1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
পটুয়াখালীতে কাগজে-কলমে ভুয়া এতিম দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ । - DeshBarta
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইস্ট ডেল্টা এনএস গার্ডেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনঃ মধ্যবিত্তের আয়ত্তে মিলছে স্বপ্নের ফ্ল্যাট নূরানী পাড়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের দ্বিবার্ষিক কার্যকরী পরিষদ গঠিত পটিয়ায় পাউবো’র ১১শ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্ভোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চকবাজারে দিনে দুপুরে তালা কেটে সাংবাদিকের বাসায় দুধর্ষ চুরি। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে – মুহাম্মদ বদিউল আলম ইতিহাসবেত্তা সোহেল ফখরুদ-দীনের বাসভূমি পুরস্কার লাভ এস. আলম গ্রুপ দেশের উন্নয়নে, মানুষের কল্যানে নিয়োজিত। লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি,সৌদি আরব’র ৪র্থ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চন্দনাইশে ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন করলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি “সিজল”র শান্তিরহাট শাখার শুভ উদ্ভোধন

পটুয়াখালীতে কাগজে-কলমে ভুয়া এতিম দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ।

  • সময় সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৭ পঠিত

বরিশাল ব্যুরো।

পটুয়াখালী এতিমখানা ও শিশু সদনে মাদ্রাসাছাত্রদের ভুয়া এতিম ও অসহায় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানাগেছে, কাগজে-কলমে এতিম দেখানো হলেও বাস্তবে এতিম নয় এমন শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে এতিমখানার পরিচালকরা বরাদ্দের টাকা লুটপাট করে নিজেদের পকেটকে ভারি করছেন বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সূত্রে জানাযায়, সদরসহ জেলায় সরকারের তালিকাভুক্ত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত মোট ৫৭ টি এতিমখানা রয়েছে, যার মধ্যে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দের আওতায় এতিম দেখানো হয়েছে ১ হাজার ১৫২ জন।

ক্যাপিটেশন বরাদ্দের অনুকূলে এতিমখানার ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী এতিম অর্থাৎ পিতৃহীন বা পিতৃমাতৃহীন দরিদ্র শিশুর ৫০ শতাংশ বরাদ্দের আওতায় আসবে। অর্থাৎ একটি এতিমখানায় যদি ১০০ শিক্ষার্থী থাকে তবে ৫০ জনের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হবে।

একজন এতিমকে প্রতি মাসে দুই হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৬ মাসে ১২ হাজার করে বছরে দুইবারে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে খাবার বাবদ দেয়া হয় এক হাজার ৬০০ টাকা, পোশাকের জন্য ২০০ টাকা, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ বাবদও সমান বরাদ্দ দেয়া হয়।

জেলায় চলতি অর্থবছরে ২য় কিস্তিতে১ হাজার ১৫২ জন এতিমের জন্য ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা পাঠানো হয়। প্রথম কিস্তিতেও সমপরিমান বরাদ্দ পায় এসব এতিমখানাগুলো।

তবে কাগজে থাকলেও বাস্তবে এতিমের চিত্র ভিন্ন ।

এর মধ্যে সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া ইসলামিয়া শিশু সদন মাদ্রাসাটিতে কাগজে-কলমে ১৭ জন এতিমের অনুকূলে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।যেখানে এর দ্বিগুন অর্থাৎ ৩৪ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকার কথা। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো এতিমের দেখা মেলেনি। স্থানীয়রা বলেন, এখানে কোন এতিম থাকতে দেখিনি আমরা।

তবে এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফরের দাবি, তার এখানে এতিম আছে, নিয়মিত রান্না হয়, বাবুর্চিও আছেন। মাদ্রাসার কর্মচারী মোঃ গণি বলেন, মাঝে মধ্যে ২ একজন থাকে।তবে ৩৪ জন এতিম নাই ৪-৫ জনের রান্না হয় নিয়মিত।

সদর উপজেলার সেহাকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর ইসলামিয়া শিশু সদনটিও সরকারের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট পাওয়া এতিমখানার তালিকাভুক্ত। কাগজে-কলমে এখানে ১৭ জনের অনুকূলে সমপরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন উপস্থিত পাওয়া যায়।মাদ্রাসাটির সাধারন শিক্ষার্থীদের এতিম দেখিয়ে এখানেও বরাদ্দের বেশির ভাগ অর্থ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হালিম বলেন, তথ্য মতো এখানে এতিম রয়েছে। হয়তো কিছু বাচ্চারা বাড়িতে যেতে পারে।তাদের নিয়মিত খাবার, পোশাক ও ওষুধ কিনে দেয়া হয়।

একইভাবে সদরের আউলিয়াপুর ইসলামিয়া শিশু সদন ৫৭ জন এতিমের অনুকূলে ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার, ঝিলবুনিয়া আফসার উদ্দিন শিশু সদনে ১৮ জন এতিমের অনুকূলে ২ লক্ষ ১৬ হাজার, টেংরাখালী ওয়ায়জআবাদ শিশু সদনে ২২ জন এতিমের অনুকূলে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তালিকার এতিমের সংখ্যার সাথে কোনটার বাস্তবতা নেই।

একই চিত্র পরিলক্ষিত হয় জেলার বাউফল উপজেলার দক্ষিন মাধবপুর শিশু সদন, ধানদি শিশু সদন, মির্জাগঞ্জ উপজেলার কলাগাছিয়া ছালেহা মোয়াজ্জেম শিশু সদন, মানসুরাবাদ এতিমখানা ও শিশু সদন,চৈতা আল মুত্তাকীন ইউনিছিয়া শিশু সদন।এছাড়াও জেলার কলাপাড়া, দশমিনা, গলাচিপা উপজেলার অধিকাংশ শিশু সদনগুলোর প্রায় একই অবস্থা। তবে ইতিমধ্যে ভুয়া এতিমের তালিকায় দেখিয়ে টাকা লোপাট করায় দুমকী উপজেলার আংগারিয়া শিশু সদন, কার্তিকপাশা মাওঃ মোঃ আবদুল গনি শিশু সদনসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাতিল করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সমাজ সেবা উপ-পরিচালক শিলা রানী দাস বলেন, ভুয়া তালিকা দেওয়া বেশ কিছু এতিমখানা বাতিল করা হয়েছে। বাকিগুলো পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD