1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
র‌্যাগ ডে এবং র‌্যাগিং উৎসব -লায়ন মোহাম্মদ আবু ছালেহ্ - DeshBarta
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পটিয়া ৯৪ এর ফ্যামিলি মিলন মেলা ও মেজবান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত খালিয়াজুরীতে ৯ই ডিসেম্বর বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল শিশু আয়াত হত‍্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান – বঞ্চিত নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশন দুমকি উপজেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। গামছা পলাশ ও দিপা’র নতুন গান ‘চক্ষু দুটি কাজলকালো’ চট্টগ্রাম সিটি একাডেমি স্কুলের ক্লাস পার্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন  ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তৃণমূলে প্রতিষ্ঠায় নির্মূল কমিটির অবদান অনস্বীকার্য’ বাঁশখালী সম্মেলনে ড.সেকান্দর চৌধুরী দাকোপ রিপোর্টার্স ক্লাবের উপ নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে অরুপ সরকার নির্বাচিত। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে মসজিদে বয়স্কদের কোরআন শিক্ষা কোর্সের উদ্ভোধন মরহুম নুরুল ইসলাম ডিসি ফুটবল একাদশ ৩-১ গোলে জয়ী

র‌্যাগ ডে এবং র‌্যাগিং উৎসব -লায়ন মোহাম্মদ আবু ছালেহ্

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ২১৭ পঠিত

সম্পাদকীয়ঃ

তিন দশক আগেও উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে র‌্যাগিং নামের নেতিবাচক শব্দটির সঙ্গে অধিকাংশের পরিচয় ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত ছিল র‌্যাগ-ডে নামের শব্দটি। স্নাতকোত্তর পড়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার আগে ছাত্রছাত্রীরা একটি বিদায়ী আনন্দ-উৎসবের আয়োজন করত।

র‌্যাগ-ডে নামের এ উৎসব ছিল নিটোল আনন্দের। সারা দিন উৎসব শেষে সন্ধ্যায় বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সৌজন্যে উপাচার্যের পক্ষ থেকে একটি ডিনারের আয়োজন করা হতো। ডিনারের শুরুতে উপাচার্য মহোদয় পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তৃতা দিতেন। জীবনে চলার পথের যেন কিছু মূল্যবান পাথেয় দিতেন তিনি।

আজকাল র‌্যাগ-ডে নানা নামে পালিত হয়। আনুষ্ঠানিকতার আতিশয্য থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনেকের একাডেমিক গাম্ভীর্য অনেকটা যেন কমে গেছে। এখন র‌্যাগ-ডের রাজা-রানী নির্বাচন নিয়ে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়। তা অনেক সময় মাত্রাও ছাড়িয়ে যায়।

আমাদের সময় র‌্যাগ-ডেকে কেন্দ্র করে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিভা দিয়ে সাংস্কৃতিক উৎসব মাতিয়ে তুলতেন। আর এখন সব ভাড়ায় চলে। কে কত লাখ টাকা দিয়ে ব্যান্ডের দল এনে কনসার্টের আয়োজন করেছে, এর এক অলিখিত প্রতিযোগিতা হয়।

বেশ কয়েক বছর আগে একজন বিদায়ী ছাত্র দুঃখ করে বলেছিল, স্যার, আমি বন্ধুদের কাছে প্রস্তাব রেখেছিলাম সমাপনী উৎসবের জন্য বেশ বড় অঙ্কের যে চাঁদা উঠেছে, তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘পুওর ফান্ড’ তৈরি করতে পারি কি না। এতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের কিছুটা অবদান থাকবে। কিন্তু পত্রপাঠ আমাকে উড়িয়ে দিল বন্ধুরা।

তারপরও র‌্যাগ-ডে বা সমাপনী উৎসব নিয়ে তেমন বড় কোনো সংকট নেই। সংকট তৈরি হয়েছে র‌্যাগিং নিয়ে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বিষয়টি অনেকটা অপরিচিত ছিল। র‌্যাগিংয়ের আভিধানিক অর্থ ‘রসিকতার নামে অত্যাচার করা’।

সিনিয়র ছাত্ররা নবাগতদের গড়ে তুলতে নাকি নানারকম শাস্তি দিত। ক্রমে তা ভয়ংকর মাত্রা ছাড়িয়ে যেত। কে যে ওদের হাতে এমন শাসন করার দায়িত্ব দিয়েছে, কে জানে!

র‌্যাগিংয়ের অত্যাচার সহ্য না করতে পারায় একাধিক আত্মহত্যারও খবর বেরোয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সব মন্দ জিনিস দ্রুত আত্মস্থ করতে যেন আমরা পছন্দ করি।

এ ভয়াবহ বাস্তবতায় এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনকে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় থেকে র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হয়। এরপরও র‌্যাগিং বন্ধ করা যাচ্ছে না।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হয়ে বের হবে। দেশ পরিচালনায় অংশ নেবে। তারাই যদি বিবেকহীন অমানবিক আচরণ করে তাহলে এদের কাছ থেকে দেশ কী পাবে!

বিবেকের পরাজয় ও রুচি কতটা নিম্নগামী হয়ে পড়েছে যে, অনেক স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েই একটি বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। যেখানে সিনিয়র ভাইবোনের আশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওদের পথ চলা দৃঢ় হবে, সেখানে ওদের নিপীড়িত হতে হচ্ছে।

র‌্যাগিংয়ের যেসব নমুনার কথা শুনি, তা ভয়ংকর ও অমানবিক। যেমন- ১. তুমি সিনিয়রকে দেখে সালাম দাওনি কেন; এর জন্য একশবার কান ধরে ওঠবস কর, ২. শীতের রাতে খালি গায়ে এক ঘণ্টা ছাদে দাঁড়িয়ে থাক, ৩. পানাপুকুরে ডুব দিয়ে আস। তাছাড়া চড়-থাপ্পড় তো আছেই।

সেসব তথাকথিত ছাত্রছাত্রীদের বলছি পোশাকে-কথায় তোমরা নিজেদের খুব স্মার্ট ও আধুনিক মনে করছ। ধর, তোমরা এমন তিনজন স্বনির্বাচিত আধুনিক ছেলেমেয়ে পথের পাশের চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে চা হাতে গল্পে মশগুল। এ সময়ে একজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন।
গায়ে সস্তা ফতুয়া, পরনে মলিন ধুতি, পায়ে আধাছেঁড়া চটি, হাতে কিছু বইপত্র। তারও চায়ের তেষ্টা পেয়েছে। বেঞ্চির একটু ফাঁকা জায়গায় তিনি বসলেন। তোমাদের মতো আধুনিক তরুণ-তরুণীর কাছে এ এক উপদ্রব মনে হল। তোমরা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললে, ‘আঙ্কেল, আপনি ওইদিকের বেঞ্চিতে গিয়ে বসুন।’

তোমরা চিনতেই পারলে না, তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। উনিশ শতকে ইউরোপীয়রা দু’জন মাত্র আধুনিক ভারতীয়র কথা বলেছিলেন- একজন রাজা রামমোহন রায় আর অন্যজন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তারা পোশাকে নন, কর্মের মধ্য দিয়ে যুগ অতিক্রম করেছিলেন।

সে যুগে বসে তারা অনেক মানবিক ও আধুনিকমনস্ক হতে পেরেছিলেন। আমাকে একজন মনোবিজ্ঞানী বলেছিলেন, যারা এ ধরনের র‌্যাগিংয়ে যুক্ত থাকে; দেখবেন, তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য তেমন সুগঠিত নয়। অথবা এরা যে প্রেক্ষাপট থেকেই আসুক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বখে গেছে।

এই যে কিছু বখাটে তরুণ-তরুণী র‌্যাগিংয়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবে পা দেয়া সতীর্থদের মধ্যে ভীতি ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে, এর পরিণতি কী হচ্ছে? অনেকে এসব দুর্ব্যবহারে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অনেকে একটি ঘৃণা ও অশ্রদ্ধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো পার করছে। কারও কারও মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা জন্ম নিচ্ছে। অপেক্ষা করছে সিনিয়র হওয়ার; ঝাঁপিয়ে পড়বে জুনিয়রদের ওপর।

এখন মাধ্যমিক স্তরে প্রচলন হয়ে গেছে এই
র‌্যাগ ডে এবং র‌্যাগিং উৎসব ডে। আমরা কোথায় আছি।  আধুনিকতা মানে এই নয় অসভ্য ও অপসংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। আমাদের সন্তানদের স্কুলে এসমস্ত অনুষ্ঠান বর্জন করতে হবে। সুস্থ শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ।

লেখকঃ

সম্পাদক, দৈনিক দেশ বার্তা
সমাজকর্মী ও সংগঠক।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD