Breaking News
Home / জাতীয় / ভাষা সৈনিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী’র ১৩ তম মৃত্যবার্ষিকী।

ভাষা সৈনিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী’র ১৩ তম মৃত্যবার্ষিকী।

ভাষা সৈনিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী’র ১৩ তম মৃত্যবার্ষিকী।

এম এইচ সোহেলঃ
পৃথিবীতে কিছু মানুষকে আল্লাহ রব্বুল আলামীন পাঠিয়েছে দেশের জন্য, সমাজের জন্য, নিভৃতে কাজ করার জন্য তাদেরি একজন মরহুম ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী। ১৯৩২
সালে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জমিদার পরিবার নাজির বাড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। তাঁ পিতা ওহিদুল আলম চৌধুরী ও মাতার নাম নাম সুলতানা বেগম। মরহুম জমিদার ফয়েজ আলী চৌধুরীর তাঁর পিতামহ।মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী র সহধর্মীনী লুৎফা বেগম সুরাইয়া চৌধুরী । তাঁর তিন পুত্র ও তিন কন্যা স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী ছাত্রঅবস্থায় ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যান । ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের ১৫ দিনের মাথায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন” তমুদ্দন মজলিশ ” গঠিত হয়।ভাষা আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল তমুদ্দুন মজলিশ। ১৯৪৮ সালে ” তমুদ্দুন মজলিশ” চট্টগ্রামের কৈবল্যধাম পাহাড়ে কেন্দ্রীয় ক্যাম্পের আয়োজন করেন। সেই ক্যাম্প সম্পর্কে প্রফেসর শাহেদ আলী মন্তব্য করেন ” একজন তরুনের বক্তব্যে আগুন ঝরছিলো,দেশ – মাটি – ইতিহাস সম্পর্কে এত অগাধ জ্ঞান, সেই তরুনটি হলো বদিউল আলম চৌধুরী “।১৯৪৮ সালের ১৪ ই নভেম্বর “সাপ্তাহিক সৈনিক ” তমুদ্দুন মজলিশের মুখপাত্র হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তাঁরাই প্রথম দাবী করেন”পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু না বাংলা”? যা ব্যাপক সাড়া ফেলে সারা দেশে। জমিদারের নাতি বদিউল আলম চৌধুরী পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাইকেল নিয়ে ঘরে ঘরে” সাপ্তাহিক সৈনিক ” পএিকা পৌঁছে দিয়েছিলেন। রাতের অন্ধকারে দেয়ালে, দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়েছেন তিনি সহ তমুদ্দুন মজলিশের কর্মিরা। এলাকায় এলাকায় জনগনকে ১৯৫২ সালে ২১ শে ফেব্রয়ারী যখন ঢাকার বুকে গুলিরচালানো হলে, এ সংবাদ ২২ শে ফেব্রয়ারী যখন চট্টগ্রাম রএসে পৌঁছালে চট্টগ্রামের লালদিঘি র মদানে তৎক্ষনাৎ মিটিং এর আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা ছিলেন মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী । সেই মিটিং এ চট্টগ্রামে র নারীরা ও অংশগ্রহন করেন। তাদের আনার দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর। ডাঃ খাস্তগীর স্কুলের বোনদের ট্রাকে করে মিটিং এ উদ্বুদ্ধ করে আনেন তিনি। লালদিঘি র মিটিং এর স্মৃতি চারন করতে যেয়ে ” কাঁদতে আসিনি,ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি ” কালজয়ী কবিতার লেখক ” একুশের খন্ড স্মৃতি” র এক জায়গায় বলেছেন – “ভাসা আন্দোলনের প্রথমদিকে আমাদের সঙ্গে অগ্রভাগে চলে আসেন চট্টগ্রামের তমুদ্দুন মজলিশের নেতা কর্মিরা”- (দৈনিক ডেসটিনি ৯ ই জুন ২০০৭). ভাষা সৈনিক আবদুল গফুর সাহেব লিখেন” ‘ উনিশ’শ আট আটচল্লিশ কি উনপঞ্চাশ সালের কথা, তমুদ্দন মজলিশের প্রথম ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম শহরের কাট্টলীর কাছে কৈবল্য ধামে, সে ক্যাম্পে বদিউল আলম চৌধুরী যোগ দিয়েছিলো। এক পর্যায়ে সে তমুদ্দন মজলিশের নিবেদিত প্রাণ কর্মী হয়ে ওঠে”। ( স্মৃতির দর্পনে বদিউল আলম চৌধুরী)। উদ্বুদ্ধ করেছেন।১৯৫২ সালে ২১ শে ফেব্রয়ারী যখন ঢাকার বুকে গুলিরচালানো হলে, এ সংবাদ ২২ শে ফেব্রয়ারী যখন চট্টগ্রাম রএসে পৌঁছালে চট্টগ্রামের লালদিঘি র মদানে তৎক্ষনাৎ মিটিং এর আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা ছিলেন মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী । সেই মিটিং এ চট্টগ্রামে র নারীরা ও অংশগ্রহন করেন। তাদের আনার দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর। ডাঃ খাস্তগীর স্কুলের বোনদের ট্রাকে করে মিটিং এ উদ্বুদ্ধ করে আনেন তিনি। লালদিঘি র মিটিং এর স্মৃতি চারন করতে যেয়ে ” কাঁদতে আসিনি,ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি ” কালজয়ী কবিতার লেখক ” একুশের খন্ড স্মৃতি” র এক জায়গায় বলেছেন – “ভাসা আন্দোলনের প্রথমদিকে আমাদের সঙ্গে অগ্রভাগে চলে আসেন চট্টগ্রামে র তমুদ্দুন মজলিশের নেতা কর্মিরা”- (দৈনিক ডেসটিনি ৯ ই জুন ২০০৭). ভাষা সৈনিক আবদুল গফুর সাহেব লিখেন” ‘ উনিশ’শ আট আটচল্লিশ কি উনপঞ্চাশ সালের কথা, তমুদ্দন মজলিশের প্রথম ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম শহরের কাট্টলীর কাছে কৈবল্য ধামে, সে ক্যাম্পে বদিউল আলম চৌধুরী যোগ দিয়েছিলো। এক পর্যায়ে সে তমুদ্দন মজলিশের নিবেদিত প্রাণ কর্মী হয়ে ওঠে”। ( স্মৃতির দর্পনে বদিউল আলম চৌধুরী)।কবি ও অনুবাদক জহুর – উশ – শহীদ লিখেন-” ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে র কর্মি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে র আরো ১৮ জন ভাষা সৈনিকের সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন”। মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন । এ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে ডাঃ মাহফুজুর রহমান লেখেন- চট্টগ্রামের খেলাফতে রব্বানী পার্টি টি ইসলাম পন্হি হলে ও এ দলের এক অংশ বদিউল আলম চৌধুরী , হারুনুর রশীদ চৌধুরী , আজিজুর রহমান চৌধুরী প্রমুখের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে।( বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম – মার্চ ১৯৯৩)।১৯৬৯ সালের গণ অভুত্থান চলাকালীন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে খেলাফত রব্বানী পার্টির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে গণমিছিলে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করে। ( দৈনিক আজাদী ১৫ ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯) ১৯৬৯ সালের গণ অভুত্থানে ডাঃ সামসুজ্জোহা নিহত হওয়ার পর, শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল রাজবন্দী র মুক্তি দাবী করেন খেলাফতে রব্বানী পার্টির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম চৌধুরী। ( দৈনিক আজাদী ২০ শে১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ প্রদান করেন। তার পরদিন চট্টগ্রাম থেকে মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী “স্বাধীন নয়াবাংলা” শ্লোগান নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। তিনি নগরীর আন্দরকিল্লা পুলিশ বিটে বক্তব্য রাখেন এবং স্বাধীনতার পক্ষে মিছিলে নেতৃত্ব দান করেন। এ সম্পর্কে স্মৃতি চারন করতে গিয়ে কবি ও অনুবাদক জহুর – উর – শহীদ লেখেন “তিনি আন্দরকিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সম্মুখে পুলিশ বিটের উপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং নেতৃত্ব দেন “। ফেব্রয়ারী, ১৯৬৯)।১৯৭৬ সালে ডেমোক্রেটিক লীগ গঠিত হলে তিনি ঐ দলের সিনিয়র সহ- সম্পাদক মনোনিত হন। চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

১৯৭৮ সালে সম্মিলিত বিরোধী দলের গণফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর দলে যোগদানে অনুরোধ করেন। সামরিক শাসক হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের তিনি মন্ত্রীত্বের টোপ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ঘৃণা ভরে কলামিস্ট সাখাওয়াত হোসেন মজনু এ সম্পর্কে বলেন” আমি দৈনিক আজাদী র সম্পাদক জনাব খালেদ সাহেব থেকে শুনেছি,খালেদ সাহেব ও মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী সাহেবকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং তাদের কে জাতীয় পার্টিতে যোগ দান করলে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়, আমরা দু’জন ই তা ঘৃণা ভরে ফিরিয়ে দিয়েছি”। মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী কে কোন দিন লোভ লালসা গ্রাস করে নি। মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী জমিয়াতুল ফালাহ্ র ৫ জন প্রতিষ্ঠাতার একজন, তিনি ২ বার বোর্ড অব গভনর্সের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি’র সাথে ১৯৬৪ সাল থেকে জড়িত। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছিলো। তিনি মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে শাহী জামে মসজিদ ও মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি’র সাথে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। তিনি তমুদ্দুন মজলিশ চট্টগ্রাম াখার সহ- সভাপতি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের ১ম সহ সাধারন সম্পাদক , কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সর্বশেষ সহ- সভাপতি, নুরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, সেন্ট প্ল্যাসিডস হাই স্কুল,এম.ই.এস স্কুল, চট্টগ্রাম চাঁদ দেখা কমিটি, চট্টগ্রাম সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক , হয়রত মঈনুদ্দিন শাহ্ (রাঃ) মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি,সুলতান বায়েজিদ বোস্তামী মসজিদ কমিটির কার্যকরী পরিষতের সদস্য, প্রিন্সিপ্যাল আবুল কাসেম স্মৃতি পরিষদের সহ- সহাপতি ছিলেন। এ সমাজদরদী মানুষটি ২০০৭ সালের ১০ ই অক্টোবর ২৭ শে রমজান ইন্তেকাল করেন।

Check Also

হাওরবাসীর স্বপ্নের ‘আবুরা সড়ক’ উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

হাওরবাসীর স্বপ্নের ‘আবুরা সড়ক’ উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । মোহাম্মদ আনিছুর রহমান ফরহাদ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *