1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
স্বাস্থ্য সহকারি সুমন কান্তি ঘোষের খুঁটির জোর কোথায়? - DeshBarta
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জোবায়েত হাসান পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত রাউজানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ ‘২২ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে বন‍্যাদুর্গতদের মাঝে বঞ্চিত নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত কাতার প্রবাসী। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির জরুরী সভায় আবুল হাশেম বক্কর। দুমকিতে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও আনন্দ মিছিল ২১ খালের ও ১১ প্রকল্প নিয়ে চসিক মেয়রের মন্তব্য। নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে খালিয়াজুরীতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ চন্দনাইশে ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ-সার বিতরণ চন্দনাইশে মাদকের অপব্যবহার ও পাচাররোধে র‌্যালী-আলোচনা সভা

স্বাস্থ্য সহকারি সুমন কান্তি ঘোষের খুঁটির জোর কোথায়?

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৪৪ পঠিত

বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ করোনা টিকা দেয়া নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সুমন কান্তি ঘোষের বিরুদ্ধে । অফিস আদেশ অনুযায়ী , দৈনিক ৪০০ জনকে টিকা দেওয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় স্বাস্থ্য সহকারী সুমন কান্তি ঘোষকে । কিন্তু গত ৬ জানুয়ারি ১৪ জন , ১০ জানুয়ারি ১২ জন ও ১৩ জানুয়ারি ২০ জনকে করোনার টিকা প্রদান করেছেন তিনি । যদিও এই ৩ দিনের জন্য টিকা বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২০০ ; যার মধ্যে মাত্র ৪৬ জনকে টিকা দিয়েছেন সুমন । স্বাস্থ্য সহকারী সুমন কান্তি ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। দায়িত্বে অবহেলা, স্ব – প্রণোদিত হয়ে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা, সরকারি চাকুরিবিধি ও আইসিটি আইনের লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় , অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নিজের মর্জিমাফিক কাজ করার অভিযোগও রয়েছে সুমনের বিরুদ্ধে । স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদের ক্ষমতাসীনদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । সুমনের এমন অপকর্ম ও অনিয়মে ‘অতিষ্ঠ’ উল্লেখ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা – কর্মচারীরা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিতপত্রও পাঠিয়েছেন । কিন্তু মিলেনি কোনো সুরাহা । সাবেক ও বর্তমান সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত ইপিআই ও এম.আর. ক্যাম্পেইনে অসঙ্গতির বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান । এতে তিনি জানান, ১৯ জানুয়ারি নির্ধারিত এলাকার মানুষকে করোনার টিকা না দিয়ে নানাভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন সুমন, এসব অভিযোগ টিকা বঞ্চিতরা জানিয়েছেন । স্বাস্থ্য সহকারী সুমন সাব ব্লকে টিকা প্রদান করেন না , উল্টো জনসাধারণকে জানিয়েছেন , সরকার সাব ব্লকে টিকা প্রদান করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে । এছাড়াও সুমন এলাকায় আইপিসি’র কাজ করেননি- এ বিষয়েও প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা . মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি সিভিল সার্জনের কাছে আরও একটি লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা । যেখানে বলা হয় , কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই অনেকটা গায়ের জোরে উপজেলার বিআরডিবি ভবনের হল রুমে বোয়ালখালী স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের নামে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন সুমন ও তার সহযোগীরা । এতে এম.আর ক্যাম্পেইন ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন রকম ভুল তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠে । সুমন কান্তি ঘোষের বিরুদ্ধে এর আগেও টিকা নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । এমনকি বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা . মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান তার এসব অনিয়মের বিষয়ে জানিয়ে তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বরাবর পরপর তিনটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন । যার মধ্যে প্রথম অভিযোগটি পাঠানো হয় ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল । অভিযোগপত্রে জানানো হয় , ইচ্ছাকৃতভাবে করোনাভাইরাসের অজুহাতে ইপিআই কাজ না করে ৫ ও ৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিন ফেরত পাঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সুমন কান্তি ঘোষসহ আরও ৩ জন । এ বিষয়ে ৭ এপ্রিল সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয় । তার ঠিক একদিন পর ৯ এপ্রিল সুমনের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর আরও একটি অভিযোগ পাঠান বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা । যেখানে বলা হয়, ভ্যাকসিন ব্যবহার না করে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে মৌখিকভাবে সতর্ক করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে সুমন কান্তি ঘোষ টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে ওয়ার্ডের জনসাধারণকে টিকাদান কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করছেন । এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করা হয় । এর মাসখানেক পর ১৭ মে তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা । যেখানে উল্লেখ করা হয় , টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার অভিযোগের পর থেকেই সুমন ফেসবুকে উক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা , স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে অসত্য , কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বিভিন্ন ধরনের খারাপ মন্তব্য করেছেন । এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি চাকুরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয় । একই দিন , স্বাস্থ্য সহকারী সুমনকে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি পাঠানো হয় । যেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অশ্লীল , কুরুচিপূর্ণ খারাপ মন্তব্য করে মানহানি এবং সরকারি চাকুরিবিধি ও আইসিটি আইনের লঙ্ঘন করায় সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা ২০১৮ সালের এসআরও নং – ১১০ – আইন ২০১৮ এর ২ এর ( খ ) মোতাবেক কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এর সন্তোষজনক জবাব স্মারক জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয় ।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘তিনি ( সুমন ) অফিসিয়াল কোনো নিয়মই মানছেন না । যা ইচ্ছা তাই করছেন। আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। আমি আমার জায়গা থেকে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ( সিভিল সার্জন ) এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহিত করে আসছি । কিন্তু কেন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা আমি বুঝতে পারছি না। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা . মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘অফিসিয়াল বিষয়গুলোতেও যদি আপনারা হস্তক্ষেপ করেন আমরা কোথায় যাবো ? আমি অফিসিয়াল কথা সবার সাথে শেয়ার করি না । এ সমস্ত বিষয়ে আপনাদের কাছে কেন বিচার যাবে? যদি অভিযোগ পেয়ে থাকেন তা আমাকে লিখিতভাবে দিন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD