1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
গায়ে হলুদ,বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও নানান কথা- মোঃ কামরুল ইসলাম - DeshBarta
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (চপই) ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল” দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ করোনার দুর্দিনে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য মাসব্যাপী বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইফতার আয়োজন যুব রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রামকে রেড ক্রিসেন্ট সিটি ইউনিটের অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান ২২ এপ্রিল থেকে মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবি দোকান মালিক সমিতির কবিতাঃ “মাহে রমজান ” মোঃ জসীম উদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের হত্যা কান্ডের সাথে এস আলম গ্রুপ দায়ী নয়, মাফিয়া সিণ্ডিকেট-ই দায়ী। শ্রমিকের পারিশ্রমিক (মজুরি) তার ঘাম শুকানোর পূর্বে দিয়ে দাও”— মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) চিত্র নায়ক ওয়াসিম আর নেই।

গায়ে হলুদ,বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও নানান কথা– মোঃ কামরুল ইসলাম

  • সময় বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
  • ৮৪ পঠিত

গায়ে হলুদ বাঙ্গালী জাতির বহুল প্রচলিত উৎসবের নাম।এটি মুলত বিয়ে সম্পর্কিত একটি আচার যেটি বর কনে উভয়পক্ষ দ্বারা পালিত হয়।

গায়ে হলুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে কাঁচা হলুদ গায়ে লাগানো।
বিয়েতে হলুদ ব্যবহারের কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ কয়েকটি দিক তুলে ধরেছেন।পুরাণ,শাস্ত্রবিদ পূর্বা সেনগুপ্তর মতে, ‘‘আমাদের বর্তমান বিয়ের রীতি অনেকটাই মোঘল যুগ থেকে চলে আসছে।
আগে নিয়ম ছিল,সূচের ছোঁয়া নেই এমন বস্ত্র পরেই বিয়ে হবে।এরপরে নূরজাহান,জরির সুতের বেনারসির চল শুরু করেন।ঐ বেনারসি খুব সুন্দর ও আকর্ষক ছিল যা বিয়ের পোশাক হিসাবে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এই পোশাক ব্যবহার করত।
মনে রাখতে হবে,হলুদের ব্যবহারের চল কিন্তু বৈদিক আচার নয় বরং বেশ কিছু উপকারিতা এতে রয়েছে এই কথা ভেবেই হলুদকে প্রাচীন কাল থেকেই বিবাহের অন্যতম উপকরণ হিসাবে মেনে নেয়া হয়।অন্যদিকে
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক ভাবে জীবাণুনাশক।
হলুদ শরীরকে পরিষ্কার করে ও সংক্রমণ ঠেকায়। শরীরে তাপের ভারসাম্য রাখে,শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বিয়ের দিন সাধারণত অনেক কাজের চাপ থাকে। উপোস করেন অনেকেই। তাই বিয়ের সময় বর-কনের শরীর ভাল রাখার জন্য, অসুখ বা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে হলুদ মাখানোর রীতি চালু আছে। এই হলুদ মাখাকেই আরও বিশেষ ভাবে মনে রাখতে ও সকলে মিলে আনন্দ করতেই ‘গায়ে হলুদ’-কে একটি অনুষ্ঠানের তকমা দেওয়া হয়েছে এই বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে।
তাহছাড়া ভারতীয় রীতিতে হলুদকে শুভ ও মঙ্গলদায়ক বলেও মনে করা হয়,সেটাও এই হলুদ ব্যবহারের আর একটি কারন হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
আজকাল প্রতিটি বিয়ের আগে গায়ে হলুদের ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়, অনেকে মনে করেন বিয়ের মূল আকর্ষণ গায়ে হলুদ।
জানা গেছে,গায়ে হলুদ ইসলামে হারাম নয় তবে বিয়ের সময় বর ও কনেকে চাকচিক্যময় পোষাকে সাজানো ও তাদের গায়ে হলুদ মাখানো ইসলামী শরিয়তে সম্পূর্ণ জায়েজ। ইসলামে হলুদ একটি পছন্দনীয় রঙ। বিয়ের সময় গায়ে হলুদ মাখানো, হলুদ রঙের জামা পরা এবং সুগন্ধী দেয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
জানা যায়,একদা হযরত আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) আল্লাহর রাসুল(সঃ) এর দরবারে এলেন।তখনো তার গায়ে হলুদের চিহ্ন ছিল। রাসুল (সঃ) তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন তিনি এক আনসার মহিলাকে বিয়ে করেছেন।রাসুল (সঃ) এটা অপছন্দ করেন নি।
তবে আমি ছোটবেলায় ভিন্ন রকম গায়ে হলুদ দেখেছি। বিয়ের আগের দিন বিকালে আত্মীয় এবং প্রতিবেশি মহিলারা হলুদ বাটতেন এবং বিভিন্ন রকমের গীত গাইতেন।
উদাহরন স্বরূপ বলা যায়,সেইসব গীতে বরের নাম হত “মনু মিয়া” আর কনের নাম হত “মলকা বানু”।ঐ সময়ে আমরা যারা ছোট ছিলাম আমরা ছোটরা একজন আরেকজনের গায়ে হলুদ মেখে মজা করতাম।এমনকি গায়ের উঠানে পুকুর থেকে পানি এনে তা ঢেলে দিয়ে ঐ ভিজে উঠানে একজন আরেকজনকে টেনে এনে ফেলে দিতাম এর পর সবাই মিলে পুকুরে সাতার কাটা,জাল ফেলে মাছ ধরা আর ও কত কি।তাহাছাড়া বিয়ের আগের দিন দুপুরে গোসলের আগে বরকে মাহরাম মহিলারা (মা, দাদী,নানী, ফুফু, খালা প্রমুখ) গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিতেন,এরপর পুরুষরা তাকে গোসল করাতেন।
আর কনেকে হলুদ লাগানো এবং গোসল করানো সব মহিলারাই করতেন। তখন সেটাই ছিল গায়ে হলুদ।
বিয়ের সময় দফ বাংলায় বলা হয় খঞ্ছনী বা তম্বুরা, ইংরেজীতে বলা হয় tambourine। এটা এক ধরণের একমুখওয়ালা বাদ্যযন্ত্র যা বাজানো এবং নির্দোষ গান-গীত গাওয়া “অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের” জন্য যায়েজ।
শুধু যায়েজ বললে কম বলা হবে,এটা সুন্নতও বলা যেতে পারে। অনেক বিশুদ্ধ হাদীসে এর প্রমান রয়েছে। রাসুল (সঃ) বলেছেন, “তোমরা বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচার কর,এর অনুষ্ঠান মসজিদে সম্পন্ন কর এবং এসময় দফ বাজাও।”অপর এক বর্ণনায় এসেছে, এক বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পর্কে রাসুল (সঃ) কে জানানো হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা সে বিয়েতে কোন মেয়ে পাঠাও নি, যে বাদ্য বাজাবে আর গান গাইবে?” উল্লেখ্য বিয়ের কথা সমাজে প্রচার করা শুদ্ধ বিয়ের অন্যতম শর্ত। গোপন বিয়ে শুদ্ধ হয় না, যদিও শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষী উপস্থিত থাকে। তাই বিয়ের প্রচারের উদ্দেশ্যে মসজিদে বিয়ে পড়ানো, দফ বাজানো এবং নির্দোষ গান গাওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে দফ বাজানো,গান গাওয়া শুধু নাবালিকা মেয়েদের জন্য যায়েজ। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে গায়ে হলুদ করা হয়,সেটা সম্পূর্ণ নাযায়েজ।কেক কাটা,মোমবাতি জালানো,গাইরে মাহরামরা (যারা নিষিদ্ধ তাদের) গায়ে হলুদ লাগিয়ে দেয়া,নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা,যুবতীদের সাজগোজ় করে সৌন্দর্যের নামে শরীর প্রদর্শন,নিষিদ্ধ বাদ্য বাজানো, অশ্লীল গান এসবই হারাম। যেমন-বুক চিনচিন করছে হায়,মন তোমায় কাছে চায়/আমরা দু জন দুজনার-ই প্রেমের দুনিয়া/তুমি ছুঁয়ে দিলে হায়,আমার কি যে হয়ে যায়।”
এই ছাড়া ও যে বাধ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয় তা যেন থামতেই চায় না।এই ভাবে যুবক, যুবতী,প্রাপ্ত,অপ্রাপ্ত বয়স্ক নর নারীর নাচ,একটি শেষ হতে না হতে আরেক টি গান,নাচ যা সত্যিই ইসলামী শরীয়তের বিপক্ষে।
ফতোয়ায়ে শামীতে আছে যে, গান বাদ্যের আওয়াজ শোনা পাপ। সেই সব বৈঠকে বসা ফাসেকী এবং তা হতে স্বাদ উপভোগ বা উল্লাস করা ও আনন্দ করা কুফরী।
(বায়যাবীর ফতোয়ায়ে শামী ৬খণ্ড ৩৪৮-৩৪৯পৃঃ দ্রঃ মাসিক মদীনা সেপ্টেম্বর ২০১১ ইং পৃঃ নং ১৮) এইছাড়া ও আমাদের সমাজে মুসলিম বিবাহে উৎসব নামক আকর্ষণীয় প্রথা হলো- ‘গায়ে হলুদ’ বা ‘হলুদ বরণ’। সমাজে বিয়ের মতো একটি পবিত্র আয়োজনকে অ-পবিত্র করতে যা যা প্রয়োজন তা সবই করা হয়ে থাকে এই আয়োজনে।তবে বিয়ের সময় বর ও কনেকে সাজানো ও তাদের গায়ে হলুদ মাখানো ইসলামি শরিয়াতে তখনই সম্পূর্ণ জায়েজ ও পছন্দনীয় হবে; যখন তা শরীয়াহ পন্থায় হয়।
আসুন,আমরা সবাই সতর্ক হই। ইসলামী শরীয়াহ পরিপন্থি ও অনৈতিক কর্মকান্ড পরিহার করি।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD