1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
সৌন্দর্যবর্ধনে নীতিমালা করছে চসিক খসড়া প্রস্তুত, সাধারণ সভায় অনুমোদনের পর যাবে মন্ত্রণালয়ে বললেন চসিক মেয়র। - DeshBarta
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

সৌন্দর্যবর্ধনে নীতিমালা করছে চসিক খসড়া প্রস্তুত, সাধারণ সভায় অনুমোদনের পর যাবে মন্ত্রণালয়ে বললেন চসিক মেয়র।

  • সময় বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬৮ পঠিত

মোহাম্মদ আনিছুর রহমান ফরহাদ,ব্যুরো চীফ।

নগরে সৌন্দর্যবর্ধনে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪২টি চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এছাড়া ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৮ জানুয়ারি ১০টি জায়গা সেলামি ও মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহারের অনুমতি ও বরাদ্দ দেয়। এর বাইরেও বিভিন্ন সময়ে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ফুটপাত বরাদ্দ দিয়েছে সংস্থাটি। অভিযোগ আছে, সৌন্দর্যবর্ধন চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে এস্টেট (ভূ-সম্পত্তি) শাখা হতে কোনো নথি খোলা হয়নি। নগর পরিকল্পনা শাখার মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদিত হলেও তাদেরকে এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করার কোনো রেজুলেশনও সংরক্ষিত নাই সংস্থাটির কাছে। আবার জায়গা বরাদ্দের ক্ষেত্রেও ন্যায্যমূল্যে না দেয়ার অভিযোগ আছে। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি না মানায় এসব অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেছেন চসিকের দায়িত্বশীলরা। এ অবস্থায় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সৌন্দর্যবর্ধন নীতিমালা, ২০২১’ শিরোনামে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে চসিক। দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে এটিই হবে এ সংক্রান্ত প্রথম নীতিমালা। চসিকের আইন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি ইতোমধ্যে নীতিমালাটির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। সংযোজন-বিয়োজন শেষে নীতিমালাটি চসিকের আগামী সাধারণ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধূরী বলেন, নীতিমালা না থাকায় যেমন খুশি তেমন করা হয়েছে। তাই আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করছি। মোটামুটি প্রস্তুত করে ফেলেছি। টুকটাক কিছু শব্দ চয়ন ঠিক করে তা সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হবে।

কী আছে নীতিমালায় : নীতিমালাটি প্রণয়নের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য হবে নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। এছাড়া কর্পোরেশনের মালিকানাধীন জায়গা কিংবা স্থাপনাসমূহ নিজ দখলে রাখা, অবৈধ স্থাপনা কিংবা অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট জায়গা কিংবা স্থাপনায় কর্পোরেশনের নিরঙ্কুশ দখল প্রতিষ্ঠা করা।
নীতিমালার আলোকে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অনুমোদনের আগে যাচাই-বাছাই করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। যাচাই-বাছাই শেষে তারা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মেয়রের কাছে উপস্থাপন করবে। সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প লাভজনক হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং অলাভজনক হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া যাবে।
নীতিমালার আলোকে সৌন্দর্যবর্ধন বলতে বোঝানো হবে শহরের রাস্তাঘাট বা খালি জায়গার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এমন স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রকৃতির নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা। যেমন দৃষ্টিনন্দন গাছ লাগানো ও পরিচর্যা, ফাউন্টেন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত ও মিড আইল্যান্ড সংস্কার, লাইটিং, পেইন্টিং, পথচারীদের জন্য বসার বেঞ্চ স্থাপন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা বুথ স্থাপন, তথ্য কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মুুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্বলিত ভাস্কর্য, ম্যুরাল নির্মাণ বা স্থাপনকে বোঝাবে। এছাড়া ডিজিটাল সাইন বা টিভিতে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন-কানুন, সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রচারণাও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় করা যাবে।
প্রণীত নীতিমালায় ২১টি অনুচ্ছেদ আছে। এসব অনুচ্ছেদের আলোকে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের উদ্দেশ্য, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রসমূহ, প্রকল্প বরাদ্দের পদ্ধতি, সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত কমিটি, প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া, প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহ, প্রকল্প যাচাই বাছাই, অনুমোদন, প্রকল্পের মেয়াদ, সালামি-ভাড়া ও ইজারা মূল্য পরিষদ, চুক্তির খসড়া অনুমোদন, ইজারা চুক্তি নবায়ন, ইজারা চুক্তি বাতিল, মেয়াদ পুর্তির পূর্বে চুক্তি বাতিল, প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুসরণ, ইজারাকৃত ভূমির স্বার্থ হস্তান্তর বা সাব-লিজ প্রদান, সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে নগর পরিকল্পনা শাখার দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে নীতিমালার খসড়া পর্যালোচনায় গতকাল টাইগারপাস নগর ভবনে সিটি মেয়রের নেতৃত্বে সভা হয়েছে। এতে নীতিমালা যথাযথ অনুসরণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেয়র।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে সৌন্দর্যবর্ধনে সম্পাদিত ৪২টি চুক্তির মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান চুক্তি মেনে কাজ করেছে। বাকি ৩৬টি প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান দৃশ্যমান কোনো কাজই করেনি। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি বহির্ভূতভাবে দোকান নির্মাণ করেছে ফুটপাতে। এছাড়া পরবর্তীতে যেসব চুক্তি হয়েছে সেখানে অনিয়ম হয়েছে কিনা তা বর্তমানে তদন্ত করা হচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD