Breaking News
Home / লাইফ স্টাইল / জ্ঞান তাপস কবি মাদল বড়ুয়াকে যে ভাবে দেখেছি

জ্ঞান তাপস কবি মাদল বড়ুয়াকে যে ভাবে দেখেছি

জ্ঞান তাপস কবি মাদল বড়ুয়াকে যে ভাবে দেখেছি

এম এইচ সোহেলঃ জ্ঞান তাপস চট্টগ্রামের বিশিষ্ট কবি মাদল বড়ুয়া,
যিনি জীবনের অধিকাংশ সময় জ্ঞান সমুদ্রে ডুব
দিয়ে জীবনের পরন্ত বেলায় স্থির হয়ে কাব্য চর্চায়
নিবিড় ভাবে মনোনিবেশ করেছেন। এই জ্ঞান ভাস্কর
বিশ্বমুখি ভাবনার নির্মল দর্পনে, রবিঠাকুর, রাহুল
সাংকৃত্যায়ন সহ বিভিন্ন মনীষীর আজন্ম অভীপ্সা
তাঁকে ভবঘুরে করে তুলেছে। এই অভীপ্সা তাঁকে
রুপান্তরিত করছে এক বাস্তবধর্মী মানবতার প্রতীক
হিসাবে। এই কবি এখনো দিনের অধিকাংশ সময়
জ্ঞান আহরণে অর্থাৎ বই এর মধ্যে ডুব দিয়ে মনি
মুক্তা খোঁজেন।
এই জ্ঞান ভাস্কর কবি মাদল বড়ুয়াকে আমার খুব
কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। যতই তাঁকে
দেখেছি ততই তাঁর জ্ঞানের অতল সমুদ্রের গভীরতা
দেখে আচ্ছন্ন হয়েছি। অশেষ বিস্ময়ে নিরন্তর লক্ষ্য
করেছি উনার জ্ঞানের গভীরতা ও কবিত্ব অসাধারণ।
যিনি দেখা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কবিতা লিখে ফেলতে পারেন। মাত্র এক বছর সময়ে তিনি ১৫০০
এর মতো কবিতা লিখে ফেলেছেন। মুখে মুখে কবিতা লিখে ফেলতে পারেন। এ এক অসাধারণ
প্রতিভা।
আমি কবি মাদল বড়ুয়াকে প্রশ্ন করি, “আপনার এ
জ্ঞানে তো জীবনে অনেক উচ্চ স্তরে যাওয়ার কথা”।
কবি বলেন ” আমি একজন ভবঘুরে জীবনে কোন
দিন স্থির হতে পারি নিই, জীবনে দুই বার অর্থাৎ
chemistry ও Management এ মাস্টার ডিগ্রি
নিয়েছি, এল,এল,বি পাশ করছি, আই, সি,এম এ
চার বিষয় পাশ করে ইস্তফা দিয়েছি”। বারবার
আমাকে জ্ঞান সমুদ্র ডাক দিয়েছে তাই
স্থির থাকতে পারি নিই। চাকরি ও অনেক করেছি।
হাই স্কুলের মাষ্টারী, কলেজের অধ্যাপনা, বাংলাদেশ
লিভার ব্রাদার্স এর চাকরি, কোচিং সেন্টারের
ডাইরেক্টর কাম অধ্যাপক ছাড়া ও আরো অনেক
কিছু করেছি। কিন্তু কোনটিতেই স্থির থাকতে পারি
নিই। বারবার আমার জ্ঞান সমুদ্র আমায় ডাক দিয়েছে। তাই তো আজ আমার এ অবস্থা।

কবি মাদল বড়ুয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা
========================
কবি ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়
কমান্ডার খায়জাআহম্মদের নেতৃত্বে মুক্তি যুদ্ধে
অংশ গ্রহণ করেন। রাত্রে বিভিন্ন জায়গায় Operation করতে যান। আমি কয়েকটি operation
এর কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। আজ আমি একজন মুক্তি যোদ্ধা কবিকে আমার অন্তর থেকে
সালাম জানাই।

কবি যেন আকাশের ধুমকেতু
====================
চির জ্ঞান পিপাসিত কবি মাদল বড়ুয়া কখনো
টাকার পিছনে দৌড়ান নাই। কবি কোন হিসাব করে
চলে না। মনে যখন যা আসে তাই লিখে ফেলে।ফলে
অনেক সময় বিপদে পরে যায়। কবির জ্ঞান পিপাসা
মিটাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান।
তিনি দুইবার রবিঠাকুরের শান্তি নিকেতনে, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, পাটনা লাইব্রেরি, পাটনা মিউজিয়াম,
শ্রীলংকা সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় জ্ঞানের অন্বেষণে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কবির সমগ্র নিরবচ্ছিন্ন
ভবঘুরে হিসাবে জ্ঞান আহরণের জীবনের গভীরতা
অত্যন্ত গভীর। কবির দৃষ্টিতে মানুষ হলো সবচেয়ে বড়ো। কবি কল্পনায় বিশ্বাস করেন না।
কবি মাদল বড়ুয়া অন্ধকারে চিরাচরিত নিয়মে
বদ্ধ ঘরে থাকতে চান নাই। তাই মুক্ত বিশ্বের অতল
জ্ঞান সমুদ্র কবিকে টেনেছে বাউল রূপে। বর্তমানে
কবির দুই ছেলে বুয়েট ইন্জিনিয়ার,ওরা ও অত্যন্ত
মেধাবী।৷ কথার এক পর্যায়ে বলেন ছেলে দুটোর
বিয়ে দিয়েই আমার কাজ শেষ। বয়স কম হওয়ায়
এখন ঘরে বউ আনতে পারছি না।

বর্তমানে কবি ছোট গল্প ও কবিতায় স্থির হয়েছেন।
আমি এমন মহান দেশপ্রেমিক মুক্তি যোদ্ধা কবি
মাদল বড়ুয়াকে অন্তর থেকে সালাম জানাই, সাথে
কবির আগামীর পথচলা যেন কাব্যময় হয় এই
প্রার্থনা করে কবিকে অনেক অভিনন্দন জানাই।

Check Also

মানুষকে সদাসর্বদাই আপন করে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করা প্রয়োজন

মানুষকে সদাসর্বদাই আপন করে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করা প্রয়োজন নজরুল ইসলাম তোফা:: মানুষের জীবন সার্থকতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *