Breaking News
Home / ধর্ম / ছাত্রসেনার প্রথম শহীদ আবদুল মোস্তাফা হালিমে ‘র ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ।

ছাত্রসেনার প্রথম শহীদ আবদুল মোস্তাফা হালিমে ‘র ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ।

ছাত্রসেনার প্রথম শহীদ আবদুল মোস্তাফা হালিমে ‘র ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ।

মোঃ ইরফাত হোসেন চোধুরী
রাউজান প্রতিনিধি।

ছাত্রসেনার প্রথম শহীদ আবদুল মোস্তাফা হালিমে ‘র ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ।

শহীদ আব্দুল হালিমের মূল নাম হলো মুহাম্মদ আবদুল মোস্তাফা হালিম। তার বাড়ী চট্টগ্রাম বিভাগের রাউজান উপজেলা দক্ষিণ রাউজানে। গ্রামে প্রাথমিক মাদরাসা শিক্ষা সমাপ্ত করে চন্দ্রঘোনা তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়। একদিকে তিনি ছিলেন ফুললিত কন্ঠের অধিকারী অপরদিকে তীক্ষ্ণ মেধাবী স্মরণ শক্তি ছিল খুবই ধারালো। তীক্ষ্ণ মেধার কারণে অল্প দিনের মধ্যে তার মেধার খ্যাতি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে শিক্ষকরা তাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি বিশেষত আরবি ব্যাকরণে অনন্য পারদর্শী ছিলেন। আবরী ব্যাকরণের খুবই কঠিন কিতাব হলো ‘কাফিয়া’ যার কথা অল্প কিন্তু ব্যাখ্যা বিশদ। যা নাহু শাস্ত্রবিদ ফোকাহয়ে কেরাম, আউলিয়ায়ে কেমার ও সুফি সাধকগণ যার যার আঙ্গিকে গ্রহন করেছেন। এটা বিশ্বব্যাপী এতো সমাদৃত হয়েছে যার কারণে বিভিন্ন ভাষায় সত্তরের উপরে উহার ব্যাখ্যা গ্রন্থি রয়েছে। এ কঠিন কিতাব তিনি এমনভাবে আয়ত্ব করতেন যে, বাতিলপন্থি আলেমদের সাথে এই বিষয়ে মোকাবেলা করতেন এবং তাদের কে লা জাওয়াব করে দিতেন। এই বুঝার ধরণ ছিল ভিন্ন যার ফলে উক্ত মাদরাসার অনেক ছেলে তার কাছে প্রাইভেট পড়তো এবং অন্যান্য ছেলেরা কিতাবে কোন সমস্যা না বুঝলে বুঝিয়ে নিতো এবং তাদের কে খুব সহজে বুঝিয়ে দিতেন। তীক্ষ্ণ মেধাবী, সুন্দর হস্তলিপি, নম্র ও বিনয়ী খোদাভীতি ও নবী প্রেম ইত্যাদি গুণের সমাবেশ তার মাঝে ছিল। এ কারণ সকলের কাছে তিনি গ্রহনযোগ্য ছিলেন।
শহীদ আবদুল হালিম খোদা তা’আলা ও রাসুল (সঃ)এর দুশমনদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড বিদ্রোহী। দুর্ভাগ্যবশত কিছু ছদ্ধবেশি শিবিরের কর্মী উক্ত মাদরাসায় পড়া_লেখা করত। তবে তারা প্রকাশে কোন কর্মসূচি কার্যক্রম করতে পারতো না। কারণ ওটা ছিল সুন্নী প্রতিষ্ঠান তথা আওলাদে রাসুল গাউছে জামান হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাঃ)এর প্রতিষ্ঠিত। শহীদ আবদুল হালিম উক্ত মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণি থাকাকালেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সমর্থক ফরম পূরণ করেছিলেন। ক্রমান্বয়ে কর্মী হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের যে কোন কর্মসূচিতে সে ছাত্রদেরকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার কার্যক্রম দেখে বাতিল পন্থীরা শংকত হয়ে যেত। যেসব শিবির কর্মী ওখানে পড়ত তাদের প্রায় সময় মওদুদী মতবাদ ভ্রান্ত- এ বিষয়ে বাক বিতন্ডা হত। শিবির কর্মীরা তার কাছে আবুল আ’ল মাওদুদী, গোলামে আজম এর লিখিত কথাগুলোর রেফারেন্স উপস্থাপন করলে তিনি তা দলিলাদি দ্বারা খান্ডয়ে দিতেন। বিশেষ করে নাম দ্বারী মুফাসসির তিনি বর্তমানে হাজত বাসে রয়েছে তথা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে শিবির কর্মীর সাথে প্রচন্ড কথা কাটাকাটি হয়। শিবির কর্মীদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ছিল কট্টর। সে অনেকবার শহীদ হালিমের সাথ্যে বাকযুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। অবশেষে সে হালিম কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করে। ঐ সময় তিনি দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ১৬ বছরের মর্দেমুজাহিদ। সম্মুখে বির্তকে এবং আর্দশিক কায়দায় পরাজিত হয়ে শিবির কর্মী হালিম কে খুন করার নীল নকশা তৈয়ার করে উহাকে বাস্তবায়ন করার জন্য শিবির কর্মী মাহমুদুল হাসান মাদরাসার বাইরে অবস্থান করে। অনেক দিন পর সেই মাদরাসা ক্যাম্পাসে আসলে সরল প্রাণ তাকে পেয়ে খুব আনন্দিত হন। তাকে তার কক্ষে যাওয়ার কথা বললে সেই রাজী হয়েগেল। হালিম বন্ধু রুপী খুনির জন্য খব সুন্দর করে বিছানাকরে রেখেছিলেন। দিনটি ছিল ১০ জুলাই ১৯৮৪খ্রিষ্টাব্দ। খুনি হালিমের রুমে হালিমের সাথপ দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করল। রাত্রে খুনি হালিম বলল, আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আসতে দেরি হলে দরজার হোকটা সোজা করে তুমি ঘুমিয়ে পড়িও। সরল প্রাণ হালিম তার কথামত কাজ করে নিজ বিচানায় ঘুমিয়ে পড়লো গভীর রাত্রে সকলে ঘুমিয়ে পড়ার পর, টিক সেই মুহুর্তে খুনি মাহমুদ হালিমের রুমে ডোকে আস্তে আস্তে তাঁর শরীর থেকে কম্বল উপরে ফেলে চুরি নিয়ে তাঁর গলায় চালিয়ে দিল। রক্তের ছিটকা দেয়ালে ও বিছানায় তথা কক্ষটা রক্ত রঞ্জিত হয়েগেল। হালিম যন্ত্রনায় কাতরায় এবং চিৎকার করছিলেন। তার চিৎকারে সবাই ঘুম থেকে উঠে দেখলো এক বিভৎস নারকীয় দৃশ্য। খুনি সবাইকে চুপ থাকতে বলল এবং আওয়াজ করলে সবাই কে হত্যার হুমকি দিল। ইতিমধ্যে শহীদ শাহাদাতের অমৃত স্বাদ পান করলো। বাংলাদেশ ইসলাম ছাত্রসেনার শহীদী কাফেলায় প্রতিষ্ঠিত করলেন। সরল প্রাণ হালিম বন্ধু রুপি খুনির জন্য সুন্দর করে বিছানা করে রেখেছিলেন সে তাকে হত্যা করে আবু জাহেলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এটাই হলো মুনাফিকের স্বরুপ। এটাই তাদের কর্মকৌশল। হত্যার পর খুনি মাহমুদুল হাসান সারারাত মাদরাসার আঙ্গিনায় ঘুরছে। তার চোখে কিছুই দেখতে পারছিলনা। যে বলেছিল কে যেন আমাকে মাদরাসার বাইরে যেথে বাধা দিচ্ছে। আমি মাদরাসা থেকে শত চেষ্টা করেও বের হতে পারছিনা অবশেষে মাদরাসার প্রহরী এবং অন্যান্য ছাত্রদের হাতে সে ধরা পড়ল। পরে তাকে পুলিশ কারাগারে নিয়ে য়ায়।

Check Also

হাটহাজারীতে করোনায় মৃতদের দাফন-কাফন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

হাটহাজারীতে করোনায় মৃতদের দাফন-কাফন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মুহাম্মদ জামশেদ-   গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা পূর্ব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *