1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
স্বমহিমায় আলোকিত কল্যাণব্রতী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, - DeshBarta
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পটিয়া ৯৪ এর ফ্যামিলি মিলন মেলা ও মেজবান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত খালিয়াজুরীতে ৯ই ডিসেম্বর বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল শিশু আয়াত হত‍্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান – বঞ্চিত নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশন দুমকি উপজেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। গামছা পলাশ ও দিপা’র নতুন গান ‘চক্ষু দুটি কাজলকালো’ চট্টগ্রাম সিটি একাডেমি স্কুলের ক্লাস পার্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন  ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তৃণমূলে প্রতিষ্ঠায় নির্মূল কমিটির অবদান অনস্বীকার্য’ বাঁশখালী সম্মেলনে ড.সেকান্দর চৌধুরী দাকোপ রিপোর্টার্স ক্লাবের উপ নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে অরুপ সরকার নির্বাচিত। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে মসজিদে বয়স্কদের কোরআন শিক্ষা কোর্সের উদ্ভোধন মরহুম নুরুল ইসলাম ডিসি ফুটবল একাদশ ৩-১ গোলে জয়ী

স্বমহিমায় আলোকিত কল্যাণব্রতী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল,

  • সময় শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৯৫ পঠিত

তার পারিবারিক পরিচয় কারও কাছে অজানা নয়। তিনি যে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য, সেই পরিবারটির রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য। তার মাতামহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মা বাংলাদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাবা প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ও ওয়াজেদ মিয়া। কাজেই পাদপ্রদীপের আলোয় এসে রাজনৈতিক জীবন বেছে নেওয়ার সব সুযোগ তার ছিল। কিন্তু সে পথে গেলেন না সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বেছে নিলেন অন্য এক জীবন। সে জীবনও মানুষের আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কল্যাণব্রতে নিবেদিত। বাঙালি নারী হয়েও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজেকে এই সাধনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন পারিবারিক সংস্কৃতি থেকে অর্জিত ইচ্ছাশক্তির গুণে। ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ আমরা পাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারে। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার পর তার জীবিত দুই কন্যা রাজনীতির প্রতি বিমুখ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে দেশ সেবাকেই ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন তাঁরা,

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আজ একজন বিশ্বখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বেই তিনি অটিস্টিক শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য। কেউ ভাববেন না প্রধানমন্ত্রীর কন্যা হিসেবে তিনি এই সুযোগ পেয়েছেন। একজন স্বীকৃত মনোবিজ্ঞানী এবং অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেই তার এ অর্জন। সায়মা ওয়াজেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ক্লিনিক্যাল মনস্তত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্কুল মনস্তত্ত্বেও রয়েছে তার ডিগ্রি। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। শিশুদের অটিজম এবং স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব সংস্থা তাকে ‘হু অ্যাক্সিলেন্স’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে,
৯ ডিসেম্বর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিনে তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে ‘বেগম রোকেয়া দিবস-২০২১’ ও ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি অনুরোধ করবো, আজকে আমার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন, সবার কাছে দোয়া চাই।’ অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য পুতুলের অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে (সায়মা ওয়াজেদ) অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে। একটা বিরাট পরিবর্তন আনতে পেরেছে সায়মা ওয়াজেদ। সেটা হলো এখন কেউ এই অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বলে তাদেরকে আর লুকিয়ে রাখে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় এই অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধী শিশুরা জন্ম নিলে বাবা-মা তাদের সন্তানকে লুকিয়ে রাখতো। যদি কোনো মায়ের সন্তান, কিন্তু সেই জন্ম দিলো কেন মাকেও পরিবারে অনেক সময় লাঞ্চিত হতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এমনকি এই ধরনের বিকলাঙ শিশু বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু জন্ম নিলে ওই নারীকে তার স্বামী তালাক দিয়ে দিয়েছে বা আরেকটা বিয়ে করেছে। এই ধরনের একটা অবস্থা আমাদের সমাজে ছিল। এই শিশুটিকে লুকিয়ে রাখতো, এই শিশুকে সমাজের সামনে আনতে চাইতো না, আনতে লজ্জা পেতো।’ অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী,
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার একমাত্র মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭২ সালের আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সারাবিশ্বে অটিস্টিক শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন পুতুল। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য ও একজন মনোবিজ্ঞানী। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তার কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে পুতুলকে ‘ডব্লিউএইচও অ্যাক্সিলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে, মনস্তত্ত্ববিদ সায়মা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকসের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ২০১৩ সালের জুন থেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন,
কবিগুরুর এই কথাগুলো কী চমৎকারভাবে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) দূত নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সায়মার সঙ্গে দূত হিসেবে আরও রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ, ফিলিপাইনের জাতীয় সংসদের উপস্পিকার লরেন লেগার্দা ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রধান জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ তোসি এমপানু-এমপানু। সিভিএফের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আকাক্সক্ষার, সংস্কৃতি, অর্থায়ন, সংসদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ঝুঁকিকে ছয়টি মূল বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ঝুঁকির বিষয়ে ‘থিমেটিক অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিএইচও) মহাপরিচালকের উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল,
মানুষের ধর্ম নিবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও তার সীমা নেই। অন্তহীন সাধনার ক্ষেত্রে তার বাস। জন্তুদের বাস ভূমণ্ডলে, মানুষের বাস সেইখানে যাকে সে বলে তার দেশ।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD