1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
সরকারি-বেসরকারি কোন অনুদান ছাড়াও প্রতিকুলতার মাঝেও টিকে আছে চন্দনাইশ জোয়ারা মানসিক হাসপাতাল - DeshBarta
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্বাধীনতার ৫০ বছর সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবসে জাতীয় কবিতা মঞ্চ,সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মুক্তি সংগ্রামের কবিতায় স্বাধীনতা উদ্‌যাপন। প্রবাসীদের ঈদ নামের কষ্টের দিনটি– জসীম ঊদ্দীন এবার মা ছাড়া ঈদ কাটলো প্রবাসী সাংবাদিক মুহাম্মদ ফিরোজ এবারের ঈদ ছিল তাদের সাথে, যারা ঈদেও সেমাই কি জিনিস চোখেও দেখেনা দেশ ও বিদেশের সকলের প্রতি পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা – জুলফিকার আলী সর্দার পটিয়াবাসী সহ দেশ বিদেশের সকল ভাইদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান-পটিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি সদস্য নাজিম উদ্দীন রনী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল এর ঈদ শুভেচ্ছা নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ মুলাদী এস এস সি ০৭,০৯ ব্যাচ এর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মাঝে ইফতার বিতরণ সম্পন্ন হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ঈদ শুভেচ্ছা

সরকারি-বেসরকারি কোন অনুদান ছাড়াও প্রতিকুলতার মাঝেও টিকে আছে চন্দনাইশ জোয়ারা মানসিক হাসপাতাল

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৯৮ পঠিত

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ

কোন সরকারি ও বেসরকারি অনুদান ছাড়াও প্রতিকুলতার মাঝেও টিকে আছে চন্দনাইশের ঐতিহ্যবাহী জোয়ারা মানসিক হাসপাতাল। এখানকার সাধারণ মানুষের কাছে এ মানসিক হাসপাতালটি জোয়ারা পাগলা গারদ নামে বেশি পরিচিত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জোয়ারা রাস্তার মাথা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে জোয়ারা গ্রামে ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একমাত্র আয়ুর্বেদিক এ পাগলা গারদটি। কবিরাজ নিশি চন্দ্র দাশ তাঁর ১০ একর জমির উপর সরকারি অনুমোদন নিয়েই “দামোদর ঔষধালয়” নামে একটি আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানসহ এ পাগলা গারদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দামোদর ঔষধালয়টি নিশি বৈদ্যের বাড়ী হিসেবে পরিচিতি পায়।
মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আয়ুর্বেদিক এ হাসপাতালটি আধুনিক হাসপাতালের সাথে পাল্লা দিয়ে এখনো টিকে আছে। এ হাসপাতালে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরিকৃত আয়ুর্বেদিক ঔষধের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে শাখা খোলে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসলেও স্বাধীনতার পর তা বন্ধ করে দিতে হয় নানাবিধ কারণে। তাছাড়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় এখানকার সমস্ত জিনিসপত্র লুঠ করে নিয়ে যায়। নিশি বৈদ্যের গড়ে তোলা পাগলা গারদের আসবাবপত্র ভাংচুর করে, কবিরাজী ঔষধ ধ্বংস করে। পাশাপাশি নিশি বৈদ্যের গড়া কবিরাজী ঔষধের কারখানা ও পাগলা গারদ ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিশি বৈদ্যের পাগলা গারদ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ধার-কর্জ করে পুনরায় এ মানসিক হাসপাতাল চালু করা হলেও তা আর পূর্বের রূপ ফিরে পায়নি। ফলে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে মানসিক রোগীরা। তারপরও নিশি বৈদ্য বাড়ীর ঐতিহ্য বজায় রাখতে গিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছিলেন কবিরাজ চিত্ত রঞ্জন দাশ। এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ২টি বিশাল আয়তনের মাটির ঘর, ঘর দুটিতে ছোট ছোট কক্ষ করা হয়েছে। যেখানে মানসিক রোগীদের আবদ্ধ রেখে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা না থাকলেও কেয়ার টেকারের মাধ্যমে এখানকার রোগীদের থাকা-খাওয়া-নাওয়া ইত্যাদি সুচারুরূপে সম্পন্ন করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এখানে প্রায় ৩ সহ¯্রাধিক মানসিক রোগীকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। চিকিৎসা সেবা এ প্রতিষ্ঠানের আওতার বাইরে চলে গেলে তখন রোগীদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে অথবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তাদের মতে প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোন সহায়তা না থাকায় বিভিন্ন প্রতিকুল সমস্যা নিয়ে এখনো কুঁড়িয়ে কুঁড়িয়ে চলছে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।
চন্দনাইশ পৌরসভার জোয়ারা গ্রামে অবস্থিত এ পাগলা গারদটি আজ বিলুপ্তির পথে। আর্থিক এবং প্রশাসনিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী নিশি বৈদ্যের এ পাগলা গারদ প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অবহেলিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা মানসিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন এ প্রতিষ্ঠানের লোকজন। সেবা-যতেœর ফলে নতুন জীবন ফিরে পায় তারা। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি, প্রশাসনিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মানসিক ভারসাম্য হারানো মানুষেরা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অযোগ্য হয়ে পড়েছে এ পাগলা গারদটি। মানসিক ভারসাম্য হারানো রোগীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের দুঃখের সীমা নেই। সবুজ ঘাস ও গাছের লতা-পাতা দিয়ে তৈরি করে থাকে কবিরাজী ঔষধ। নিশি চন্দ্র দাশ প্র: নিশি বৈদ্য তাঁরই দুই সন্তান জীবরঞ্জন দাশ ও চিত্তরঞ্জন দাশের নামে আরো ২টি প্রতিষ্ঠান কমলা ও দামুধা ঔষধালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা নিশি বৈদ্যের পরবর্তী বংশধরগণ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ১৯৭০ এর গণ আন্দোলন, ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে হারিয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী নিশি বৈদ্যের এ পাগলা গারদ।
চট্টগ্রামের একমাত্র আয়ুর্বেদি পাগলা গারদটি বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক জানালেন, তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বৃক্ষ, গুল্ম, লতা-পাতা ও বিভিন্ন ঔষধী দ্রব্যের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত ঔষধ এখানকার ভর্তি হওয়া মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এলোপ্যাথিক বা অন্য কোন ঔষধ তারা রোগীকে দেন না। পাগলা গারদে গিয়ে দেখা যায়, তাদের তৈরি ছোট ছোট ঘরে কয়েক জন পাগলের পা ও হাত ডান্ডাবেরি আর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাদের দেখাশুনা, খাওয়া-দাওয়ার জন্য এখানে নিয়োজিত আছেন বেশ কয়েকজন কেয়ারটেকার। প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার জানালেন, সম্পূর্ণ কবিরাজী পদ্ধতিতে রোগীদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তার মতে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া পাগলদের সুস্থ হওয়া রেকর্ড শতকরা ৮০ ভাগ। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার পর থেকে একজন রোগীও মারা যায়নি বলে তিনি দাবী করেন।
আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত কোন ব্যবস্থা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, সরকারিভাবে বা কোন ব্যাংক অথবা দাতা সংস্থা থেকে তাদেরকে কখনও কোন সাহায্য দেয়া হয়নি। তাই আর্থিক টানাপোড়নের কারণে ইচ্ছা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এ পাগলা গারদে ভর্তি করিয়ে কেউ হয়তো রোগী ভরন-পোষণের খরচ চালায়। অনেকেই আবার রোগীর ভরন-পোষণের খরচও দেয় না। রোগীদের ঔষধ প্রদান, খাবার বিতরণ চলে নিয়মিত। কোন কোন মানসিক রোগী তাদের আওতার বর্হিভুত হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক বিভাগ অথবা পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আয়ুর্বেদিক ঔষধ মানসিক বিকাশগ্রস্থদের রোগ নিরাময়ে যতটুকু উপকারী সেরূপ অন্যান্য ঔষধ দ্বারা তা সম্ভব নয় বলে তিনি দাবী করেন। এছাড়া বিভিন্ন মানসিক ক্লিনিকে রোগীকে রেখে হাজার হাজার টাকা অপচয় করার বিপক্ষে তিনি। সরকার যদি ঔষধ প্রস্তুত করার জন্য একটি আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে তাদের সহায়তা করেন, তবে এ প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে তাদের চিকিসাসেবার পাশাপাশি পরিচিতি লাভ করবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

 

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD