1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটক হ্রাস; জমতে পারে ঈদুল আযাহার পর - DeshBarta
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রিন্সিপাল আমিনুর রহমানের ইন্তেকাল বাচার পরিবারের পাশে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ৫ লাখ টাকার অনুদান দিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কৃষকের ঘরে ঘরে এখন ধান কেটে ঘরে তোলার আনন্দ বোয়ালখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানে অধিকারী হলেন মোঃ তুহিন ইসলাম এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত খতিয়ে দেখতে সরকার ও দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি মাওলানা ফখরুল ইসলাম ছাহেবের মৃত্যুতে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর শোক প্রকাশ রাশিয়ার নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় যুক্ত হলো মেটা অনন্যাকে নিয়ে মুখ খুললেন বাবা চাঙ্কি পান্ডে বিশ্বের সবচেয়ে সরু বহুতল৷ যার উচ্চতা ১৪২৮ ফুট

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটক হ্রাস; জমতে পারে ঈদুল আযাহার পর

  • সময় শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০২২
  • ৭৩ পঠিত

জেপুলিয়ান দত্ত জেপু,

পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন অনেকটা পর্যটকশূন্য। ক্রেতাবিহীন ফাঁকা মার্কেটে ব্যবসায়ীরা হেলে-দুলে ঘুমোচ্ছে। সাগর সংলগ্ন ঝিনুক মার্কেটে মাঝে মধ্যে ক্রেতার আনাগোনা দেখা গেলে তাও নগণ্য। তবে আগামী ঈদুল আযাহার পর থেকে ব্যবসার মন্দাভাব কাটিয়ে উঠার সম্ভাবনা বলে জানালেন,হোটেল মোটেল ব্যবসায়ী সমতির সভাপতি ও সংশ্লিষ্টরা।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সারা বাংলাদেশ প্রায় দুই বছর সরকার লকডাউন ঘোষনা করেন। লকডাউন ঘোষনার পর বিশেষ করে ব্যবসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে মারাত্বক ধ্বস নামে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রকৃতির শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশের প্রধান আকর্ষণ কক্সবাজার পর্যটন নগরীর হোটেল-মোটেল ওই সময় বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক শিক্ষা সফরও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ব্যবসা ও কক্সবাজার পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা মারাত্বক ক্ষতির শিকার হয় ।

লকডাউন তুলে নেওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সফর চোখে পড়ার মত নয়। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এক সময় ভ্রমণের জন্য উৎসুক ছিল। পরিস্থিতির কারণে সে আগ্রহ উদ্দীপনা শিক্ষার্থীর মন থেকে প্রায় মুছে গেছে বললেই চলে।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পূর্বে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের আনাগোনায় রীতিমত হৈ হোল্লোড়ে মেতে থাকত। পর্যটনশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে হোটেল মোটেল ব্যবসায়ী মালিক ও দোকান মালিক পক্ষ অপেক্ষায় ছিল আবার কখন জমে উঠবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। অবশেষে তাই হলো ভাগ্যের পরিক্রমায় ফিরে এলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের নব যৌবন। এ বছর ভাল চললেও বর্ষার এ মৌসুমে কেমন যেন মন্দাভাব দেখা দিচ্ছে।

করোনা মহামারী দমনের লক্ষ্যে সরকার প্রথমত নির্ধারিত বয়স ভিত্তিক ভেকসিন পুষ করলেও পরবর্তীতে সরকার গণহারে টিকাদান কর্মসূচী হাতে নেয়। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীসহ উচ্চ শিক্ষার্থীদের করোনার ভেকসিন প্রয়োগ করার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লকডাউন তুলে দেওয়া হয়। এর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্বাভাবিক হলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর পূর্বের মত উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি। যার কারণে শিক্ষার্থীদের পদচারণা আগের তুলনায় না থাকায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত অনেকটা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পর্যটন নগরীর ট্যুরিস্ট পুলিশ,বিভিন্ন সংগঠন প্রধান,কক্সবাজার সদর থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত কক্সবাজার সদরের ভেতর দিয়ে প্রধান সড়কটি অকেজো হয়ে পড়ায় যান চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে হালকা যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা সরকারী সফরে আসলে তারাও জরুরী কাজ শেষে আপন গন্তব্যে ফিরে যায়। সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী হোটেল মোটেলে বেশি দিন রাত যাপন না করে ফিরে যাওয়ায় হোটেল মোটেল খালি পড়ে থাকে।পর্যটক না আসায় ও কক্সবাজার সদরের রাস্তা চলাচলে বিগ্ন হওয়ায় বার্মিজ মার্কেট,সিকুইন মার্কেট ও অন্যান্য আভিজাত্য শপিং মলে ক্রেতা শূন্য তাই অনেক মার্কেট বন্ধ দেখা গেছে। এছাড়াও রাস্তার ভাঙ্গনে ছোট খাটো যান চলাচল বন্ধ থাকায় আগত অল্প সংখক পর্যটক ওই পথে আর পা মাড়ায় না। ফলে কক্সবাজার সদর মার্কেট এখন ক্রেতা নেই বললেই চলে।

দেশের বিভিন্ন গ্রুফ অফ কোম্পানি কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আবাসিক হোটেল-মোটেল নির্মাণ করে ফেলে রাখছে। আভিজাত্য এ সব বহুতল হোটেল -মোটেল উচু করে দাঁড়িয়ে আছে আগামী দিনের বিনোদন প্রেমি পর্যটকদের দিকে তাকিয়ে। এ আশায় দিন দিন নির্মাণ হচ্ছে তিন তারকা ও পাঁচ তারকা মানের হোটেল। এ সব হোটেল -মোটেলে বিনিয়োগ করার জন্য প্রতিনিয়ত আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন ছাড়ছে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি।

পর্যটন শিল্পের কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করা অনেক ব্যবসায়ী হতাশ হলেও আগামী দিনে এ শিল্পে ভাল আয় হতে পারে বলে আশার আলো দেখছেন। এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা শত শত লোক নিত্য নতুন ব্যবসায়িক পলিসি হাতে নিয়ে লাভের মুখ দেখার জন্য বুক বেঁধে নেমেছে। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে কিনা অনেকে আবার দ্বিধাহীনতায়ও ভোগছে। তবে এ ধরনের ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছে, আগামী ঈদুল আযাহার পর আবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকে ভরে উঠবে,বাজবে মাইক্রোফোনে নানা ধরণের গান,মূখরিত হবে ঝাউবন। নাটক পাড়া ও সিনেমা পল্লীর অভিনেতা অভিনেত্রীরা আবার ছুটে আসবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত,হিমছড়ি,সেন্টমার্টি, ছেড়া দ্বীপ সহ পর্যটন স্পটে। সেই সাথে হোটেল গুলোতে খাবারের সাথে টুংটাং শব্দে পানাহার চলবে এ আশা করে বসে আছে রাজধানী ঢাকা শহরের নাম করা ধনী ব্যবসায়ীরা। এরা কক্সবাজারে বহুতল ভবন নির্মাণ করার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ ব্যাপারে পাঁচ তারকা হোটেল Bay sands এর মার্কেটিং প্রতিনিধি মোঃ ফারুখ একাত্তর (৭১) পোস্টের এ প্রতিনিধিকে জানালেন,সরকার দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রতি সুনজর দিয়েছেন। বর্হিবিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য কক্সবাজারে পাঁচ তারকা মানের বিলাসবহুল হোটেল মোটেল বিনির্মাণ করতে যাচ্ছেন। সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন গ্রুফ অফ কোম্পানি,শিল্পোউদ্যোক্তা,ডেভেল্যাবম্যান্ট কোম্পানিগুলো এখন কক্সবাজারে নানা পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।

এদিকে দীর্ঘ ১২০ কিঃমিঃ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর্যটন এলাকার সারিদ্ধ চেয়ারগুলো খালি পড়ে আছে। নেই কোনো পর্যটক, স্থানীয় কিছু লোক জনের দেখা মিললেও চেয়ারে না বসে এদিক সেদি ঘুরে সময় কাটায়। এতে চেয়ার ব্যসায়ীরা লোকসানে দিন কাটাচ্ছে।

আবার আলোকচিত্র শিল্পিদের ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে বিক্ষিপ্তভাবে। ক্যামেরার ফ্রেইমে কোনো পর্যটক দলকে আবদ্ধ করতে পারলেই মিলে দু’পয়সা। পর্যটক না আসায় তাদের আয়ও ইঁদুরকপালে। নিজের খরচ ও সংসারের ব্যয় বাড়াতে এ ধরনের আলোচিত্র শিল্পিদের জীবন চলছে খেয়ে না খেয়ে।

এ ছাড়াও দামী খাবারের রেস্তোরা ও ঝালবিতান গুলোতে লোকসমাগম না থাকায় ব্যবসায়ীরা দোকান ভাড়ার মাশুল গুণছে শুধু। কর্মচারির বেতন,দোকান ভাড়া,পণ্যের খরচ ও বাসা বাড়া গুণতে হচ্ছে তাদের মাসের পর মাস। এতে অনেকে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ছে লাভের আশায়। এ ব্যাপারে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনেক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ঈদুল আযাহাকে কেন্দ্র করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কক্সবাজার পর্যটন নগরীর চিত্র। লোকে লোকারণ্য হয়ে আবার আগের মত দেশের অন্যতম কক্সবাজার পর্যটন নগরী প্রাণ ফিরে পাবে। ব্যবসায়ীরা লোকসান গুণলেও লাভের আশায় দিন কাটাচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD