Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / চারদিকে ছড়িয়ে পড়া সাহেদ, পাপিয়া, জিকে শামীমের মত লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ হুমকির মুখে পড়বে -তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা

চারদিকে ছড়িয়ে পড়া সাহেদ, পাপিয়া, জিকে শামীমের মত লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ হুমকির মুখে পড়বে -তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা

চারদিকে ছড়িয়ে পড়া সাহেদ, পাপিয়া, জিকে শামীমের মত লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ হুমকির মুখে পড়বে -তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা আর বঙ্গবন্ধু একসুত্রে গাথা।তিনটি জিনিস এদেশের জন্য আবেগ আর ভালবাসার জিনিস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানে বাঙালীর ইতিহাস।আর স্বাধীনতা ইতিহাস মানে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস। একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।বাঙালীর প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের আওয়ামী লীগের অবদান অতুলনীয়।যা বলে শেষ করা যায়না।
১৯৪৯ সালে ২৩ শে জুন জন্মের পর থেকে সব ইতিহাসে আওয়ামী লীগের অবদান অনস্বীকার্য।আওয়ামী লীগের সাথে একটি নাম জড়িত আছে তা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।বঙ্গবন্ধুকে বাঙালী জাতী মনে প্রানে বিশ্বাস করে।বঙ্গবন্ধু যা বলে এজাতি তা অকপটে মেনে নিয়েছে যা ৭০ সালের নির্বাচন ও ৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে দেখা যায়।ত্যাগ আর আদর্শের প্রতিষ্ঠান হল আওয়ামী লীগ।এদলের কর্মীরা বেশী আবেগ প্রবন ও দেশপ্রেমিক।তাদের সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেন-মানুষকে ভালবাসলে মানুষও ভালবাসে।যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন জনসাধারণও জীবন দিতে প্রস্তুত।
জাতির পিতার দল আওয়ামী লীগ আমাদের আবেগ আর ভালবাসার ঠিকানা। সত্যি দলের দুঃসময়ের লোকজন আজ বড়ই অসহায় ও কঠিন সময় পার করছে। কারণ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন যাবত ক্ষমতায়।এই সুযোগে অনেকহাইব্রিড,দলচ্যুত,
আমলা,ব্যবসায়ী,চামচা দলে ঢুকে গেছে।সবাই ব্যস্ত টাকা আর ক্ষমতা নিয়ে। কেউ দলের নিবেদিত,ত্যাগী ও আদর্শিক
কর্মীর খবর নেয়না।তাইতো জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন- আমার দুর্দিনে কর্মীদের খবর কেউ নেয়না।তারা অভিমানী হয় কিন্তু বেঈমান নয়।
আসলে আওয়ামী লীগ চলছে এক অদৃশ্য ক্ষমতায়।এজন্য আজ এক ধরনের বাটপার,
দলচ্যুত,ঘাপটি মেরে বসে থাকা ধান্ধাবাজ লোক ঢুকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়।তারা টাকা দিয়ে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।গণভবন,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়,পার্টি অফিস, সচিবালয়ে সব জায়গায় তাদের অবাধ বিচরন।টাকার জোরে তাদের ক্ষমতা বেশী।আমলারাতাদের খেলার
সাথী।নেতাদের নিকট তাদের পার্সেন্টজ ও বাসায় গিফট পাঠিয়ে দেয়।

এমপি,মন্ত্রীদের সাথে সখ্যতা বেশি।সব জায়গা ভণ্ডামি আর টাকা দিয়ে জয় করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেন।বর্তমানে পিপড়ার মত সব অফিস ঘিরে রেখেছে। কে কি চাই ও কিভাবে কাজ করতে হয় তা তাদের জানা।চলাফেরায় তাদের স্টাইল থাকে।প্রতিদিন নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন ফায়দা লুঠে নেয়।এমপি,মন্ত্রী,
আমলা ও নেতারা কি চাই তারা তা পাঠিয়ে দেয়।সেজন্য কোন কিছুই তোয়াক্কা করে না।সব জায়গায় দাপটের সাথে চলে।সব প্রতিষ্ঠানের পিয়ন থেকে শুরু করে বস পর্যন্ত তারা টাকা দিয়ে ঠিক রাখে আর যত অপকর্ম আছে তা করে যায়।দিনে দিনে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায়।গনভবন,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়,সচিবালয় ও পার্টি অফিসে রাজার হালের যাতায়াত। অন্যদিকে ত্যাগী,আদর্শিক,মেধাবী,
দুঃসময়ের যোদ্ধা,নির্যাতিত নেতা ও কর্মীরা দিনের পর দিন,মাসের পর মাস,বছরের পর বছর তীর্থের কাকের মত বসে থাকে সেসব কার্যলয়ে প্রবেশ পায়না।এমনকি অনেক মন্ত্রী,সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ে পাস পর্যন্ত পায়না।দলের দুঃসময়ে তারা ছিল অতন্দ্র প্রহরী।দলের প্রধানের সাথে তাদের চলাফেরা ছিল অবাধে আজ তারা একটা পাসের জন্য অধরা রয়ে যায়।একটু মনের দুঃখের কথা বলার জন্য যেতে চাই কিন্তু পাস হল তাদের বড় বাধা।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ৯০ দশকের দুঃসময়ের পরিক্ষীত এক নেতা আমার খুব ঘনিষ্ঠ ভাজন তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটা পাসের জন্য অনেক দরখাস্ত ও তদবির করে পাস পায়নি আর তিনি পার্টি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করে।এরশাদ – খালেদা জিয়ার আমলে নির্ভীক যোদ্ধা হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্ত্বরে তার অবদান অতুলনীয়। কি নির্যাতন ও ত্যাগ করেছিল তা বলার বাইরে। আর সেসব সাবেক মেধাবীছাত্রনেতার অবস্থা যদি এইরকম হয় তাহলে উপজেলা,জেলা,বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ নেতাদের কি অবস্থা হবে সহজে অনুমান করা যায়।আজ প্রতিটি অফিসে সাহেদ,পাপিয়া,
মিঠু,খালেদ,জিকে শামীম গংদের মত লোকের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।শুধু সাহেদ,মিঠু,
পাপিয়া,খালেদ,জিকে শামীম নয় সব জায়গায় এমন দুর্নীতিবাজ,দলচ্যুত,হাইব্রিড
লোক এমনকি কি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে চলে গেছে। তাই সময় থাকতে প্রতিটি এলাকায় তাদের দোসর আর যেসব নেতা,মন্ত্রী,এমপি ও আমলা তাদের শেল্টার দিচ্ছে তাদের বিচার করা হলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগের রাজনীতি সেই পুরানো ইতিহাস ফিরিয়ে আসবে আর তৃনমুল কর্মীরা শান্তি পাবে। যদি এসব অগাছা,পরগাছা ও তাদের শেল্টার দিচ্ছে তাদের বিচার করা নাহলে প্রিয় আওয়ামী লীগের অবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

তবুও আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কিছু দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত হচ্ছে।অনুপ্রবেশকারী বলেন,
হাইব্রিড বলেন,এমনকি দলের কেউ আপরাধ করলেও তাও চিহ্নিত করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।যদি ক্ষমতার রাজনীতির পার্থক্য বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাবে অন্য কোন দল তাদের সময় এইভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি এমনকি তারা নিজ দলের সব কিছু মাফ করে দেয় হয়।আরো প্রশ্রয় দিয়ে অপরাধীর আস্তানা গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অনেকদিন যাবত ক্ষমতায় থাকাতেই সুযোগ সন্ধানীরা এবং মুখোশধারীরাও চিহ্নিত হচ্ছে।কিন্ত সুযোগ সন্ধানীরা বেশিদিন ঠিকে থাকতে পারছে না।কোন না কোনভাবে পাবলিকদের সামনে চলে আসতেছে।এক ধরনের ধান্ধাবাজ ও সেল্ফিবাজীরা বড় বড় নেতা,আমলা ও ক্ষমতাবানদের সাথে সেল্ফি তোলে জানান দিচ্ছে তাদের অবস্থান।মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।পরিচয় দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে কিন্ত গভীরে গেলে দেখবেন তারা কেউ দলের নিবেদিত প্রাণ ছিলেন না।
এমনকি তারা দলচ্যুত ব্যক্তি অথবা হাওয়া ভবনের সুযোগ সুবিধা ভোগী লোক।তারা সব সময় সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দেশের তেরেটা বাজিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়।
তারা কেউ সাহেদ,পাপিয়া,মিঠু,
খালেদ,জিকে শামীম,আনিচ,
রাজ্জাক সিন্ডিকেটের মত দুর্নীতিবাজ লোক।তাদের মত কত সাহেদ,পাপিয়া,আনিছ,
খালেদ, মিঠু,জিকে শামীমের মত লোক ছড়িয়ে আছে তার কোন ইয়ত্ত নাই। সব জায়গায় আজ তাদের অবাধে বিচরণ।আলাউদ্দিনের চেরাগের মত তাদের সব ক্ষমতা।তাদের এ ক্ষমতার মুল রহস্য দেখতে পাবে কিছু নামধারী নেতা,আমলা,
সুবিধাভোগী লোক জড়িত।তারাও এসব অপকর্মে জড়িত আছে বিধায় সেসব কুলাঙ্গার দুর্নীতিবাজ লোক কাজ করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে যাচ্ছে।সবকাজ করতে তারা
সাহস পায়।ধীরে ধীরে তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায় এক নিমিষে।দেশের তেরেটা বাজিয়ে দিচ্ছে যা দল ও দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।সব টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়।
প্রকৃত আওয়ামী লীগ যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তারা কখনো দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে না।তারা কষ্টে জীবন যাপন করছে। দুমোট ভাত খাওয়ার জন্য তারা প্রতিদিন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। দলের জন্য তারা যে ত্যাগ,তিতিক্ষা,সংগ্রাম,মামলা,
হামলা,নির্যাতন শিকার
করেছে তা অতুলনীয়।কর্মীদের ত্যাগের উপর ভর করে আওয়ামী লীগ নামক সংগঠন আজ বাংলার বুকে বটবৃক্ষ রুপে দাড়িয়ে আছে।কর্মীরা হল দলের শাখা- প্রশাখা।তাদের ত্যাগ আর তিতিক্ষার কথা বলে শেষ করা যাবেনা।
বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ কর্মী নির্ভর দল আজ ক্ষমতায়।দলের সব আন্দোলন সংগ্রামের তাদের অবদান রয়েছে। সে কর্মীরা আজ বড়ই কঠিন সময় পার করছে। দলচ্যুত,হাইব্রিড,চামচা,
আগাছা গুলো দলের নাম বিক্রি করে দিনের পর দিন বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায়।যা আওয়ামী লীগের জন্য
অশনিসংকেত।তৃনমুল কর্মীরা যেখানে দলের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেনা সেখানে হাইব্রিডরা ভালো অবস্থান করে নিচ্ছে।
অনেক উপজেলা,জেলার নেতারা আজ ক্ষমতা কি জিনিস জানেনা।কেননা বেশীভাগ এমপি হয়েছে আমলা,ব্যবসায়ী বা অনুপ্রবেশকারী আর অনেক মন্ত্রীরা তদ্রূপ।সেসবএমিপ,
মন্ত্রীগন নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ করে যায় এমনকি উপজেলা,
ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের পিএস,এপিএসর
ক্ষমতা অসীম।সেখানে আদর্শিক ও ত্যাগী কর্মীদের মুল্যায়ন করছে না।সামান্য লোক দেখানোর জন্য কয়েকজন নিলেও বাকীদেরকে দুরে সরিয়ে দেয়।বর্তমানে প্রতিটি এলাকায় দেখতে পাবেন ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিতে পূর্বে ত্যাগী,আদর্শিক লোকজন সরিয়ে চামচা,হাইব্রিড লোকজন বসিয়ে দিচ্ছে যা আরো ক্ষতির মুখে পতিত হচ্ছে প্রিয় আওয়ামী লীগ।
সাহেদ পাপিয়া,মিঠু,খালেদ,জিকে শামীম,আনিসদের বিচার
করার সাথে আরো অনেক দলচ্যুত, দুর্নীতিবাজ,চামচা,
হাইব্রিডদের চিহ্নিত করে সবার বিচার করা এখন সময়ের দাবী।যদি এসব অপকর্মে জড়িত লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগ হুমকির মুখে পড়তে পারে।দলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।তাই সময় থাকতে সব দুর্নীতিবাজ লোক চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হউক।যেসব মন্ত্রী,এমপিরা
ব্যর্থ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জরুরী কেননা আজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যাতে পার না পায়।তাহলে দল যেমন উপকৃত হবে তেমনি দেশের লাভ হবে।স্বচ্ছ জবাবদিহিতা গ্রহণ করলে দলের কল্যাণ নিহিত হবে আর দেশের উন্নতি হবে।
বর্তমানে সবার মুখে একটা দাবী বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উচিৎ ঐ সমস্ত আগাছা, দুর্নীতিবাজ,হাইব্রিড ও দলচ্যুত ব্যক্তি গুলো পরিস্কার করা।তা নাহলে ভবিষ্যতে প্রিয় আওয়ামী লীগের অবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।জনগণের দল জনশূন্য পরিনত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

লেখক – তসলিম উদ্দিন রানা,সাবেক ছাত্রনেতা ও কলাম লেখক।

Check Also

বিসিএস ক্যাডার না উদ্যোক্তা?

বিসিএস ক্যাডার না উদ্যোক্তা? মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই এর মানে এই নয় যে আপনাকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *