1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সৈয়দুর রহমান চৌধুরী শুধু বীরের নাম নয় একটি ইতিহাসঃ তসলিম উদ্দিন রানা - DeshBarta
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দক্ষিণ জেলা জাপা উদ্যােগে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস পালন ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না, খেলতে যখন নেমেছেন দুই দলই খেলবে-নৌ মন্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাস ও জ‍্যোতি রাণী পালকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করায় উদ্বেগ জানান AWRCF এর মহাসচিব মুহাম্মদ আলী ইতিহাস৭১ ম্যাগাজিনের মোড়ক উম্মোচন করলেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী ইতিহাস৭১ ম্যাগাজিনের মোড়ক উম্মোচন করলেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী দিরাইয়ে আলহাজ্ব মাসুক মিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের আচরণে উদ্বিগ্ন মানবাধিকার কর্মীগণ ভৈরবে লিও ডে অনুষ্টিত চন্দনাইশে জহিরুল ইসলাম বাচার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল জব্বার চৌধুরী আল্লামা আমিনুর রহমানের জানাজা সম্পন্ন

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সৈয়দুর রহমান চৌধুরী শুধু বীরের নাম নয় একটি ইতিহাসঃ তসলিম উদ্দিন রানা

  • সময় বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৭৯ পঠিত

মৃত্যুঞ্জয়ী বীর সৈয়দুর রহমান চৌধুরী একটি নাম নয় ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে স্বাধীন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন,তিনি শিলাছড়া ইয়ুথ ক্যাম্প (আগরতলা ভারত) পরিচালনা করেন।সৈয়দুর রহমান চৌধুরী একটি বীর তথা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম।বর্তমানে রাজনীতিতে ইতিহাসের নায়ককে চিনে কিনা সন্দেহ।তারা কেউ জানে না,তিনি কে?কি তার পরিচয়?কেন যুদ্ধ করেন?এসব প্রশ্ন আজ ঘুরপাক খাচ্ছে? তরুণ প্রজন্মের অনেকে তার নাম জানে কিনা সন্দেহ আছে?তবুও ইতিহাসের নায়ক এই মহান মানুষটির নাম চট্রগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া মরিয়মনগর গ্রামের গর্বিত সন্তান জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী।তিনি ১৯১২ সালে ১লা জানুয়ারী চট্রগ্রাম জেলা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মরিয়মনগর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাঙ্গুনিয়া আদর্শ স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করেন। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন।শিক্ষা জীবন শেষ করে চন্দ্রঘোনা বোর্ড স্কুলে শিক্ষকতা করেন।শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন।

আদর্শিক,পরিছন্ন,অসম্ভব দুরদর্শিতার,সাহসী,মেধাবী,
ও দেশপ্রেমিক বীর ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন।১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার পরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৯ সেপ্টেম্বরে রাঙ্গামাটি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হন।মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে নিজের জীবন দিতে কার্পণ্য করেনি। কারণ তাকে সশস্ত্র বিপ্লবে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে।বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়।মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত থেকে আসা-যাওয়া করে দেশের অভ্যন্তরে সহকর্মীদের নিয়ে তিনি স্বশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন।তিনি আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন বলে দেশের জন্য নিজের জীবন দিয়ে কাজ করেছেন। নিজে ছিলেন অসম সাহসী বীর।নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো আপোষ কিংবা পিছপা হয়নি।মৃত্যু আলিঙ্গন করে জাতির পিতার আদর্শের উজ্জীবিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়া ছিল তার প্রধান কাজ।দেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য তিনি ছিলেন অকুতোভয় দুঃসাহসী যোদ্ধা। যুগে যুগে তিনি তার কর্ম দিয়ে দেশ ও জাতির নিকট বিপ্লবী প্রেরণা,আদর্শিক,দুঃসাহসিক,বঙ্গবন্ধু প্রেমিক হিসাবে মানুষের মণিকোঠায় বেচে থাকবে।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হলে তিনি চন্দ্রঘোনা পেপার মিলে ইন্সপেক্টর পদে আসীন হন সেসময় ৭০% লোক পাকিস্তানি হলেও বাঙালীদের জন্য শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলেন।তিনি শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। বাঙালীর চাকুরীর জন্য প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে অনুরোধ করেন। ১৯৫০ সালে অনেক শ্রমিক দোভাষী বাজারে মিটিং মিছিল করেন পাকিস্তানি স্বৈরচ্ছারী নীতির বিরুদ্ধে। সেদিন মালিক কর্তৃপক্ষ বাঙালীর বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন। সেই সময় তিনি স্বাধীকার আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন।

সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের নির্দেশে শত শত বাঙালী শ্রমিক কর্মচারী গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কারণে জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা করেন ও পরে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেন।বিনা বিচারে মিল মালিক দাউদ খান ও স্বৈরচ্ছারী আইয়ুব খান নিরহ বাঙালীর আন্দোলনকে অবৈধ ও দাঙ্গাহাঙ্গামা বলে ঘোষণা করেন ও বহু বাঙালীকে হত্যা করেন যা নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড। কারাগারের নিমর্ম পরিবেশ থেকে মুক্তি ও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য ২২ দিন মত সকল বন্দী বাঙালী শ্রমিক অনশন ধর্মঘট করেন।প্রায় ৩ বছর পর বহু কষ্টে তারা মুক্তি পান সাথে সৈয়দুর রহমান চৌধুরীও। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বদেশ আন্দোলনে যোগ দেন।১৯৫৫ সালে তিনি যুক্তফ্রন্টে যোগ দেন।তখন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলে তিনি স্বাধীকার আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬দফা বাস্তবায়নে পাকিস্তানি সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন সংগ্রাম করেন।বাঙালীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। বঙ্গবন্ধুর জন্য তিনি নিজের জীবন দিয়ে পশ্চিমা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেন। জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী বৃহত্তর পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা হিসাবে ৬ দফার জন্য তিনি বাঙালির মানুষের জন্য অবর্ণনীয় কষ্ট করে যান।প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে আইয়ুব সরকারের পতন হলে। আবারও ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন।ইয়াহিয়া খান স্বৈরচ্ছারী তন্ত্র শুরু করেন।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করে তবলছড়ি থেকে এক বিশাল মিছিল বের করেন। পরবর্তী ১৭ই আগস্টে খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেন। এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে খন্দকার মোশতাক সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে ভালোভাবে চিনতেন। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ছিল। ১৯৭০ এর নির্বাচনের পরে রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানে পালিয়ে যান। রাজা ত্রিদিব রায়ের মতো প্রভাবশালী রাজা সাথে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দুর রহমান চৌধুরী। সেই খন্দকার মোশতাক সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে ভালো করেই চিনতেন। কখনো বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের সাথে আপস করবে না। ১৯৭৫ সালে ১৭ আগস্ট মাসে সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাকে মন্ত্রিপরিষদে মন্ত্রী বানানো প্রস্তাব দেন তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৭৫ সাল ১৭ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যান। পরবর্তী ১৭ই আগস্টে খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেন। এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে খন্দকার মোশতাক সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে ভালোভাবে চিনতেন। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ছিল। ১৯৭০ এর নির্বাচনের পরে রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানে পালিয়ে যান। রাজা ত্রিদিব রায়ের মতো প্রভাবশালী রাজা সাথে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দুর রহমান চৌধুরী। সেই খন্দকার মোশতাক সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে ভালো করেই চিনতেন। কখনো বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের সাথে আপস করবে না। ১৯৭৫ সালে ১৭ আগস্ট মাসে সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাকে মন্ত্রিপরিষদে মন্ত্রী বানানো প্রস্তাব দেন তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৭৫ সাল ১৭ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যান। ২৫ সেপ্টেম্বর ডেপুটি কালেক্টর আতিকুল ইসলাম চৌধুরীর উপস্থিতিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য করেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে সৈয়দুর রহমান চৌধুরী শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। ফলশ্রুতি আছে,বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর সৈয়দুর রহমান চৌধুরীকে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন। তাই যতদিন বেঁচে ছিল তিনি স্বাভাবিকভাবে শারীরিক সক্ষমতা ছিলনা।১৯৮৮ সালে জানুয়ারি মাসে এই মহান বীরের ইতিহাস সমাপ্তি ঘটে।১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে নমিনেশন পান জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী।আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে নির্বাচিত হলে মি. ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর নিকট হস্থান্তর না করে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শুরু করেন যা সরকারের জন্য হুমকির হয়ে যায়।আর নিরহ বাঙালী মানুষের উপর শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী।২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলে সারা দেশের মত পার্বত্য জেলায় আন্দোলন সংগ্রাম বেগবান বিস্তার লাভ করেন। তিনি বৃহত্তর পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন পয়েন্ট ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে একটা ওয়ার্কিং ফোর্স গড়ে তুলেন।তার নেতৃত্ত্বে গড়ে তুলেন পার্বত্য জেলায় কন্ট্রোল রুম যা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রামে করেন

জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী ও তার ছেলে ডাঃ আব্দুল জলিল চৌধুরীকে নিয়ে বিলাইছড়ি থেকে বাবুছড়ি হয়ে নাক্ষংলছড়ি থেকে বহু ছাত্র যুবক নিয়ে পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে ভারতের ক্যাম্পে পৌছেন।সেখানে ভারতীয় ক্যাম্পের প্রধান তার পরিচয় নেন।ততসময়ে ওয়ারলেসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলে রামগড় পৌছেন।সেখানে পার্বত্য জেলার ডিসি এইচ টি ইমামের সাথে দেখা হয়,তখন জননেতা আব্দুল্লাহ আল হারুন,আব্দুল মান্নান ও তার ছেলে ডাঃ আব্দুল জলিলকে নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবেশ করেন।আগরতলায় জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী,এম আর সিদ্দিকী সহ অন্যান্য নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ হয়।তখন মুখ্যমন্ত্রীর আগরতলায় কক্ষে জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী,তার ছেলে ও নেতারা থাকতেন।আগরতলা কাঞ্চন নগরে বাঙালীদের জন্য অফিস খোলা হয়।মানুষের সুযোগ সুবিধার জন্য দুটো জোন খোলা হয় একটি ইষ্টার্ন জোন অন্যটি ওয়েষ্টার্ণ জোন।ইষ্টার্ণ জোন (পার্বত্য চট্টগ্রাম,চট্টগ্রাম, ফেণী,নোয়াখালী জেলা) এর চেয়ারম্যান ছিলেন জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী। ৫/৬ টি ক্যাম্প করে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন।তিনি আগরতলা থেকে ৯০ কি.মি. দুরে রামগড়ের কাছাকাছি শিলাছড়া ক্যাম্পের পরিচালক নির্বাচিত হন।জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী সাধারণ মানুষকে ট্রেনিং করাতেন ও যুবকদের ট্রেনিং দিতেন।তিনি অনেক পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে শিলাছড়া ক্যাম্প পরিচালনা করতেন।দেশকে স্বাধীন করার জন্য হাজার হাজার মুক্তিবাহিনী ট্রেনিং দিয়ে দেশে পাঠাতেন।দেশ ও বঙ্গবন্ধু ছিল তার নিকট অনেক বড়।তিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগের মাধ্যমে দেশের মুক্তির জন্য যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তা ইতিহাসের অংশ। আজীবন বাঙালী জাতি তাকায় স্মরণ নয় শ্রদ্ধা দিয়ে নিজের অন্তরে রাখবে।তিনি পাহাড়,পর্বত ও জঙ্গল পেরিয়ে অসম সাহসীকতার সাথে যুদ্ধ করে দেশপ্রেমের যে পরিচয় দিয়েছে আজীবন বাঙালী তার অবদান করে যাবে।

স্বাধীন দেশের এই সংগঠক যখন নিজের মাতৃভুমির জন্য প্রানপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রাজাকার কমাণ্ডার তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায় হামলা করে সব লুঠপাট করে নিয়ে যায় এমনকি অবর্ণনীয় নির্যাতন করে তার পরিবারের উপর যা নিষ্ঠুরতম। তবুও ধমে থাকেনি দেশ মাতৃকার যোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী।সবকিছু মেনে নিয়ে তিনি প্রিয় দেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য যুদ্ধে চালিয়ে যান।শত্রুর সব কিছু সহ্য করে নিজের দেশ স্বাধীন করে বীরের মত প্রিয় দেশে আসেন।১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশ জয় হলে ৯ মাস যুদ্ধ শেষ করে আগরতলা হয়ে রামগড় থেকে পরে ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম লালদিঘী ও কাপ্তাই রাঙামাটিতে আসেন।১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু দেশে আসলে সেই সময় তিনি জাতির পিতার সাথে মঞ্চে ছিলেন।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ত্বে পুনরায় আওয়ামী লীগ সংগঠিত হলে তিনি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বৃহত্তর পার্বত্য জেলার গর্ভণর নির্বাচিত হন। পরে বৃহত্তর পার্বত্য জেলা আবারও তাকে রেডক্রসের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসাবে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ত্ব দেন। রাজনীতির সুবাদ পুরুষ কিংবদন্তি জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী মত আদর্শিক ও সাহসী নেতা ছিলেন বলে দেশ আজ স্বাধীন।মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জাতির পিতার আদর্শের উজ্জীবিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়া ছিল তার প্রধান কাজ।দেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য তিনি ছিলেন অকুতোভয় দুঃসাহসী যোদ্ধা।১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে বৃহত্তর পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বৃহত্তর পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি,বান্দরবান,
খাগড়াছড়ির গর্ভণর ও রেডক্রসের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।রাজনীতির সুবাদ পুরুষ কিংবদন্তি জননেতা সৈয়দুর রহমান চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরে অশুভ শক্তির নিকটের পরাজিত হয়ে আর রাজনীতিতে আসা হলো না এই মেধাবী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর।চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মরিয়মনগর গ্রামে আজও সমাহিত আছে দেশপ্রেমিক, বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক বীরের। রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরে অনাদার অবহেলায় ১৯৮৮ সালে সালে ১লা জানুয়ারী চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া নিজ গ্রামে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় বীর জননেতা মরহুম সৈয়দুর রহমান চৌধুরী। নিজ বাড়িতে জানাযা নামাজের পর তার পারিবারিক কবরস্থান চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মরিয়মনগর গ্রামে পিতা মাতার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।যুগে যুগে তিনি তার কর্ম দিয়ে দেশ ও জাতির নিকট বিপ্লবীদের প্রেরণার উৎস,আদর্শিক, শ্রমিক শ্রেণির বটবৃক্ষ, দুঃসাহসিক, বঙ্গবন্ধু প্রেমিক,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,বরেণ্য সমাজসেবক হিসাবে মানুষের মণিকোঠায় বেচে থাকবে।সত্যিকারের একজন বীরের চলে যাওয়া মানে দেশ ও জাতির প্রভুত ক্ষতি সাধিত হল।তার কর্ম ও চিন্তা চেতনা নিয়ে আজকের প্রজন্ম এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর।আজীবন মানুষের মনের কোঠায় তিনি অম্লান ও শ্রদ্ধার পাত্র হিসাবে বেচে আছে।

লেখকঃ
কলামিস্ট ও সদস্য, অর্থ পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD