1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
তৃণমূল সাংবাদিকদের দিনকাল -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্ - DeshBarta
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চন্দনাইশে ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন করলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি “সিজল”র শান্তিরহাট শাখার শুভ উদ্ভোধন “মুক্ত পাঠাগার” এর চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে ১ম লেখক আড্ডা বাকলিয়ায় ২২ নং বিট পুলিশ ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বশর’র দাফন সম্পন্ন পটিয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবার কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন ড.জুলকারনাইন চৌধুরী জীবন অসীক দত্তকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির চত্বরে বিশাল সংবর্ধনা। পটুয়াখালীর ওজোপাডিকোর দুর্নীতি বহুতলা ভবনে ১১ কেভি বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ। একাধিক ডাকাতি মামলার আসামী চোলাই মদসহ গ্রেফতার ফুটবল খেলার উন্মাদনায় ব্যস্ত যখন সবাই,সে সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে গরু লুট

তৃণমূল সাংবাদিকদের দিনকাল -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্

  • সময় শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৯ পঠিত

সম্পাদকীয়ঃ

চাকুরী আছে, পদ আছে, পদবীও আছে- কিন্তু বেতন নেই। এমন একটি পেশা আছে এদেশে। প্রশ্ন করলে অনেকেই বলতে পারবেন না। এই পেশার নাম গ্রামীণ সাংবাদিকতা। তবে অনেকে বলেন সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, কিন্তু কিভাবে মহান হল সে প্রশ্নের জবাব মিলে না যুগের পর যুগও। সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপুর্ণ ও সম্মানজনক পেশা এটা আমিও স্বীকার করি। কারণ একজন সাংবাদিক সমাজের নানাবিধ উন্নয়ন, ইতিবাচক ও নেতিবাচক খবরাখবর তুলে ধরেন গণমাধ্যমে। প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রিন্টিং, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যম। সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে গণমাধ্যম কর্মী। যেসব গণমাধ্যম কর্মীদের সংগৃহীত সংবাদে একটি প্রিন্টিং গণমাধ্যম প্রকাশিত হয় বা একটি ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যম পরিচালিত হয় তার বেশীর ভাগই জেলা-উপজেলায় কর্মরত। শুধু কেন্দ্রীয় ভাবে গণমাধ্যম কার্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগৃহীত সংবাদ দিয়ে পুরো গণমাধ্যম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, একটি প্রিন্টিং গণমাধ্যমের মূল চাবিকাঠি বিজ্ঞাপন। আর সেই বিজ্ঞাপনের বড় অংশই আসে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে। ঐসব জেলা-উপজেলার সংবাদ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। কিন্তু এসব গণমাধ্যম কর্মীদের কোন বেতন-ভাতা নেই। পদ এবং পদবী আছে। এরা কেউ জেলা আবার কেউ উপজেলা প্রতিনিধি। সবাই এরা সাংবাদিক নামেই পরিচিত। বিশাল সম্মানের বিষয় কিন্তু জীবন কিভাবে চলে তার খবর কেউ রাখে না। বাড়ীর একজন চাকরও মাসের শেষে নির্দিষ্ট পরিমান পারিশ্রমিক পেয়ে থাকে। কিন্তু কোন গ্রামীণ সাংবাদিকদের ভাগ্যেই সেটা জোটে না। তবে হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যমের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা সম্মানী দিয়ে থাকেন। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। একজন গ্রামীণ সাংবাদিক মূলতঃ প্রথমে শখের বশবর্তী হয়েই সাংবাদিকতা জীবনে প্রবেশ করে। কিন্তু এক সময় এটাকে পেশা হিসাবেই বেছে নেয় অনেকে। বর্তমান সময়ে প্রথম থেকেই পেশা হিসেবে সাংবাদিকতায় পেশায় আসে বেশীরভাগ যুবক। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের প্রয়োজনে অনেক আইন, নীতিমালা হলেও গ্রামীণ সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে আজও চুড়ান্ত কোন নীতিমালা প্রণয়ন হয়নি। তাদের নিয়োগেরও কোন আইন-কানুন নেই। সম্পাদক সাহেব তার ইচ্ছামত নিয়োগ প্রদান করেন এবং তাকে সম্পাদকের ইচ্ছা হলেই অব্যাহতি দেন। এক সময় এমনটা ছিল না। উপজেলা সংবাদদাতাও লেখার উপর এবং মাসিক সম্মানী পেতেন। তখন গণমাধ্যমের সংখ্যাও এত বেশী ছিল না। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। স্ব-স্ব জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয়গণ প্রিন্টিং গণমাধ্যমের ডিক্লারেশন দিয়ে থাকেন। ভাল করে যাচাই-বাছাই না করে অথবা অসদ উপায় অবলম্বন করে ডিক্লারেশন দেয়ায় অনেক অযোগ্য ব্যক্তিও দৈনিক, সাপ্তাহিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিক বনে গেছেন। পর্যবেক্ষণ করলেও দেখা যাবে এক রুমের একটি অফিস একটি কম্পিউটার চালানোর সামর্থ্য নেই। অথচ মিথ্যা হলফনামা ও ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বনে গেছেন। ঐসব সম্পাদক সাহেবরা ডিক্লারেশন পাওয়ার পরই সাংবাদিক বানানোর প্রতিযোগিতায় নামেন। শুরু করে টাকার বিনিময়ে যাকে তাকে সাংবাদিক বানানো। ঐসব সাংবাদিকদের কোন বেতন-ভাতা নাই, উল্টো পরিচয়পত্র নেয়ার সময়ও নির্দিষ্ট পরিমান টাকা গুণতে হয়। তারপর মাসে মাসেও দিতে হয় মাসোহারা। না দিলে বাতিল করে দেওয়া হয় পরিচয়পত্র এবং পত্রিকায় ছবি দিয়ে ছাপিয়ে দেওয়া হয় বাতিলের বিজ্ঞাপন। এভাবে টাকার বিনিময়ে সাংবাদিক বানানোর ফলে দেশের বড় বড় অপরাধীদের কাছে পত্রিকার পরিচয় পত্র পাওয়া যায়। এগুলোবন্ধ করার জন্য পত্রিকার ডিক্লারেশন নীতিমালা আরও কঠোর হওয়া উচিত। যাচাই-বাছাই করে যারা পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে পারবে, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দিতে পারবেন তাদেরই পত্রিকার ডিক্লারেশন দেয়া যেতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ সাংবাদিক অর্থাৎ জেলা-উপজেলা সংবাদদাতা নিয়োগের ক্ষেত্রেও কঠোর নীতিমালা হওয়া উচিত। একজন সাংবাদিক হতে হলে তার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে। হলুদ সংবাদিকতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একটি প্রশিক্ষিত সাংবাদিক সমাজ গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি পত্রিকা যখন বিজ্ঞাপন তালিকাভুক্ত হবে তখন পরীক্ষা নিরীক্ষা ভালভাবে করতে হবে এবং তা কিভাবে প্রকাশিত হয়, কোথা থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, পত্রিকা পরিচালনার জন্য মালিক পক্ষের আয়ের উৎস কি তাও খতিয়ে দেখা উচিত। এমনিতেই গ্রামীণ জনপদে কর্মরত সাংবাদিকরা নানাভাবে বঞ্চিত। তথ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী গ্রামীণ সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা দেয়ার নিয়ম থাকলেও বেশীরভাগ গণমাধ্যমই তা মানছে না। এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পান। সেটা জাতির জন্য খুবই আনন্দের। কিন্তু একজন গণমাধ্যম কর্মী সেই কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংবাদের পিছনে ছুটে বেড়ায়। সে তার প্রতিষ্ঠান থেকে কি পেল সেটা কর্তৃপক্ষের একটু ভেবে দেখা উচিত। মুসলমান চাকুরীজীবীরা দুই ঈদে ২টি বোনাস অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে বোনাস পেয়ে থাকেন। কিন্তু একজন গ্রামীণ সাংবাদিকের জীবন কিভাবে পরিচালিত হয় তা একবার ভেবে দেখে না কেউ। বিষয়টির প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খোঁজ-খবর নিবেন এই প্রত্যাশা রইল।

লেখকঃ কবি ও সাংবাদিক

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD