1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপদ হোক শ্রম অভিবাসন -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্ - DeshBarta
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইস্ট ডেল্টা এনএস গার্ডেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনঃ মধ্যবিত্তের আয়ত্তে মিলছে স্বপ্নের ফ্ল্যাট নূরানী পাড়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের দ্বিবার্ষিক কার্যকরী পরিষদ গঠিত পটিয়ায় পাউবো’র ১১শ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্ভোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চকবাজারে দিনে দুপুরে তালা কেটে সাংবাদিকের বাসায় দুধর্ষ চুরি। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে – মুহাম্মদ বদিউল আলম ইতিহাসবেত্তা সোহেল ফখরুদ-দীনের বাসভূমি পুরস্কার লাভ এস. আলম গ্রুপ দেশের উন্নয়নে, মানুষের কল্যানে নিয়োজিত। লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি,সৌদি আরব’র ৪র্থ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চন্দনাইশে ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন করলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি “সিজল”র শান্তিরহাট শাখার শুভ উদ্ভোধন

প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপদ হোক শ্রম অভিবাসন -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্

  • সময় শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১০৩ পঠিত

প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। এ জন্য অভিবাসীদের সুযোগ–সুবিধাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।অনেক ব্যক্তি বিদেশে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করেন। যেকোনো সমস্যাকে তাঁরা মেনে নিতে রাজি থাকেন। কিন্তু বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা হয়। অনেক শ্রমিক দেশ থেকে ধার করা অর্থে বিদেশে যান। অনেক সময় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। চাকরি করার সময় কঠোর পরিশ্রম করেন এবং দেশেও টাকা পাঠান। বিদেশ থেকে আয় আসার ফলে গ্রামীণসমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। অভিবাসীদের যথাযথ গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতিবাচক ফল ভোগ করতে হবে। এটি কাম্য নয়। অভিবাসীরা কোন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, কীভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে সেটা ভাবার বিষয়। নারী অভিবাসন একটি জাতীয় বিষয়। নারীদের বিদেশ গমনের সময় মাঠপর্যায় থেকে দেশে ফেরত আসা পর্যন্ত যাবতীয় তথ্য আমরা প্রদান করি। অভিবাসন নিয়ে পাঁচটি দফার একটি হলো নারীর অভিবাসন নিরাপদ করতে হবে। দেশে–বিদেশে সব ক্ষেত্রে নারীর  নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে দেশের বাইরে নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব। ইন্টারনেট ও অন্যান্য গণমাধ্যমের সুবাদে বিদেশে নারীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এগুলো সমাধান করার উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। একজন নারী বিদেশ যাওয়ার সময় দালালের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন। পরিবার ও সমাজে আত্মমর্যাদা কমে যাওয়ার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। বদলাতে হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।নারী অভিবাসীদের শতভাগ রেমিট্যান্স দেশে পাঠানো হয়। এটা গোটা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন নারী প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হয়ে শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গমনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট কেনা পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় একেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। নারীর অভিবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে নিরাপদ অভিবাসনের অপরাধগুলো দূর হবে। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে এবং দক্ষ করে তুলতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব ব্যবস্থা রাখা উচিত। নারীকে তাঁর প্রাপ্ত সম্মানী প্রদান করতে হবে। বেতনসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। কোনো নারী অসহায় অবস্থায় নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে আসুক, এটা আমরা চাই না। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। একজন নারীকে নির্যাতন করা মানে গোটা বাংলাদেশকে নির্যাতনের নামান্তর। বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিদেশে যাওয়ার খরচ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আয় পৃথিবীর সব দেশের চেয়ে কম। এটি আমাদের অভিবাসীদের প্রধান অন্তরায়। অভিবাসনের ক্ষেত্রে দালালেরা সক্রিয়। তাঁদের নেটওয়ার্ক সরকারি অফিসেও রয়েছে। এসব নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে অভিবাসীদের বিদেশে গমনের খরচ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।নারী-পুরুষ সবার অভিবাসন নিরাপদ করা দরকার। বিদেশে গমনের পুরো বিষয়টির সঙ্গে দালাল জড়িত। এ জন্য পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে। সবকিছু অনলাইনে করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গ্রামে কোনো যুবক কোনো কাজ না জানলে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়। এটি ভুল সিদ্ধান্ত। বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রবাসীরা টাকা পাঠানোর যন্ত্র নন। তাঁদের উপযুক্ত সম্মান প্রদান করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রবাসীরা দূতাবাস থেকে সেবা পান না। এর কারণ হলো, দূতাবাসে লোকবল কম। সৌদিতে কাজ করেন ২০ লাখ শ্রমিক। কিন্তু দূতাবাসে কাজ করেন মাত্র ২০ জন কর্মকর্তা। তাহলে প্রবাসীরা সেবা পাবেন কেমন করে? প্রবাসে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বাস করেন। তাঁরা যেন ভোট প্রদান করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় প্রশিক্ষণ গ্রহণে অভিবাসীদের আগ্রহ খুব একটা নেই। এ জন্য কম বেতনে কাজ করতে হয়। কিছুটা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে হয়তো বেতন দ্বিগুণ হতে পারে। এ বিষয়টিও অভিবাসীদের জানানো উচিত। দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে পারি। প্রতিটি এলাকার কিছু তরুণ অভিবাসীদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পৌঁছে দেবেন। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। অদক্ষ শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করতে হবে। এতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সর্বোপরি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে অভিবাসীদের দুর্দশা কমবে বলে মনে করি। ২০১৩ সালে অভিবাসীদের নিয়ে নতুন আইন হয়েছে। ২০১৬ সালে নতুন পলিসি হয়েছে। ২০১৭ সালে একটি নতুন বিধি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে একটি ওয়েলফেয়ার অ্যাক্ট অনুমোদিত হয়েছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছে। এখন সরকারের উচিত হবে এসব আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। অন্যথায়, এসবের ফলাফল অভিবাসীরা ভোগ করতে পারবেন না। প্রতি জেলায় প্রবাসীকল্যাণের বিষয়টিকে আরও  সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। যেন অভিবাসীদের পরিবার কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারে। এসব সেবা যত প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, দালালের দৌরাত্ম্য তত কমে যাবে। জেলা পর্যায়ে কল্যাণ বোর্ডের  অফিস খোলার আইন রয়েছে। অভিবাসন একটি রাজনৈতিক বিষয়। কোনো দেশে কাজের জন্য লোক পাঠানোর আগে ওই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনুমোদন যাচাই করা উচিত। অন্যথায়, বিপদে  পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৬৫টি দেশে লোক পাঠানোর অনুমতি বাংলাদেশের রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১১ লাখ লোক বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার মতে, প্রায় দেড় কোটি লোক দেশের বাইরে কাজ করছেন। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সৌদি আরবে রাস্তা ঝাড়ুর কাজ করার জন্য একজন শ্রমিক ৮ লাখ টাকা খরচ করেছেন। সেখানে গিয়ে দেখেন তাঁর বেতন মাত্র ৫০০ রিয়েল (১০ হাজার টাকা)। কেবল টাকা খরচ করলে হবে না। সবকিছু ভালোমতো জেনে টাকা খরচ করা উচিত। অন্যথায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অভিবাসীরা ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। তাঁদের সুযোগ–সুবিধাগুলো দেখা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। দেশে প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা হোক।

লেখকঃ

সাংবাদিক,
সমাজকর্মী ও সংগঠক

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD