1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
দক্ষিনাঞ্চল বাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতুর উদ্বোধন করলেন- প্রধানমন্ত্রী - DeshBarta
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নূরানী পাড়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের দ্বিবার্ষিক কার্যকরী পরিষদ গঠিত পটিয়ায় পাউবো’র ১১শ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্ভোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চকবাজারে দিনে দুপুরে তালা কেটে সাংবাদিকের বাসায় দুধর্ষ চুরি। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে – মুহাম্মদ বদিউল আলম ইতিহাসবেত্তা সোহেল ফখরুদ-দীনের বাসভূমি পুরস্কার লাভ এস. আলম গ্রুপ দেশের উন্নয়নে, মানুষের কল্যানে নিয়োজিত। লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি,সৌদি আরব’র ৪র্থ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চন্দনাইশে ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন করলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি “সিজল”র শান্তিরহাট শাখার শুভ উদ্ভোধন “মুক্ত পাঠাগার” এর চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে ১ম লেখক আড্ডা

দক্ষিনাঞ্চল বাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতুর উদ্বোধন করলেন- প্রধানমন্ত্রী

  • সময় রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৯৭ পঠিত

মোঃ জাহিদুল ইসলাম ,দুমকি পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
২৪ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১ .৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর লেবুখালী নদীতে নির্মীত পায়রা সেতু ভার্চুয়াল ভাবে গনভবন থেকে উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ীত হলো।গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ইসমাত মাহমুদ স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্রে এ উদ্বোধনের তারিখ ঘোষনার পরই এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এক নতুন আনন্দের অনুভূতি বইতে শুরু করে। সেতুর এ উদ্বোধন উপলক্ষে সেতুর দক্ষিনপ্রান্ত পটুয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পটুয়াখালী প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব): জাহিদ ফারুক এমপি, পটুয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া এমপি, পটুয়াখালী ২আসনের সংসদ সদস্য আসম ফিরোজ এমপি, পটুয়াখালী ৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা এমপি, পটুয়াখালী ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান মুহিব এমপি, সংরক্ষিত আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা , বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিবায়াত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ: সাইফুল হাসান বাদল, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান মন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এর উপস্থাপনায় প্রকল্পের বিষয়ে উপস্থাপন করেন সচিব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মোঃ নজরুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরে অবহেলিত দক্ষিনাঞ্চলকে সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সমানতালে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পগুলির চুড়ান্ত বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাড়ায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পটুয়াখালীর লেবুখালীতে পায়রা নদী। খরস্রোতা এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মান বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১২ সালে ৮ মে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পায়রা সেতুর জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। ৪১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা কুয়েত ফান্ড থেকে ৩৩৬ কোটি২৬ লাখ এবং সরকারের নিজস্ব ৭৭ কোটি ৩ লাখ। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী সফরকালে লেবুখালী নদীর পাড়ে পায়রা সেতুর ভিক্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতার কারনে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় ২০১৫ সালে প্রাক্কলন বাড়িয়ে ৪১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল কুয়েত ফান্ড ফর ইকোনমিক ডেভোলপমেন্ট (কেএফএইডি ) ও ওপেক ফান্ড ফর ইন্টার ন্যাশনাল ডেভোলপমেন্ট (ওএফআইডি) এর যৌথ অর্থায়নে ১১৭০.০৭ কোটি টাকা ব্যায়ে পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মানের জন্য চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লংজিন রোড এন্ড ব্রীজ কোম্পানী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন।
২০১৬ সালের জুলাই মাসে পূর্তকাজ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল স্টেইড ১৪৭০ মিটার দীর্ঘ ,চারলেন বিশিষ্ট ফুটপাথ সহ ১৯.৭৬ মিটার প্রস্হ সম্পন্ন ব্রীজটির মূল সেতুর ৪টি স্প্যান সহ মোট ৩২টি স্প্যান রয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুও এই প্রযুক্তিতে নির্মিত। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি ক্যাবল দিয়ে ২ পাশে সংযুক্ত । নদীর জলতল থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু উভয় পাড়ে ৭ কিলোমিটার জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে সংযোগ সড়ক। এই সেতুতে ১৩০ মিটার গভীর পাইল বসানো হয়েছে। নদীর মাঝখানে মাত্র একটি পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক থাকবে বলে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম জানান । দেশে প্রথমবারের মতো এই সেতুতে ‘ব্রিজ হেলথ মনিটর’ (সেতুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ) স্থাপিত হচ্ছে। যার ফলে বজ্রপাত ও ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই যানবাহন চলাচলে সেতুর ভাইব্রেশন সিস্টেমে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে সেই বিষয়ে সংকেত দেবে। সেতুর পরিবেশগত ক্ষতি এড়াতেই এই প্রযুক্তি থাকছে। এ ছাড়াও, সেতুর পিলারের পাশে নিরাপত্তা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এতে কোনো কিছুর ধাক্কায় সেতুর ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হবে, বাড়বে সেতুর স্থায়িত্ব। আলাদা সাবস্টেশনের মাধ্যমে সেতুতে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে বাতি জ্বলবে। থাকছে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থাও। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, সরকার ২০১২ সালের মে মাসে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। বিদেশি অর্থায়নে নির্মিত এই সেতু ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১৩ দশমিক ২৮ কোটি টাকা। কিন্তু সেতুর প্রাথমিক নকশায় অনেক পরিবর্তনে এনে পরামর্শদাতারা টেন্ডারের নথি প্রস্তুত করেন এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে দাতা সংস্থার সম্মতি নিতে হয়েছে। ফলে নির্মাণ কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। আলাদা সাবস্টেশনের মাধ্যমে সেতুতে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে বাতি জ্বলবে। থাকছে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থাও। এ ছাড়াও, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প ব্যয় একটি ধারণাগত নকশার ভিত্তিতে অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু পরে বিস্তারিত নকশা অনুসারে প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় চূড়ান্ত করা হয়। ফলে সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যায়। সর্বশেষ এই সেতু নির্মাণে চুক্তি-মূল্য ছিল এক হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তবে সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১১৮ কোটি টাকা, সাশ্রয় হচ্ছে ৫২ কোটি টাকা। খরস্রোতা নদীর ভাঙ্গন থেকে নদীতীর রক্ষাপ্রদ কাজও সম্পনের পথে। এ সেতুর মূল প্রাক্কলিত ব্যায় ১৪৪৭ কোটি টাকা এর মধ্যে ৩৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা সরকারের। এ ছাড়াও কুয়েতের ১০৭৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২২ থাকলেও তার পূর্বেই সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আজ প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD