1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, একাত্মতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদঃ নেছার আহমেদ খান - DeshBarta
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, একাত্মতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদঃ নেছার আহমেদ খান

  • সময় বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩১ পঠিত

‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’খ্যাত সিআরবি এলাকায় বেসরকারি ইউনাইটেড গ্রুপের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিপত্র সম্পাদন- চট্টগ্রামবাসীকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। বলতে গেলে প্রতিদিনই মিছিল- সমাবেশে মুখরিত ছিল সিআরবি। তবে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের বিরোধিতার মুখে হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা – বেশ কিছুদিন যাবৎ স্থবির হয়েছিল। সম্প্রতি চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবকখ্যাত সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি চট্টগ্রামের দুই মন্ত্রীকে (তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ডঃ হাসান মাহমুদ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) সাথে নিয়ে- “চট্টগ্রামের সামগ্রিক স্বার্থে ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নগরীর সিআরবিতে ইউনাইটেড গ্রুপের হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনকে লিখিত ভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।” নেতৃবৃন্দ হাসপাতালটি রেলের অন্য জায়গায় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যও রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।চট্টগ্রামে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় গত ১৭ আগস্টে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, উক্ত চিঠিতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি, মোসলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি স্বাক্ষর করেছেন। চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের প্রতি সম্মান রেখে সম্মিলিত ভাবে একাত্মতা প্রকাশের জন্য চট্টগ্রামের মাননীয় মন্ত্রী ও এমপি মহোদয়দেরকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

স্মরণযোগ্য যে, ‘অবিভক্ত ভারতের বেঙ্গল এন্ড আসাম রেলওয়ে সদর দপ্তরের (সিআরবি) ভবন গুলো নির্মাণ করা হয় ১৮৯৫ সালে। শতবর্ষী বৃক্ষ সমৃদ্ধ পাহাড়-টিলা ও উপত্যকা ঘেরা এলাকাটি বর্তমানে জনসমাগমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সিআরবি ও আশপাশের পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর আবাস। শিরিষ গাছের তলায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান, বসে মেলা, চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বলীখেলা। এমন স্থানে – সড়কের পাশে বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল, পাশের খালি জমি, রেলওয়ে কলোনি রোড এবং রাস্তাটির দুইপাশের কর্মচারী কোয়ার্টারসহ মোট ছয় একর জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। যা ছিল অদূরদর্শী ও ব্যক্তিস্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সৌন্দর্যময় মনোমুগ্ধকর পাহাড়ের মাঝে প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করতে গেলে শতবর্ষী অনেক গাছ কাটা পড়ার পাশাপাশি এখানকার সবুজ নিসর্গ ধ্বংস হয়ে যেতো । উচু দালান আর শিল্প-প্রতিষ্ঠান ইট পাথরের শহরে শতবর্ষী বৃক্ষেরা সিআরবিকে এক টুকরো অক্সিজেন (ফুসফুস) প্ল্যান্ট বলা চলে। এই স্থানে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল- প্রকৃতি ও পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড। ফলে, শুরু হতেই সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারন। তারা বলেছেন, হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুর রব এর কবর, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই মাটি শহীদের স্মৃতিধন্য । মুক্তিযুদ্ধে এই সিআরবিতে অনেকেই শহীদ হয়েছেন। রেলের অনেক শ্রমিক কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এই সিআরবি তথা পাহাড়তলী ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। সেসব স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ শহীদের কবর, শহীদের নামে কলোনি, শহীদের নামে যে সড়ক -সেই জমি তারা বেসরকারি হাসপাতালকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন ‘। যা ছিল দেশের স্বার্থ বিরোধী। এখানে হাসপাতাল “নির্মাণ না করার জন্য” সিনিয়র নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর এই উদ্যোগকে আমরা অভিনন্দিত করছি। তিনি বলেছেন, “ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সিআরবি ভবনটির চট্টগ্রাম নয়, পুরো দেশের মধ্যে স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। এখানে শতবর্ষী অসংখ্য বৃক্ষ রয়েছে। এখানে হাসপাতাল হলে প্রকৃতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। এজন্য আমরা সিআরবি থেকে হাসপাতালটি রেলের অন্য জায়গায় স্থানান্তরের জন্য বলেছি। হাসপাতাল হবে, তবে সেটি অন্য জায়গায়। রেলমন্ত্রী এ বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, “সিআরবিতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কোন সুযোগ নেই। পিপিপির আওতায় হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প সিআরবি থেকে সীতাকুন্ডের কুমিরায় স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়ায় রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মাননীয় মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছি।”
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “স্থানীয় জনগণের মাঝে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টি জানানো উচিত। তাই আমরা বিষয়টি রেলমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছি। মন্ত্রীমহোদয় বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।”


আমরা মনে করি, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন-পাহাড় ধ্বংস করে বন্দরগরীর ফুসফুস খ্যাত চিরসবুজ সিআরবিতে শুধু হাসপাতাল নয়, কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা সমীচীন হবে না। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক সিআরবি এলাকায় পিপিপির আওতায় হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সীতাকুন্ডের কুমিরায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় কমিটির সদস্যদেরও আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, সিআরবি যেনো অক্ষত থাকে। আমরা যেনো প্রাকৃতিক অক্সিজেনের এই ভান্ডার হতে প্রানখুলে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারি।

সমাজকর্মী,লেখক ও কলামিস্ট

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD