1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
এবছর পোড়ানো হবে ৫ কোটি ৮ লক্ষ কেজি বনের কাঠ লামায় যেদিকে চোখ যায় শুধু তামাক ক্ষেত - DeshBarta
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পটিয়ায় সমাজসেবক নিপুর চৌধুরীর উদ্যোগে হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ পটিয়ায় মহিরা গ্রামের তরুন সমাজকর্মী জুয়েল সরকার এর অকাল মৃত্যুতে শোকসভা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ সেলিমের মাতা’র ইন্তেকাল প্রেমের টানে কিশোর কিশোরী পালানোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে. সংসারের হাল ধরতে অটোরিকশা চালায় শিশু জিসান সিএসটিআই ক্যাম্পাসে চপই, বিকেটিটিসি ও এমটিটিসি শিক্ষক মন্ডলীগনের অংশগ্রহনে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন এক্সল প্রপার্টি লিমিটেড ও এসএসসি ৯৪ ব্যাচ এর মধ্যে আবাসন খাতে যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর। ইউনিয়ন অফ এসএসসি ৯৪ বাংলাদেশ গ্রুপের হাঁস পার্টি আয়োজন ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হচ্ছে দুই মেগাপ্রকল্পের কাজ বলিউডে অভিষেকের আগেই নতুন প্রস্তাব শেহনাজকে

এবছর পোড়ানো হবে ৫ কোটি ৮ লক্ষ কেজি বনের কাঠ লামায় যেদিকে চোখ যায় শুধু তামাক ক্ষেত

  • সময় বুধবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৯ পঠিত

বান্দরবানের ‘লামা উপজেলা’ তামাক চাষের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ৩২ বছর ধরে তামাক চাষ হয়ে আসছে লামা উপজেলা সব কয়টি ইউনিয়নে। পৃষ্টপোষকতা ও বিক্রয়ের নিশ্চয়তা থাকায় দিনে দিনে তামাকের আগ্রাসন বেড়েই চলেছে। জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল, আবুল খায়ের ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ ও আকিজ ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড অত্র জনপদে তামাক চাষ বিস্তারে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছে। বেশ কয়েকজন তামাক চাষী, কোম্পানি প্রতিনিধি ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে আবুল খায়ের টোব্যাকো কমপক্ষে ৭শত কৃষকের মধ্যে ১৬৮০ একর, জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল প্রায় ১ হাজার জন কৃষকের মধ্যে ২৪০০ একর, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন কৃষকের মধ্যে ৩৪০০ একর, আকিজ ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড প্রায় ৩০০ কৃষকের মধ্যে কমপক্ষে ৭২০ একর জমিতে তামাক চাষ করেছে। এছাড়াও তামাক কোম্পানিগুলোর রেজিস্ট্রেশন বহির্ভূত তামাক চাষির সংখ্যাও প্রায় ছয় শতাধিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরাও প্রায় ৮০০ একর জমিতে এবার তামাক চাষ করবে। সবমিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার একর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে।

তামাক কোম্পানিগুলো তাদের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত প্রায় তিন হাজার ৫শত চাষীকে ইতিমধ্যে বীজ, পলিথিন, কীটনাশক, সার ও ঋণ প্রদান করেছে। আর কৃষকরা তাদের ফসলি জমি, স্কুলের আঙ্গিনা ও আশপাশ, মাতামুহুরী নদীর চর সহ খাল-ঝিরির দুই ধারসহ বিভিন্ন স্থানের জমিতে তামাক চাষ করেছে। এ তামাক চাষের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট, কৃষকদের স্বাস্থ্যহানি, নদী-খালের দু’পাড়ের ভাঙ্গন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান পরিবেশবাদীরা। ক্ষতিকর তামাক চাষে কৃষকদের স্বাস্থ্যহানি ও ঝুঁকিরোধে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) ছাড়া অন্য কোন তামাক কোম্পানি সুরক্ষার সরঞ্জাম প্রদান করতে দেখা যায়নি। এছাড়া বিএটিবি কৃষকদের কম শ্রমে অধিক লাভবান ও সময় বাঁচাতে নতুন নতুন কৃষি সরঞ্জাম (ইন্টারকাল্টিভেটর, রিজ মেকার, রোটাভেটর, মিনি পাওয়ার টিলার) সংযোজন করেছেন। বিএটিবি লামা পৌরসভার লামামুখ এলাকার কৃষক মোঃ মালু মিয়া বলেন, অন্যান্য তামাক কোম্পানি চেয়েও এই কোম্পানি চাষীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও লাভের বিষয়টি খেয়াল রাখে।
কৃষি অফিসের হিসাব মতে, গত মৌসুমে প্রায় ৭১০ হেক্টর ও চলতি মৌসুমে কোম্পানিগুলো উপজেলায় ৮০০ হেক্টর অর্থাৎ ১ হাজার ৯৭৬ একর জমিতে তামাক চাষ করেছে। তবে কৃষি অফিসের পরিসংখ্যানটি সঠিক নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর কোম্পানিগুলোও রেজিস্ট্রেশনকৃত চাষির সংখ্যা ও জমির পরিমাণ কত তা কৌশলগত কারণে তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ সরকার ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ইক্ষু, তুলা, পেঁপে, ভুট্টা ও সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধকরণের ফলে প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক তামাক চাষ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পৃষ্টপোষকতা, বিক্রয়ের নিশ্চয়তা ও বিকল্প কিছু পেলে চাষিরা এ চাষ ছাড়বেন বলে জানান তারা।
পৌরসভার সাবেক বিলছড়ি, ছাগলখাইয়া, হরিণঝিরি, কলিঙ্গাবিল, সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা, মাতামুহুরী নদীর রাজবাড়ী পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থান সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, বাড়ি আঙ্গিনা থেকে শুরু করে সর্বত্রই তামাক চাষ করা হয়েছে। উপজেলা প্রতিটি বড় বিল, নদী-খাল-ঝিরির পাড় সহ আবাদী অধিকাংশ জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় শুধু তামাক চাষ। নদী-খালের ৫০ ফুটের মধ্যে তামাক চাষে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে নদীর দু’পাড়ে তামাক চাষ করছে কৃষকরা। এক্ষেত্রে বিএটিবি এর চাষীরা আইনটি মেনে চললেও অন্য কোম্পানীর চাষীরা তা মানছেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে সরকারি নিজস্ব জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। সরকার তামাক চাষের বিরোধীতা করছে কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার কারণে চাষীরা তামাক চাষের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। বেপরোয়া তামাক চাষের ফলে পরিবেশ ও সমাজের নানা ক্ষতি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি ও নেশাগ্রস্থতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তারপরেও সরকারি জমিতে ও বন বিভাগের রিজার্ভ এলাকায় কিভাবে তামাক চাষ আবাদ হয় তা আমাদের কারো বোধগম্য নয়।
লামা পৌরসভার রাজবাড়ি গ্রামের সবজি চাষি সুলতান মিয়া, শাহ জাহান মিয়া সহ আরও অনেকে জানান, তামাক চাষীদের অগ্রিম লাগিয়তের কারণে সবজি চাষের জন্য জমি পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও মূল্য বেশি হওয়ায় অনেক সময় জমি লাগিয়ত নেয়া সম্ভব হয় না। তবে তামাক চাষ নিয়ে চাষীদের গল্প ভিন্ন। তারা বলেন, আমরা তামাক চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছি। এই বিষয়ে জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল এর লামা ডিপো ম্যানাজার খগেন্দ্র চন্দ্র দাশ বলেন, তামাক চাষ বিষয়ে কোন তথ্য আমরা দিতে পারবোনা। আপনারা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন।
এদিকে অর্ধশত তামাক চাষীদের উপর জরিপ চালিয়ে জানা যায়, ৪ কানি তথা ১৬০ শতক তামাক জমির তামাক পুড়ানো জন্য ১টি তামাকচুল্লী প্রয়োজন হয়। প্রতি কানি ২ লোড (তামাক প্রক্রিয়া জাত) করে ৪ কানি জমি হতে উৎপাদিত তামাকে প্রায় ৮টি লোড হয়। প্রতি লোড তামাক পুড়াতে ৬দিন সময় লাগে আর ৩০ থেকে ৩৩ মণ লাকড়ি প্রয়োজন হয়। এতে করে ৮টি লোডের মাধ্যমে ৪ কানি জমির তামাক পুড়াতে ১টি তামাকচুল্লীতে এক মৌসুমে ২৪০ মণ ৯৬০০ কেজি লাকড়ি লাগে। উপজেলার ৫ হাজার ৩শত তামাকচুল্লীতে এক মৌসুমে ১২ লক্ষ ৭২ হাজার মণ বা ৫ কোটি ৮ লক্ষ ৮০ হাজার কেজি বনের লাকড়ি প্রয়োজন হয়। যাতে করে বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে।
মরণ চাষ তামাক নিয়ে লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন বলেন, যেভাবে তামাক চাষের আবাদ বাড়ছে তা যথারীতি অত্র জনপদের জন্য হুমকি স্বরুপ। ধান ও শস্য চাষে কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে সরকার কর্তৃক স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য সহ নানান পদক্ষেপ সরকার ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষি পন্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও জনসচেতনতাই পারে কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে। সরকারিভাবে তামাক চাষ বন্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD