1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News Editor : News Editor
ত্যাগের উদ্ভাসিত একটি নাম মৃত্যুঞ্জয়ী বীর এস এম ইউসুফ - তসলিম উদ্দিন রানা - DeshBarta
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইস্ট ডেল্টা এনএস গার্ডেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনঃ মধ্যবিত্তের আয়ত্তে মিলছে স্বপ্নের ফ্ল্যাট নূরানী পাড়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের দ্বিবার্ষিক কার্যকরী পরিষদ গঠিত পটিয়ায় পাউবো’র ১১শ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্ভোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চকবাজারে দিনে দুপুরে তালা কেটে সাংবাদিকের বাসায় দুধর্ষ চুরি। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে – মুহাম্মদ বদিউল আলম ইতিহাসবেত্তা সোহেল ফখরুদ-দীনের বাসভূমি পুরস্কার লাভ এস. আলম গ্রুপ দেশের উন্নয়নে, মানুষের কল্যানে নিয়োজিত। লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি,সৌদি আরব’র ৪র্থ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চন্দনাইশে ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন করলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি “সিজল”র শান্তিরহাট শাখার শুভ উদ্ভোধন

ত্যাগের উদ্ভাসিত একটি নাম মৃত্যুঞ্জয়ী বীর এস এম ইউসুফ – তসলিম উদ্দিন রানা

  • সময় সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৪৩ পঠিত

মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা বীর এস এম ইউসুফ।
স্বাধীনতা যুদ্ধে ও ৭৫ এর পরবর্তী তার অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়।
এস এম ইউসুফ ছিলেন একজন আপদমস্তক রাজনীতিবিদ কিংবদন্তি জননেতা।তিনি ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে পদায়ন করেন।একজন সাধারণ পরিবারের জন্মগ্রহণ করলেও তার মত মেধাবী,সুবক্তা,সাহসী, রণকৌশলী,অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা,সুবাদ পুরুষ কিংবদন্তি ছাত্রনেতা ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্রগ্রাম জেলায় বিএলএফ প্রধান ছিলেন।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি,যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,বৃহত্তর চট্রগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্রগ্রাম জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৪৬ সালে ৯ এপ্রিল চট্রগ্রাম জেলা পটিয়া উপজেলা মনসা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী আব্দুস সালাম ও মাতা রাবেয়া খাতুন একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন।মনসা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারী,৬২ সালে হাবিলাসদ্বীপ হাই স্কুল থেকে এসএসসি,৬৪ সালে চট্রগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি,৬৬ সালে ডিগ্রি পাস করে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে প্রথমে কারাভোগ করেন।পরবর্তী চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন।ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান অনস্বীকার্য। ৬৯ গণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি অসীম সাহসী বীর হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এস এম ইউসুফ স্বাধীন বাংলার নিউক্লিয়াস সদস্য হিসাবে সারা বাংলায় স্বাধীনতা সংগ্রামে অসম সাহসীকতার সাথে যুদ্ধ করেছেন। তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিব বাহিনীর কমাণ্ডার হিসাবে রামগড় ও ফটিকছড়ির হেয়াকোতে পাকিস্তানি আর্মি বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।পরে হরিণা ক্যাম্পে অবস্থান করেন।ফটিকছড়িতে স্থায়ী ক্যাম্প হিসাবে অবস্থান ছিলেন।অসম সাহসীকতার সাথে অধিনায়ক হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে একমাত্র তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ও সবকিছু নিজে নিয়ন্ত্রণ
করতেন।তার নেতৃত্বে চট্রগ্রামে বিভিন্ন অপারেশন গুলো হত।তিনি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলার বিএলএফ অধিনায়ক ছিলেন।
আওয়ামী রাজনীতির কঠিন দুঃসময়ে ৮১ সালে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসাবে জননেতা এস এম ইউসুফ মুজিববাদের লিফলেট ১লাখ কপি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করেন।
বঙ্গবন্ধু স্নারকগ্রন্থের সম্পদনা করেন।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যার পরে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়।এসময়ে তিনি ছদ্মনাম শামীম ভাই দিয়ে সারা বাংলা আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেন।খন্দকার মোসতাক,জিয়ার স্বৈরচ্ছারী সরকারের বিরুদ্ধে একমাত্র ব্যক্তি যিনি অসম্ভব সাহসীকতার সাথে আপোষহীন ভাবে কাজ করে যান।খেয়ে না খেয়ে,দিনের পর দিন হুলিয়া মাথায় নিয়ে নির্ঘুম কাটিয়ে দলের জন্য কাজ করেছেন যা ইতিহাসের সাক্ষ্য।সেই সময় সুবিধাভোগীরা ক্ষমতার জন্য নতুন সরকারের সাথে আতাত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় আর কিছু লোক দেশান্তরী হয়।জননেতা বীর ইউসুফ ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক নেতা।যার কোন সময়ে ক্ষমতার লোভ ছিল না।দল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার অসম দরদ ছিল বলে কারো সাথে কোনদিন আপোষ করেনি।
মৃত্যুঞ্জয়ী এস এম ইউসুফ একটি নাম নয় ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
আদর্শের উত্তরসুরীর হিসাবে স্বাধীন যুদ্ধে করেন।জননেতা ইউসুফ একটি বীরের নাম।বর্তমানে রাজনীতিতে ইতিহাসের নায়ককে চিনে কিনা সন্দেহ। তার কেউ জানে,তিনি কে,কি তার পরিচয়,কেন যুদ্ধ করেন,কিজন্য বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবনের সোনালী অধ্যায় শেষ করে দিয়েছেন।এসব প্রশ্ন আজ ঘুরপাক খাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকে তার নাম জানে কিনা সন্দেহ আছে।তবুও ইতিহাসের রাখাল রাজা এই মহান মানুষটির নাম বীর চট্রলার ইতিহাসের পটিয়া উপজেলার গর্বিত সন্তান বীর এস এম ইউসুফ।
বাল্যকালে গ্রামের স্কুলে পদার্পণ করে চট্রগ্রাম কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন।চট্রগ্রামের মেধাবী রাজনীতির তীর্থ স্থান চট্রগ্রাম কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন।আদর্শিক,তাত্ত্বিক,অসম্ভব দুরদর্শিতার, সাহসী,মেধাবীও দেশপ্রেমিক বীর ছিলেন।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পুরো পরিবারকে নির্মম হত্যার পর যখন কেউ মুখ খোলার সাহস করেননি এমনকি সবাই পালিয়ে যায় সেই কঠিন দুঃসময়ে যে লোকটা তখনপ্রকাশ্যে চট্টগ্রাম তথা সারা বাংলায় ঘুরে ও রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন তার নাম বীর এস এম ইউসুফ। জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অনেক লোকজনকে সংগঠিত করে অবস্থান নেন। খুনিদের প্রতিরোধ করার
সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।
বীর ইউসুফ সারা বাংলায় ছাত্র-যুব সমাজকে নিয়ে আদর্শিক কর্মীদের নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামের চেষ্টা করেন।মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে নিজের জীবন দিতে কার্পণ্য করেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে ১৯৭৫ সালে ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক
অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়।এই অভ্যুত্থানের পক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিছিলে
নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বীর এস এম ইউসুফ।৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থানে খালেদ মোশারফ
নিহত হলে এস এম ইউসুফ বেশ কয়েকজন সঙ্গীসহ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।ভারত থেকে আসা-যাওয়া করে দেশের অভ্যন্তরে সহকর্মীদের নিয়ে তিনি স্বশস্ত্র সংগ্রামেরনেতৃত্ব দেন।এ সময় তারা কিছু জায়গায় টার্গেট করে আক্রমণ করতেন।ঢাকা কিছু এলাকায়,চট্রগ্রাম নিউ মার্কেট সংলগ্ন সড়কে, দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনসহ কয়েক স্থানে
গ্রেনেড হামলায় তিনি নেতৃত্ব দেন।প্রতিটি সংগ্রামে তার রনকৌশল ছিল ভিন্নতর।মূলত সামরিক সরকারকে অস্থিতিশীল করতে তিনি ভিন্নমাত্রায় এসব কর্মকান্ড চালাতেন।১৯৭৩ সালের সংসদের এমপিদের নিয়ে তিনি প্রবাসীসরকার গঠনের চেষ্টা করেন।এতে তিনি ব্যর্থ হন।
বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের এক পর্যায়ে ১৯৭৬ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন সামরিক সরকার এস এম ইউসুফ ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন।

সেই সময় তিনি হুলিয়া নিয়ে ছদ্মনাম শামীম ধারন করে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ত্ব দেন। রাজনীতির সুবাদ পুরুষ কিংবদন্তি জননেতা এস এম ইউসুফ ছিলেন বলে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত করতে ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় যান।এমনকি চোরাগুপ্ত হামলা পরিচালনা করেন। চট্রগ্রাম,ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় তার অবস্থান ছিল ছদ্মবেশ।কাউকে তিনি বুঝতে দিতেন না।কিভাবে, কোথায় অপারেশন হবে তার জানা ছিল।একসাথে তিনি অনেক জায়গা টার্গেট করে কাজ করতেন। নিজে ছিলেন অসম সাহসী বীর। নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো আপোষ কিংবা পিছপা হয়নি।মৃত্যু আলিঙ্গন করে জাতির পিতার আদর্শের উজ্জীবিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়া ছিল তার প্রধান কাজ।দেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য তিনি ছিলেন অকুতোভয় দুঃসাহসী যোদ্ধা।১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটিয়া সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করেন কিন্তু টাকা আর পেশিশক্তির নিকট পরাজিত হন।১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পটিয়া থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু অশুভ শক্তির নিকটের পরাজিত হয়ে আর রাজনীতিতে
আসা হলো না এই মেধাবী সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধের নায়ক বীর এস এম ইউসুফ।
চট্রগ্রাম পটিয়া উপজেলা মনসা গ্রামে আজও সমাহিত আছে দেশপ্রেমিক, বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক বীর এস এম ইউসুফ।২০১৬ সালে ১৫ নভেম্বর রাত ২টায় ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন মহান বীর এস এম ইউসুফ। ঢাকা,চট্রগ্রাম ও বাড়িতে জানাযা নামাজের পর তার পারিবারিক কবরস্থান চট্রগ্রাম পটিয়া উপজেলা মনসা গ্রামে পিতা মাতার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
যুগে যুগে তিনি তার কর্ম দিয়ে দেশ ও জাতির নিকট বিপ্লবীদের প্রেরণা উৎস,আদর্শিক,বই প্রেমিক,
বটবৃক্ষ,রাজনীতির গুরু,লেখক,গবেষক বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির নেতা,অনলবর্ষী বক্তা,দুঃসাহসিক,বঙ্গবন্ধু
প্রেমিক হিসাবে মানুষের মণিকোঠায় বেচে থাকবে।সারা বাংলায় হাজার হাজার নেতা বানানোর কারিগর ছিলেন।এমন কোন জেলা নাই তার কর্মী নেই।সত্যিকারের একজন বীরের চলে যাওয়া মানে দেশ ও জাতির প্রভুত ক্ষতি সাধিত হল।তার কর্ম ও চিন্তা চেতনা নিয়ে আজকের প্রজন্ম এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর।আজীবন মানুষের মনের কোঠায় তিনি অম্লান ও শ্রদ্ধার পাত্র হিসাবে বেচে আছে।

লেখকের –
কলামিস্ট ও সদস্য, অর্থ পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD