1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
আদর্শিক বিচারকার্যতা দেখিয়ে দিলেন বাঁশখালীর কৃতিসন্তান, যুগ্ম জেলা জজ মাহবুবুর রহমান | - DeshBarta
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (চপই) ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল” দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ করোনার দুর্দিনে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য মাসব্যাপী বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইফতার আয়োজন যুব রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রামকে রেড ক্রিসেন্ট সিটি ইউনিটের অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান ২২ এপ্রিল থেকে মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবি দোকান মালিক সমিতির কবিতাঃ “মাহে রমজান ” মোঃ জসীম উদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের হত্যা কান্ডের সাথে এস আলম গ্রুপ দায়ী নয়, মাফিয়া সিণ্ডিকেট-ই দায়ী। শ্রমিকের পারিশ্রমিক (মজুরি) তার ঘাম শুকানোর পূর্বে দিয়ে দাও”— মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) চিত্র নায়ক ওয়াসিম আর নেই।

আদর্শিক বিচারকার্যতা দেখিয়ে দিলেন বাঁশখালীর কৃতিসন্তান, যুগ্ম জেলা জজ মাহবুবুর রহমান |

  • সময় সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১
  • ২২৯ পঠিত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

আধুনিক যুগের প্রথমদিকে বাংলায় বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের নানা কাঠামো যুগপৎ চালু ছিল, যাদের এখতিয়ার সুস্পষ্টভাবে আলাদা ছিল না বলে তারা প্রায়শই একে অপরের এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করত। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে আইন তৈরি করত ও তার ব্যাখ্যা দিত। বাংলার অস্থির, দ্বন্দ্বপূর্ণ সামাজিক কাঠামোতে বিচারব্যবস্থার বহু বিচিত্র ধারা বিকাশ লাভ করেছিল। তত্ত্বগতভাবে কাজীরা ছিলেন সুলতানি বা মুগল শাসকদের প্রতিনিধি। কিন্তু প্রত্যেক শহরের ইসলামী বিচারকদের এমন একটা কর্তৃত্ব ছিল যা রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন। সুলতান বা দেওয়ানের ছিল প্রকৃত ক্ষমতা, কিন্তু কাজীর অবস্থান নির্ভরশীল এমন একটা কর্তৃত্বের ওপর যার কোনো সীমাবদ্ধ এলাকা ছিল না। কাজীদের এ কর্তৃত্ব নির্ভর করত তাদের ইসলামী আইনের অনুশাসনগুলো ব্যাখ্যা করার সামর্থ্যের ওপর এবং অন্যদিকে স্থানীয় শহুরে চাকুরিজীবী অভিজাত লোকদের মধ্যে তাদের অবস্থান ও মর্যাদার ওপর। ইসলামী আইন সম্পর্কে কাজীর বিশেষ জ্ঞান তার কর্তৃত্বের একটা স্থানীয় বৈধতা দান করত যা ছিল সুলতানি বা মুগল শাসকদের নিয়মকানুন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। ফলে, কাজীদের বিচার-সংক্রান্ত কর্তৃত্ব ছিল একটা বিকল্প বিচার ক্ষমতা, যা মুসলমান ও অমুসলমান উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহূত হতো বিভিন্ন বিরোধ মীমাংসা, জমি ক্রয়-বিক্রয়, নিবন্ধন ও ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি বিধানের কাজে। কাজীরা কখনও কখনও সার্বভৌম শাসকের নানা সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতেন।তখন ছিল কিছু কিছু আদর্শিক বিচারকও যারা রাষ্ট্রের নতির ঝড় খালী করার ব্যাস্ততায়।ঠিক এমন এক সময় বাঁশখালী বাসীর গর্ভের ধন বিচারক হিসেবে কাজ শুরু করে তখনই তার নমুনা হিসেবে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে গেলেন যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকে ১১ মাসে ১ হাজার ৩৪২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। পাশাপাশি আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার এর মাধ্যমে সকলের মন জয় করতে সক্ষম হন। ফলে আইনজীবীদের বিদায় সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রমাণিত হল তিনি একজন অসাধারণ বিচক্ষণ বিচারক ছিলেন।
জানা যায়, যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত ৩নং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজার আদালতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১ বছর কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দীর্ঘ দু’যুগ ধরে পড়ে থাকা মামলাগুলির জট কমানোর চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৫৩৪টি দেওয়ানী ও ৮০৮টি ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হন। এর ফলে জেলার গ্রামগঞ্জে অসহায়, গরীব বিচারপ্রার্থীগণ অনির্দিষ্ট হয়রানি থেকে মুক্তি পান। এ সকল কারণে তিনি বিচারপ্রার্থী তথা জেলাবাসীর অন্তরে স্থান করে নেন।
তাঁর বদলীতে জেলাবাসী একজন গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অভিভাবককে হারিয়েছেন, এমন মন্তব্য করেন গ্রামগঞ্জ থেকে আসা বিচারপ্রার্থীগণ। তাঁর বিদায়ে নিরাশ হয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে মামলার জটে আটকে থাকা বিচারপ্রার্থীরা। তার বিদায়ে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি প্রথম বারের সফল ও অমায়িক বিচারককে সংবর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। যেটা কক্সবাজারে এই প্রথম।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী সদস্য এড. রমিজ আহমদ বলেন,
এর আগে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে কোন বিচারককে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়নি। তাঁর সততা, নৈতিকতা, দক্ষতা ও আইনজীবীদের সাথে অমায়িক ব্যবহারের তিনি এটি আদায়ে সমর্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাহবুবুর রহমান কক্সবাজার জেলা থেকে বদলী হয়ে পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে একই পদে যোগ দিচ্ছেন। তিনি ২০০৬ সালের ১৫ জানুয়ারি বিচার বিভাগে যোগদানের পর দেশের বিভিন্ন আদালতে দায়িত্ব পালনকালীন ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালে প্রায় ৮ হাজার বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তি করেন। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করা মাহবুবুর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে মেধাতালিকায় (স্ট্যান্ড) স্থান করে উত্তীর্ণ হন। চট্টগ্রামের বাশঁখালীর এ মেধাবী বিচারক দেশের
আলোচিত দশট্রাক অস্ত্র মামলায় টানা ১৪ ঘন্টা জবানবন্দী রেকর্ড করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনি সেসময় চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে দায়িত্বরত ছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD