কুলে প্রধান শিক্ষক আসলে এলাকার কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি বলেন এটা স্কুল কমিটি জানে। স্কুল কমিটির সভাপতি বলে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে কিছু জানায়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে দেয়ার জন্য বলেছিলাম

চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন হিরু বলেন, ভোগান্তির বিষয়টি আমি জানলে সমাধান করে দিতাম।

এ বিষয় আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

Check Also

জগন্নাথপুরে প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী, ভেসে গেছে মৎস্য খামার

জগন্নাথপুরে প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী, ভেসে গেছে মৎস্য খামার মোঃ হুমায়ুন কবীর ফরীদি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *