Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে “খোলা চিঠি”- সৈয়দ নুরুল আবছার

জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে “খোলা চিঠি”- সৈয়দ নুরুল আবছার

জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে “খোলা চিঠি”- সৈয়দ নুরুল আবছার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি,
১৮ কোটি মানুষের আস্থার ঠিকানা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা
জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে খোলা চিঠি।

প্রিয় নেত্রী পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানিবেন।
এবার বিশ্ব মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা মহান আল্লাহর প্রতি প্রেমের স্বীকৃতি স্বরূপ পশু কুরবানী “সর্বোচ্চ ত্যাগের দিন” উজ্জাপিত হয়েছে ১লা আগস্ট। অর্থাৎ বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, মহান স্বাধীনতার স্থপতি, হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বরণকারী আগস্ট মাসে। আর এই আগস্ট মাস হচ্ছে বাঙালি জাতির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মাস, নিদারুণ কষ্টের মাস, সর্বোপরি শোকের মাস। আমি আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ যারা সে দিন এই হত্যাকান্ডে শহীদ হয়েছিলেন তাদের সকলকে এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। খুনিরা ইতিহাস বিকৃতি করে খুনি জিয়াকে দেশের স্বাধীনতার ঘোষক বাণীয়ে এদেশকে মিনি পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যাতে কোন ক্রমেই ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য দীর্ঘ ২১বৎসর খুনিরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে না না মিথ্যা প্রপাগণ্ডা শুরু করে। এগুলো করে তারা নতুন প্রজন্মকে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বানোয়াট মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা, ইতিহাস তার আপন গতিতেই চলে, তাই বঙ্গবন্ধুর খুনি ষড়যন্ত্রকারী স্বাধীনতাবিরোধী, বিএনপি-জামাত অাজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।আজ রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া। কোন ষড়যন্ত্রই চিরকাল স্থায়ী হয় না। সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই। তাইতো অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে, সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা, ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন এবং indemnity Ordinance বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধী বিচার, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, সংবিধান সংশোধনী সহ অনেকগুলি রাষ্ট্রীয় জটিল সমস্যার সমাধানকল্পে উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা দেশে বিদেশে খুবই প্রশংসিত হয়।
দেশ পরিচালনায় খাদ্যে স্বয়ং সম্পুর্ণতা অর্জন, দ্রব্য মুল্য নিয়ন্ত্রণ, অর্থ, বানিজ্য, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন এবং সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতানয় এ ধরনের পররাষ্ট্র নীতির কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে-বিদেশে ভুয়শি প্রশংসা লাভ করে। সরকারের মেয়াদান্তে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, জননেত্রী শেখহাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বিশ্বের ইতিহাসে না হলোও বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা বিরল। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে নেই, তাই অাওয়ামী বিদ্বেষী দেশী বিদেশী স্বাধীনতা বিরুধী সকল অপশক্তি গুলো আবার ঐক্যবদ্ব হলো, যে কোন মুল্যে আওয়ামীলীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবেনা। তারই আলোকে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সহিত আতাত করে নির্বাচন কে প্রভাবিত করে এবং বি,এন,পি কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন।

ষড়যন্ত্র এখানেই শেষ নয় শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। আল্লাহর অসীম রহমতে শেখ হাসিনা সেইদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা র্কমী নিহত ও আহত হন এবং অজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বিএনপি সরকারের ৫ বৎসর মেয়াদ শেষ হলে ও তারা সরকার থেকে পদত্যাগ না করে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার জন্য ষড়যন্ত্র করে এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করে, সংবিধান বহির্ভূতভাবে রাষ্ট্রপতি ডঃ ইয়াজউদ্দিন কে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশের জোরালেো প্রতিবাদ গড়ে তুললে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে, one eleven সৃষ্টি হয়। আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলে সেখান থেকে দেশে অাসতে চাইলে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ওয়ান ইলেভেন সরকার কতৃক বিধিনিষেধ অারোপ করা হয়। পরবর্তীতে দেশে বিদেশে তুমুল প্রতিবাদের মুখে নেএীকে দেশে আসতে অনুমতি প্রদান করা হয়।one eleven এর সরকার Two miness formula তে শেখ হাছিনা এবং খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। কিন্তু এদেশের জনগন তা কোন দিন মেনে নিবেনা বুঝতে পেরে one eleven. এর সরকার সে এজেন্দা থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে one eleven সরকারের অধীনে ২০০৮ এর ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে দুই তৃতিয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে দ্বিতীয় বারের মত দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটানা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে জঙ্গি দমন সহ দেশ দ্রোহীনানাবিধ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের সর্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী, যোগাযোগ ব্যবস্হায় ব্যপক উন্নয়নে উড়ালসেতু নির্মান, একান্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর ন্যায় মেগা প্রকল্প নির্মান সহ যুগান্তকারী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে চলেছে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে, আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ এবং সর্বশেষ মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি লাভ, বাংলাদেশকে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিয়েছে। মিয়ানমার সরকার কর্তৃক নিগৃহীত নির্যাতিত বিতারিত মুসলমানদের কে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক Mother of huminity পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

বিশ্ব মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় শুরু থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রসংশনীয় ছিল। অসহায় গরীব মানুষের সাহার্য্যাথে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্রদান যা আজো চলমান রয়েছে। ১৯২০-২১ সালের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন এবং ঘোষণা মূলত বিশ্ব মহামারি কোভিড-১৯ কে উপলক্ষ করেই। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত কল্পে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি সরকারের অন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। এককথায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদি দুর্নীতিবাজদের কারণে সরকারের অনেকগুলো অর্জন ব্যথর্তায় পর্যবসিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা খাতের দুনীতির বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে তদারকি করে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে এবং সর্বোচছ শাস্তি প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি দুনীতির ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন জনগন দেখতে চায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে একান্ত সবিনয়ে প্রশ্ন করে জানতে চায়, মাননীয় নেত্রী আপনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি, সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক, জনাব ওবাইদুল কাদের সাহেব, আপনারা দু জনেই বিভিন্ন সভা সমাবেশে এবং মিডিয়াতে প্রায়ই বলে থাকেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরাই হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রাণ। তৃণমূলের নেতা কমীরা অভিমানী হয় কিন্তু তারা দলের সাথে বেঈমানী করে না। প্রিয় নেতৃবৃন্দ আপনাদের এই উক্তি গুলি শতভাগ সত্য। তাহলে আপনাদের নিকট আমার প্রশ্ন র্দীঘ এত বৎসর একটানা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তৃণমূল নেতা কর্মীদের জন্য কি করেছে! প্রশ্নের উত্তরে আপনারা বলবেন এজন্য তো স্থানীয় এমপি, উপজেলা, জেলা নেতৃবৃন্দ অাছেন! মাননীয় নেতৃবৃন্দ আপনাদের এই উত্তরগুলোর ও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দেয় তখনি যখন দেখা যায় তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মীর সাথে মাননীয় সাংসদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকে না। কারণ কি? কারণ পছন্দ-অপছন্দ, কারণ আর্দশগত, কারণ তোষামদি করতে না পারা, কারন নানাবিধ। ফলশ্রুতিতে তাদেরকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া অথবা demotion দিয়ে কমিটি তে রাখা যাতে করে তারা অার কোন মিছিল মিটিংএ অংশ গ্রহণ করতে না পারে। অথাৎ রাজনৈতিক ভাবে inactive করা এবং পরবর্তীতে এই in-active হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে কমিটি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া। আর আপনার তৃণমূলের সেই অভিমানী নেতাকর্মীরা সকল প্রতিকূলতার সাথে লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে এক সময় সত্যি সত্যি শারীরিক ও মানসিকভাবে inactive হয়ে যায়। দেখা যায় এভাবে অনেক প্রতিভাবান, সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাকর্মীর রাজনৈতিক ভাবে অপমৃত্যু হয়। এই হল সমগ্র বাংলাদেশের তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের ভাগ্য।

দুর্দিনে যারা অর্থ আর শ্রম দিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে শতবাধা বিপত্তি সহ্য করে দলকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছে। আজ তারা নিতান্ত অসহায় এবং একান্ত অবহেলার শিকার।পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যারা যুগ যুগ ধরে আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এর নেতাকর্মীদের উপর যুলুম অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে, আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের অনেকেই আজকে আওয়ামীলীগের বড়বড় নেতা। তাদের পরিধানে দিব্বি শোভা পাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গ বন্ধুর মুজিব কোট। এই হল সারা বাংলাদেশের তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হালচাল বা প্রকৃত অবস্থা।
এখানে মাননীয় নেতৃবৃন্দের নিকট আমার প্রশ্ন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর কেন বিভিন্ন দলের সুবিধাবাদী টাউট বাটপার, কালোবাজারি, ইয়াবা ও মাদক কারবারি দাগি সন্ত্রাসী লোকজনদের-কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ন্যায় একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলে যোগদান করানো হয়!
সরকার চালানোর জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লোকজনের কি এতই অভাব?
যেখানে সারা বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের হাজার হাজার নেতাকর্মী রয়েছে। তাহলে আসল ঘটনা গুলো কি?
আসল ঘটনা মনে হয় টাকার বিনিময়ে তাদের কে পদপদবি দেওয়া হয় এবং সমাজের অন্যায় কাজে তাদেরকে ব্যবহার করা হয়। নেতৃবৃন্দ তার কারণ হিসেবে আমি পর্যালোচনা করে যেটা অনুধাবন করেছি আর তা হচ্ছে টানা দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণ। আমরা তো চায় আওয়ামী লীগ যুগ যুগ ধরে ক্ষমতায় থাকুক। কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে কিছুসংখ্যক অর্থলোভী সুবিধাবাদী, টাউট শ্রেণীর নিকট দল জিম্মি হয়ে যায়। এধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আদো কি বেরিয়ে আসতে পারবে?
না এভাবেই তালি জোড়া দিয়ে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে টি এখন অনেকেরই প্রশ্ন!
প্রিয় নেত্রী আপনাকে এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সুবিধাবাদীদের হাত থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শে উজ্জীবিত সত্যি কারের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে আওয়ামীলীগকে ঢেলে সাজাতে হবে। এটা এখন সময়ের দাবি। ইতিমধ্যে কেন্দ্রসহ সমগ্র বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, আওয়ামী লীগের জাতীয় পর্যায়ের অনেক ডেডিকেটেড নেতা ও সাংসদ
মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দেশের স্বাধীনতার জন্য, দেশের উন্নয়নে, দলের জন্য, তাদের অবদান জাতি কখনো অস্বীকার করতে পারবে না, তাদের এই অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আজকের সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তার নিরাপত্তা নিয়ে আজকে বেশি চিন্তা করতে হবে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। কারণ সুবিধাবাদি ধান্দাবাজ মির্জাফর খন্দকার মুস্তাক দের সংখ্যা আমাদের দেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের থেকে দল এবং নেত্রীকে সাবধান থাকবে হবে। কারণ আমাদের আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক নেতা আছেন যারা টাকার বিনিময়ে পদ-পদবী জামাত শিবির বিএনপি এবং সন্ত্রাসীদের নিকট বিক্রি করে দে। তারই ফলশ্রুতিতে আজকে সারা বাংলাদেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত। সারা বাংলাদেশে investigation করলে দেখা যাবে যারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তাদের অনেকেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রার্থিতা কিনে নিয়েছেন এখানে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তার আরো একটি কারণ হতে পারে বর্তমানে বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদের 300 আসনের এমপি রয়েছেন। আমি সকলের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেই বলছি, আমার মনে হয় তাদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে রাজনীতির যে নীতি , আদর্শ ও উদ্দেশ্য, সে ব্যাপারে তারা ওয়াকিবহাল নন। তাই হয়ত সারা বাংলাদেশে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আজকের এই চরম দুরবস্থা। এজন্য বলতে চাই আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিয়ন থানা জেলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের আদর্শের সৈনিকদের কে কমিটিতে স্হান দিতে হবে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য আগে থেকেই দলের জন্য ত্যাগী আদর্শিক যোগ্যতাসম্পন্ন বিকল্প প্রার্থীদেরকে বাছাই করে রাখতে হবে। যাতে নির্বাচনের সময় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের ঝামেলায় পড়তে না হয়। কারণ মহান জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিগণ যদি আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের এবং এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাগবে একান্ত আন্তরিক ও নিবেদিত না হন তাহলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যার কোন দিন সমাধান হবে না।

প্রিয় নেত্রী আপনি সম্প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছেন কমিটিতে পদ পদবী দিতে হলে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখার জন্য কিন্তু এই দায়িত্বটা দেখপাল করবে কে? এই দায়িত্ব গুলো কাদের উপর বর্তায় বা এই দায়িত্ব গুলো যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব স্থানীয় লোকজনদের মন-মানসিকতা আদো আছে কিনা? সবশেষে বলতে চাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হচ্ছে এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন যেটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচাইতে পুরনো এবং সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। যে সংগঠনটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি কে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। আসুন জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বোচ্চ দেশপ্রেম নিয়ে যার যার অবস্থান থেকে দেশের ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। আলোকিত মানুষ সৃষ্টির জন্য সুশিক্ষিত জাতি গড়ে তুলি। দুর্নীতিকে না বলি, আসুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে রক্ষা করি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশবান্ধব দূষণমুক্ত সকলের জন্য বাসযোগ্য দুর্নীতিমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
খোদা হাফেজ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন আমীন।
……………………………………………………….
সৈয়দ নুরুল আবছার
সহ-সভাপতিঃ
বাংলাদেশ কৃষক লীগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।

Check Also

বঙ্গবন্ধুর মত দার্শনিক নেতা জন্ম হয়েছিল বলে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক – তসলিম উদ্দিন রানা

বঙ্গবন্ধুর মত দার্শনিক নেতা জন্ম হয়েছিল বলে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক –তসলিম উদ্দিন রানা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *