Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / বঙ্গবন্ধুর মত দার্শনিক নেতা জন্ম হয়েছিল বলে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক – তসলিম উদ্দিন রানা

বঙ্গবন্ধুর মত দার্শনিক নেতা জন্ম হয়েছিল বলে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক – তসলিম উদ্দিন রানা

বঙ্গবন্ধুর মত দার্শনিক নেতা জন্ম হয়েছিল বলে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক –
তসলিম উদ্দিন রানা

১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌল্লাকে পরাজিত করে ইংরেজ বাহিনী ক্ষমতা দখল করে নেয়।নবাবকে পরাজিত করার পিছনে ঘসেটি বেগম,মীর জাফর,রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ সহ অনেকে বেঈমানী করার কারণে পরাজিত হয়।যা বাংলার মাঠিতে ঘনঘটা স্বাধীনতা স্তম্ভিত হয়ে যায় আর বাঙালীর জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। যার জন্য এ বাঙালী জাতিকে প্রায় ২০০ বছরের অধিক লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়।
বাঙালীর এ স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে অনেকে আত্বহুতি দিয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।বীর চট্রলার মাষ্টার দা সূর্য সেন,প্রীতি লতা ওয়াদ্দার,মনিরুজ্জামান ইসলামবাদী থেকে শুরু করে অনেকে লড়াই সংগ্রাম করে গেছে কিন্তু স্বাধীনতা আসেনি। হাজী শরিয়ত উল্লাহ,টিপু সুলতান,পন্ডিত কানু শাহ সহ অনেকে লড়াই সংগ্রাম করেছে তবু্ও স্বাধীনতা আসেনি। তারপরে বাংলার বাঘ খ্যাত শেরেবাংলা একে ফজলুল হক,নবাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,আতাউর রহমান খান,শামসুল হক,মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কাবাগীস সহ অনেক জাদরেল নেতারা লড়াই সংগ্রাম করে গেছে তবুও বাংলার জীবনে সেই স্বাধীনতা আসেনি।
বাংলাদেশে গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা এক শিশু যখন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তার এলাকায় স্কুল পরিদর্শন করতে যায় তখন স্কুলের সংস্কার নিয়ে তাদের সামনে যে বালকটি দাঁড়িয়ে কথা বলে অসম্ভব সাহসী,দুরদর্শিতা,
মেধাবী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।সেদিন নেতারা তার সাহস ও দুরদর্শিতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে যায়।নেতাদের সান্নিধ্যে পেয়ে নেতা হিসেবে আবিভূত হন সে আর কেউ নয় পরবর্তীতে দেশের স্বাধীনতার মহানায়ক হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্ট ইংরেজ বাহিনীকে হটিয়ে উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়।আর আমাদেরকে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসাবে পাকিস্তানের সাথে দেওয়া যার নাম ছিল পুর্ব পাকিস্তান। শুধু ধর্মের মিল ছাড়া আর কোন মিল ছিল না।যা পরবর্তীতে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।এছাড়া পাকিস্তান সৃষ্টির আগে লাহোর প্রস্তাব দেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক যাতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ (কলকাতা সহ) নিয়ে রাষ্ট্র গঠন করার জন্য কিন্তু তা না মেনে শুধু দুটো রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান নামক দেশ হয়।

শিক্ষা,সাংস্কৃতি,ভাষাগত মিল ছিলনা পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কিন্তু শুধু ধর্মের মিল ছিল। তাছাড়া তাদের সাথে আমাদের প্রায় ১২০০ মাইল দুরত্ত্ব যা অনেক দুরে।আমাদের সামনে পিছনে চারদিকে ভারত।
পাকিস্তান নামক দেশটি আমাদেরকে সবকিছুতে বৈষম্য করে রাখে।সবকিছু তারা ভালো জায়গায় রাখবে আর আমাদেরকে সামান্য দিয়ে দেশ চালাতে চাই। এমনি সময় ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দল জন্মলাভ করে।যার প্রথম সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বাচিত করে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পাকিস্তান নামক দেশ ১৯৫২ সালে প্রথমে ভাষা নিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন।তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম প্রতিবাদ শুরু করে।আর তা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে।সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ বেশকয়েকজন নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারী ভাষার দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। সে সময় বাংলার সালাম,বরকত, রফিক, সফিউর,জব্বার সহ অনেকের তাজা প্রান দিয়ে যায় যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজির স্থাপন করে যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।
পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরংকুশ জয়লাভ করে ক্ষমতা লাভ করে আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রী লাভ করেন।কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছয় মাস যেতে না যেতে সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখল করে নেয়। সেই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে বাঙালীরা আরো বেশি এগিয়ে যেতে শুরু করে।পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের শাসন শুরু হয়।
আইয়ুব খানের কড়া সামরিক শাসন সবার মনে আছে।তিনি এমন এক ব্যক্তি যার কথা শুধু পাকিস্তান নয় সারা বিশ্বে আলোচিত।তার নাম শুনলে ভয়ে কেউ সাহস করে কথা বলত না।সে আইয়ুব,ইয়াহিয়া, টিক্কা খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে কাজ করেছে হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬২ সালের আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলন করে জয়লাভ করেন।তারপর ১৯৬৬ সালে ৬ দফার আন্দোলন করে যা বাঙালী জাতির ইতিহাসে মুক্তির সনদ নামে পরিচিত। ৬দফার আন্দোলন করতে গিয়ে নিজের অনেকে লোক বিরোধিতা করেছিল কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার ৬দফার ব্যাপারে অনড় ছিলেন আর তিনি সফল হয়েছিলেন।যে জন্য ৬ দফা দিয়ে যা পরবর্তীতে ১দফার আন্দোলনে রুপ নেয় দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
১৯৭০ সালে নির্বাচনে দেন পাকিস্তান সরকার।সে সময় দেশে বন্যা হয়েছিল যা আমাদের ফসল,ধান সহ বিভিন্ন ফলাদি নষ্ট হয়ে যায় সেজন্য বঙ্গবন্ধু নির্বাচন পেছনের দাবী জানাই পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনে কিন্তু তারা তার কথা গুরুত্ব দেয়নি।তবুও বঙ্গবন্ধু সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।যখন সরকার গঠনের পালা আসল তখনই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা টালবাহানা করে সময় পার করে যায় কিন্তু ক্ষমতা বুজিয়ে দেয়নি।তখন আওয়ামী লীগের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতা পাওয়ার কথা কিন্তু তা না করে পাকিস্তানের পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলি খান ভুট্রাকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য কারসাজি করে।ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধুর সাথে বৈঠক করে ক্ষমতা বুঝে দেওয়ার কথা বলে পাকিস্তানে চলে যান সেখানে গিয়ে তিনি জুলফিকার আলি ভুট্টাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিলেন যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে তথা আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১সালে ৭মার্চ স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।যেটি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ভাষনের পরিনত হয় যা বাঙালীর জন্য গর্ব।তিনি বলেন – এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। একথা বলে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি জানত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাকে বন্দী করে নিয়ে যাবে তাই তিনি এভাষনে ইঙ্গিত করে যাই-
আমিও যদি আসতে নাপারি তোমরা যার যা কিছু আছে তা দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করবে।
এ ভাষণটিতে সব কিছু তিনি বলে যান।যার জন্য এটি ইতিহাসের অংশ আর বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের মহানায়ক।
বঙ্গবন্ধু ১৯৬৮ সালে ১৯ জুন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন।ছাত্র আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দিতে বাধ্য হন।সব আসামীর মুক্তি লাভ করেন।
১৯৬৯ সালে গনঅভুখানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে তুমুল আন্দোলনে মুখে আইয়ুব খানের পতন হয় পরে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা দখল করেন।ছাত্ররা ১১দফা আর বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের তীব্র গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় আইয়ুবের পতন ত্বরান্বিত হয়।১৯৬৯ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হওয়ার পর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে গণসংবর্ধনা দেয় ও বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।সেদিন প্রায় ৫ লক্ষ ছাত্র- জনতা উপস্থিতি ছিলেন যা ইতিহাসের অংশ।
১৯৭১ সালে ২৪ মার্চ ইয়াহিয়া ঢাকায় বৈঠক করেন আর অন্যদিকে পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী নিয়ে আসেন ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালীর উপর ঘুমন্ত মানুষের উপর অমানুবিক নির্যাতন করেন,গনহত্যা শুরু করে দেন যা ভাষায় বলা যাবে না। আর অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাত ১.৩০ টায় ধানমণ্ডি ৩২ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান।২৬ মার্চ করাচি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।আর বাঙালীর উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।ঢাকা,চট্রগ্রাম, রাজশাহী,খুলনায় লাশ আর লাশ।মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। পাকিস্তানিরা মা-বোনের উপর ইজ্জত সম্মান নষ্ট করে যাচ্ছে। ঢাকা,চট্রগ্রাম লাশ আর লাশ।মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধে করতে শুরু করেন।অনেকে শহীদ হন আর অনেকে যুদ্ধে করতে করতে নিষ্প্রাণ হয়ে যাচ্ছে।বঙ্গবন্ধুর আহবানে সবাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে। প্রায় ৯ মাস যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা লাভ করেন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
১৯৭১ সালে ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি,তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী আর ক্যাপ্টেন মনসুর আলী,এ এইচ কামরুজ্জামানকে মন্ত্রী করে বাংলাদেশের ১ম সরকার গঠন করা হয় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর বৈদন্যতলায় বর্তমান মুজিবনগর।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে সংগঠিত করতে বঙ্গবন্ধু নেমে পড়েন।সারা দেশের অপুরনীয় ক্ষতি আর চারদিকে যে অবস্থা তা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি সোনার বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যান।বিশ্বের সম্প্রীতি সাধনে সবার সাথে সম্পর্ক কারো সাথে বৈরিতা নয় এটাই ছিল তার নীতি।বিশ্বের সব নেতারা বঙ্গবন্ধু কে সমীহ করত এমনকি বিশ্বনেতা ফ্রিদেল কাস্ত্রো বলেন – আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি।
সত্যি বঙ্গবন্ধু নেতাদের নেতা ছিলেন। তার সমকক্ষ সকল নেতারা তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কথা বলত।ফিলিস্তানের ইয়াসির আরাফাত,ইরাকের সাদ্দাম হোসেন,যুগ্লোলাসলাভিয়ার মার্শাল টিটু,লিভিয়ার মোয়াম্মর গাদ্দাফী,সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল,ভারতের ইন্দ্রিরা গান্ধী,মিশরের আনোয়ার সাদাত ও ফিদেল কাস্ত্রোর মত নেতারা বঙ্গবন্ধুকে সমীহ করে কথা বলত।এমনকি তার প্রতি শ্রদ্ধা করত।তারা বঙ্গবন্ধুকে একজন আদর্শিক,সাহসী,প্রাজ্ঞ,মেধাবী ও বীর হিসাবে সম্মান করত।তাদের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু একজন মহান নেতা ও জাতির দিশারী।
জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু তার মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখেন যা ইতিহাসে বিরল।
সত্যি কথা বলতে তিনি কাউকে ছাড় দিতেন না।মানুষের তিনি বাঙালির প্রতিটি মানুষকে আপন মনে করতেন।প্রতিটি বীরঙ্গনা মহিলাদের বলেছেন – তোমাদের যাদের বাড়ির ঠিকানা নাই সবাই আমার ৩২ নাম্বার ধানমন্ডি লিখে দিবেন আর যাদের পিতার পরিচয় নাই তারা আমার নাম লিখে দিবেন।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালী জাতির আস্থার প্রতীক।দেশের মানুষকে অসম্ভব ভালবাসত।মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল। দুঃখী মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে যাওয়া হল বঙ্গবন্ধুর আসল কাজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চারদিকে বিভিন্ন রকমের অসংগতি ও সমস্যায় জর্জরিত ছিল।সব কিছু ঠিক করা একটি নতুন স্বাধীন দেশ গঠন ছিল অনেক দুরুহ কাজ।বঙ্গবন্ধু সেই সদ্যজাত স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে যে অদুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সুন্দর করে দেশ পরিচালনা করেছে।বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতাদের সামনে বঙ্গবন্ধু ছিল নেতাদের নেতা।সব নেতারা বঙ্গবন্ধুকে সমীহ করত।তিনি বিশ্বের দার্শনিক নেতা ছিলেন বলে আমরা আজ বাংলাদেশ পেয়েছি।তার মতআদর্শিক,
দার্শনিক নেতা এদেশ এদেশের নয় বিশ্বের সম্পদ।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট এদেশের কিছু উচ্ছৃংখল সেনাবাহিনী ও ততকালীন মন্ত্রী খন্দকার মোস্তাক মিলে হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম হত্যার মাধ্যমে পৃথিবীর কলংকজনক অধ্যায় রচিত করে।যা ইতিহাসের বিরল ঘটনা। বিশ্বে কোথাও এমন ঘটনা নাই।যে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের মুল্যবান সময় জেলখানায় ও আন্দোলন সংগ্রামের করে পার করে দিয়েছে তা ইতিহাসের মহানায়ক রুপে বাঙালীর অন্তরে বিরাজমান।আজও বাঙালী কাদে তার পিতার জন্য। এদেশের প্রতিটি মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি জীবিতের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী রুপে মহীয়ান।

লেখক – সাবেক ছাত্রনেতা ও কলাম লেখক

Check Also

করোনা কালে সমাজের অমানবিকতা এবং মধ্যবিত্তের আহাজারি- মোঃ নাজমুল ইসলাম পিন্টু

করোনা কালে সমাজের অমানবিকতা এবং মধ্যবিত্তের আহাজারি- মোঃ নাজমুল ইসলাম পিন্টু করোনা নামের অপরিচিত যুদ্ধে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *