Breaking News
Home / জানা অজানা / প্রবাসীদের কষ্ট প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বোঝে না- জসীম ঊদ্দীন

প্রবাসীদের কষ্ট প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বোঝে না- জসীম ঊদ্দীন

প্রবাসীদের কষ্ট প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বোঝে না- জসীম ঊদ্দীন।

পরিবারের স্বচ্ছলতাসহ সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে নিজ মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে কাটাতে হয় প্রবাসজীবন। হয়তো একেই বলে এক ধরনের দেয়ালবিহীন কারাগার। প্রবাসে সবাই ব্যস্ত যে যার কাজে। সবার একই চিন্তা কীভাবে বেশি উপার্জন করা যায়। মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী-সন্তানদের মান অভিমান পূরণ করতে গিয়ে তারা ভুলে যান নিজের শখ।

‘ সত্যিই আমি দুখী পরবাসী। বলতে পারেন কষ্টবিলাসী। দেশে সবাই থাকার পরও প্রবাসে আমি একা বড়ই একাকিত্ব। হায়রে! জীবন।’

প্রবাসে কেউ কারো নয়, নিজেই নিজের আপন। প্রবাসীদের সব থেকে বড় সমস্যা হলো একাকিত্ব, আর এ কারণেই অনেক সময় অনেক ছোট সমস্যাগুলোও অনেক বেশি অস্থির ও যন্ত্রণা দেয়। আর প্রবাসীদের তার আপনজন বা প্রিয়জন কষ্ট দিলে সেটা সহ্য করার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলে। অনেকে একাকিত্বের কারণে আত্মহত্যাও করে। প্রবাসীরা তাদের আপনজন কত ভালবাসে সেটা শুধু সে নিজেই জানে।

প্রবাসীরা দুঃখ বিলাসী হবার কোনো অবকাশ নেই কারণ আমরা তো একটু সুখের আশায় পাড়ি দিয়েছি অজানার দেশে। আমাদের দুটি চোখ এক চিলতে সুখ দেখার জন্য অপলকে চেয়ে আছে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর। দুঃখ নিয়ে বিলাসীতা করার সুযোগ আমাদের নেই।

সবকিছু তো লিখে বোঝানো সম্ভব নয়, অনুভবে আমাদের কষ্ট বোঝা যাবে।

প্রবাসী নিঃসঙ্গ জীবনে সুখ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। সুখ খুঁজতে গিয়ে অবশিষ্ট সুখটুকু আমরা হারিয়ে ফেলেছি।’

হাজারে একজনের ভাগ্যে যদি সুখ থাকে ৯৯৯ জন বুকভরা হাহাকার নিয়ে এই প্রবাসে ধুকে ধুকে মরছে,

সত্যি কথা বলতে কি, প্রবাসীর কষ্ট প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বোঝে না। অনুমান করে সব কষ্ট বোঝা যায় না। অনুমান করে যদি প্রবাসীদের কষ্ট বোঝা যেত তাহলে এই লেখার প্রয়োজন হত না। আমি এসব কেন লিখছি? কেন প্রবাসীদের প্রতি আমার এই দুর্বলতা? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো আমি তাদের একজন।

প্রবাসীরা ভালো থাকুক। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সেই আমাদের অর্থনীতির চাকা হয় বেগবান। আমরা সমৃদ্ধির পথে এগোচ্ছি। সম্মান করা উচিত সব প্রবাসী ভাইদের। আর কোনো প্রবাসী ভাই যেন দুঃশ্চিন্তা করে বিদেশের মাটিতে প্রাণ না হারায়!আমার অভিজ্ঞতা দেখা প্রবাসীদের কান্নার জীবন
যে ছেলেটি দেশে ৩৩ ডিগ্রি গরমে জন্য ঘর থেকে বাহির হয়নি সে ছেলে মধ্যপ্রাচ্য ৪৪ ডিগ্রি গরমে হাড় ভাঁঙা পরিশ্রম করে শুধু মাত্র স্বপ্নে শহরের সোনার হরিণে পিছনে দৌড়তে গিয়ে আজ ছেলেটি কোমলমতি হাতটা লক্ষ্য করুন।
প্রবাসীদের পরিবারকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় আপনার ছেলে; স্বামী; বা ভাই প্রবাসে কি করে? উত্তর আসবে, বিদেশে থাকে কিন্তু কি কাজ করে জানি না। কিংবা অত কিছু জানতেও চায় না অনেকেই। এ কথাটাই অপ্রিয় সত্য। পরিবারের সদস্যরা কিংবা আত্মীয়স্বজন মনে করেন বিদেশ মানেই রোপন করা টাকার গাছ যা ঝাঁকি দিলেই কেবল টাকা আর টাকা। কোন প্রবাসী যদি ঘরে টাকা কম দেয় পরিবারের সদস্যরা ধরে নেয় যে, তাদের ছেলে টাকা জমা করছে বা উচ্ছন্নে গেছে। আর যদি বিবাহিত হয় তাহলে তো কথাই নেই। সবাই এক বাক্যে বিশ্বাস করে ছেলে যা কামাই করছে সব শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে। কিন্তু আসলে যে তার বেতন কত; কোথায় থাকে; কিভাবে থাকে; কি খাচ্ছে; কি কাজ করে; যা আয় করে তা হালাল না কি হারাম তা জানার কোন প্রয়োজন মনে করে না। শুধুমাত্র মাস শেষে টাকা পেলেই হয়। প্রবাসীরা যে কতটা অবহেলিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। খুব কম প্রবাসী আছে যারা পরিবারের সমর্থন পেয়ে থাকবে। গড়ে প্রতিদিন ৫৫-৬২ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে যায়। যাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখানো হয় হঠাৎ_মৃত্যু বা স্ট্রোক। যার জন্য দায়ী মানসিক চাপ, তাই, প্রবাসীদের পরিবারের প্রতি অনুরোধ রইল যে আপনার ঘরের প্রবাসী সন্তানকে #মানসিক_চাপ থেকে দুরে রাখতে চেষ্টা করুন।

Check Also

সম্পাদকীয়ঃ বঙ্গবন্ধুর শেষ গোসল ও দাফন!

বঙ্গবন্ধুর শেষ গোসল ও দাফন! সম্পাদকীয়ঃ বঙ্গবন্ধুর গায়ে ১৮টি গুলি লেগেছিল তবে মুখে কোন গুলি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *