1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
লেখক মুশতাক জেল খানা থেকে মায়ের কাছে লেখা চিঠি।মায়ের অপেক্ষা আর ফুরোবে না! - DeshBarta
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (চপই) ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল” দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ করোনার দুর্দিনে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য মাসব্যাপী বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইফতার আয়োজন যুব রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রামকে রেড ক্রিসেন্ট সিটি ইউনিটের অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান ২২ এপ্রিল থেকে মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবি দোকান মালিক সমিতির কবিতাঃ “মাহে রমজান ” মোঃ জসীম উদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের হত্যা কান্ডের সাথে এস আলম গ্রুপ দায়ী নয়, মাফিয়া সিণ্ডিকেট-ই দায়ী। শ্রমিকের পারিশ্রমিক (মজুরি) তার ঘাম শুকানোর পূর্বে দিয়ে দাও”— মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) চিত্র নায়ক ওয়াসিম আর নেই।

লেখক মুশতাক জেল খানা থেকে মায়ের কাছে লেখা চিঠি।মায়ের অপেক্ষা আর ফুরোবে না!

  • সময় রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৮ পঠিত

আমার একমাত্র ছেলে মুশতাক। ছেলেটা আর কখনও জানতে চাইবে না- বাসায় আজ কী রান্না হয়েছে, আম্মা?’ কারাগারে মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদকে নিয়ে কিছু বলতেই অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলেন তার মা জেবুন্নেছা রাজ্জাক। কারাগারে যাওয়ার পর তার সঙ্গে একবারও দেখা হয়নি মায়ের। তবে মাঝেমধ্যে চিঠি পাঠাতেন।

সব মিলিয়ে জেলখানা থেকে সাত-আটটি চিঠি পাঠিয়েছে মুশতাক। প্রেরক হিসেবে বউমার নাম থাকত। তবে চিঠি এলেই বাসার সবাই একত্র হয়ে সেটা পড়তাম। কারাগার থেকে পাঠানো মুশতাকের চিঠির অপেক্ষায় থাকতাম। সর্বশেষ চিঠিতে তাজউদ্দীনের ওপর লেখা একটি বইসহ চারটি বই পাঠাতে বলেছিল। সে বইও পাঠানো হলো না, আর ছেলেকেও জীবিত পেলাম না,’ চোখ মুছতে মুছতে বলেন ছেলে হারানো এই মা।
মুশতাকদের বাড়ির নাম ‘পরম্পরায়’। লালমাটিয়ার ডি ব্লকের বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করে মুশতাকের পরিবার। বাড়ি ঘিরে এখন শোক আর শূন্যতা।
গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ড্রইংরুমে চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা পড়ছিলেন এক বয়স্ক ব্যক্তি। জানা গেল, তিনি মুশতাকের বাবা আবদুর রাজ্জাক। একজন সংবাদকর্মী বাসায় এসেছেন, এটা দেখে তিনি পড়া বন্ধ রাখলেন। বললেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। আর এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমার ছেলেকে তো আর ফেরত পাব না।’
একটু পরই ড্রইংরুমে এসে বসলেন মুশতাকের মা। চোখে-মুখে গভীর বেদনার ছাপ স্পষ্ট। তবে কথায় তার গভীর ব্যক্তিত্ব। বললেন, ‘হাজারে এমন ছেলে মেলা কঠিন। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেছে। ছবি তুলতে ভালোবাসত। প্রকৃতিপ্রেমী ছিল। জেলখানা থেকে যে চিঠি লিখেছে, সেখানেও তার গাছপালা, পাখি আর প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। একবার একটি চিঠিতে লিখেছে, পাখিরা উন্মুক্ত। ওরা আকাশে উড়ছে। আর আমরা বন্দি আছি। তবে জেলখানায় খুব খারাপ আছে- এমন কথা কখনও লিখেনি। এটাও লিখেছিল, সেখানে প্রচুর বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।’

জেবুন্নেছা বলেন, ‘সর্বশেষ গত শনিবার মুশতাকের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। জেলখানা থেকেই ও ফোন করেছিল। চার-পাঁচ মিনিট আমরা কথা বলতে পেরেছিলাম। বউমা অসুস্থ হয়ে তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এ অবস্থায় কে আমাদের দেখভাল করবে- এটা নিয়ে চিন্তিত ছিল। ওর বন্ধুরা আমাদের খোঁজখবর নেয় কিনা, তাও জানতে চায়।’

‘২৩ ফেব্রুয়ারি ওর মামলার শুনানির দিন ছিল। আমার বোনের ছেলে ওই দিন আদালতে গিয়েছিল। ওই দিন মুশতাক ওকে বলছিল, ভালো আছে। হাসিখুশিই ছিল। আর ওর সঙ্গে যারা কারাগারে ছিল তবে পরে জামিনে বেরিয়েছে, তারা বলত, মুশতাক কোনো রোগশোকে আক্রান্ত হয়নি। হঠাৎ এমন দুঃসহ খবর আমাদের শুনতে হয়েছে’, বলেন মুশতাকের মা।

তার পাশেই বসে ছিলেন লিপা আক্তার, মুশতাকের স্ত্রী। খুব ভেঙে পড়েছেন তিনি। বললেন, ‘সততার প্রশ্নে আমার স্বামী ছিল অনন্য। খুব অল্প সময়ে মানুষকে আপন করে নেওয়ার একটা অসম্ভব শক্তি তার ছিল। কোনো জায়গায় সে যাওয়ার পর সেখানে দ্রুত তার ভক্ত ও অনুসারী তৈরি হতো। এত মানুষের ভালোবাসা, এটা তার সততার জয়। কারাগারে যাওয়ার পর মুশতাকের সঙ্গে দেখা হয়নি।’

লিপা ও তার শাশুড়ি যখন কথা বলছিলেন, তখনই বাসায় প্রবেশ করেন তাদের পরিচিত চার ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন লিপা। তারা বারবার তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। আর লিপা বলছিলেন, ‘এই তো আছি।’

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD