1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
কিশোর অপরাধ - মনোনিবেশ জরুরীঃ বাবুল কান্তি দাশ   - DeshBarta
সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সাংবাদিক তাজ ফারাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত “যুগল গল্প”- বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ময়মনসিংহে (বাকৃবি) এর আম বাগানে অটো চালক খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৪ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী প্রেস ক্লাব এর নির্বাচনে পাতা সভাপতি ও রতন সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত অস্ত্রসহ আটকের নাটক করে আটকের অভিযোগ এনে চাটখিলে যুবলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ডেন্টাল এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ডা: বিশ্বজিত চৌধুরী স্মরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং শতাব্দীর মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। আইটি ট্রেনিং প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উপহার। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক এম পি। মাদারবাড়ী শোভনীয়া ফুটবল একাডেমি শুভ উদ্ধোধনী ও গুনিজন সংর্বধনা অনুষ্টান সম্পন্ন। ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও কৃষকদের বিনা মুল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন বাঁশখালীতে দাবি আদায়ের লক্ষ্য স্বাস্থ্য সহকারীদের অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি

কিশোর অপরাধ – মনোনিবেশ জরুরীঃ বাবুল কান্তি দাশ  

  • সময় শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪১ পঠিত

উপসম্পাদকীয়ঃ

ঐতিহ্য, কৃষ্টি,আত্মমর্যাদাবোধ যেন শিশুদের মধ্যে জেগে ওঠে। কৌলিন্য সবার মধ্যেই আছে।সেটা জাগানো লাগবে।প্রত্যেকে যেন তার বৈশিষ্ট্যের উপর দাঁড়াতে পারে।পরিবারগুলিতে কৃষ্টি যদি উচ্ছল হয়ে না থাকে, বংশানুক্রমিতা যদি অন্তপ্রক্ষিপ্ত হয় তাহলে সন্তান সন্ততি হীন হয়ে পড়ে।অপরের ভাল যা তা নেওয়া যায় না।আবার নিজেদের যদি কিছু ভাল থাকে যা অপরের পক্ষে সুবিধাজনক তা দেওয়া যায় না এধরণের পরিবেশ শিশু মনকে বিক্ষিপ্ত করে তোলে।শিশু মনে প্রভাব বিস্তার করে নিজস্বার্থী হয়ে উঠতে।তখন সে জড়িয়ে পড়ে অপরাধে।৭ – ১৬ বছর বয়সী শিশুদের কিশোর বলা হয়।কিশোর অপরাধ বলতে
অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে সাধারণত কিশোর অপরাধ বলা হয়।সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এই অপরাধ সংঘটিত হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিবারের ও সমাজের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারনে।শিশুকে যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাল্যকাল থেকে ধর্মীয় বিধিবিধান এবং অনুশাসনের মাধ্যমে তাদের বৈশিষ্ট্যানুগ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।
” ঝোঁক না বুঝে শিক্ষা দিলে,পদে পদে কুফল মিলে।।
ধর্মীয় অনুশাসন শৃঙ্খলায় রেখে শিশুরা যেন নিজেদের পরিপূর্ণ বিকশিত করার সব রকম সুযোগ পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান সমাজের অস্হিরতার ফলে শিশু কিশোররা ক্রমাগতভাবে মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে অপরাধ প্রবনতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন,অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাশ্য,মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা লোপ ইত্যাদি কিশোর অপরাধ প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলছে।
সমাজে আইন শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতঃ শিশুদের জনসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত করা কিশোর অপরাধের রাশ টানতে সহায়ক।
কৈশোরকাল মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।এরপর বিভিন্ন বিধি বিধান ও সামাজিক দায় দায়িত্ব আরোপিত হয়।এ সময়ে তাদের যদি যথার্থভাবে গড়ে তুলতে অপারগ হই তাহলে সবকিছু ভেঙ্গে পড়বে।এক্ষেত্রে পারিবারিক আবহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রথম বিদ্যাপীঠ পরিবার।মা তার প্রথম শিক্ষক।মা-বাবার আদর্শানুগ চলন যদি ব্যাহত হয়, নিয়ত যদি ঝগড়াঝাটি লেগে থাকে শিশুমনে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।সন্তানের প্রতি স্নেহের বৈষম্য,স্বাভাবিক জীবন-যাপনের অনিশ্চয়তা,অহেতুক মারধর ও নির্যাতন শিশুকে ভায়োলেন্সে উৎসাহিত করে।হটকারী স্বাধীনতাদান
শিশুকে অপরাধী করে।শিশুকে অমার্জিত স্হূলরুচির পত্র-পত্রিকা,
সস্তা সাহিত্যপাঠ অপরাধ প্রবনতায় আকৃষ্ট করে।শিক্ষার নিম্নমান শিশুকে বিপথে পরিচালিত করে।দারিদ্র্য, ভাল পরিবেশ ও বিনোদনের অভাব কিশোর অপরাধের আরো একটি কারণ।শিশু-কিশোররা হীনমন্যতায় ভুগলে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।আবেগ তাড়িত হয়ে ভাল-মন্দ বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।পারিপার্শ্বিক অবস্হা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে।অশ্লীল চিত্তবিনোদন, অপ-সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ,সামাজিক শোষণ বঞ্চনা,ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক সম্পর্ক, খেলার সাথীর সাহচর্য অনেকাংশে কিশোর অপরাধ ত্বরান্বিত করে।
শিশু কিশোররা দেশ ও জাতির কর্ণধার।তাদের উন্নতি ও অগ্রগতি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি।শিশু-কিশোরদের যথার্থ অর্থে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে দেশ ও জাতি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।কেন তারা অপরাধ করে তা নিরাকরণে প্রবৃত্ত হতে হবে।শাস্তি বা অন্য কোন আইন প্রয়োগে তা রোধ করা সম্ভব নয়।সংশোধনাগারের অপর্যাপ্ততা,প্রবেশন অফিসারের স্বল্পতা কিশোর অপরাধ নিরাময়ে সহায়ক নয়।শারীরিক শাস্তিমূলক ব্যবস্হা কোনমতে কাম্য নয়।প্রতিরোধে প্রয়াসী হতে হবে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আদর্শ পাঠশালা হতে হবে পরিবারকে।চাহিদাপ্রবন মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া,স্নেহ মায়া মমতা ভালবাসায় তাদের আগলে রেখে এগিয়ে নিতে প্রবৃত্ত হতে হবে।সঞ্চয়োন্মাদ সমাজ ভালো কিছু সৃজন করতে অক্ষম।আদর্শানুগ চলনে সপারিপার্শ্বিক বাঁচা বাড়ায় যদি মনোযোগী হই,শিশুকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশ দিই তাহলে কিশোর অপরাধ দমনে এবং তার ক্রমবর্ধমানতা হ্রাসে সফল হব।

লেখকঃ প্রধান শিক্ষক,  কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD