1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
ঘুমধুম সীমান্তের ভাই-ভাই ও ৮ সিস্টার ইয়াবা সিন্ডিকেটের ইয়াবা সাম্রাজ্যের যত সম্পদ - DeshBarta
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পদ্মার উত্তাল ঢেউ কর্ণফুলীর তীর চট্টগ্রামেও হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ে পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে থানা পুলিশের আনন্দ শোভাযাত্রা। পদ্মা সেতুতে প্রথম টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কবিতাঃ পদ্মা সেতু -লায়ন এম এ ছালেহ্ মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বস্ত্র বিতরণ শুভ জন্মদিন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি জিদান জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘ঝরা পালক’ মুক্তি পেল পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চন্দনাইশ থানা পুলিশের র‍্যালি পদ্মা সেতু ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পটিয়া শ্রমিকলীগ সভাপতি সামশুল ইসলাম’র মাক্স বিতরন

ঘুমধুম সীমান্তের ভাই-ভাই ও ৮ সিস্টার ইয়াবা সিন্ডিকেটের ইয়াবা সাম্রাজ্যের যত সম্পদ

  • সময় বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩৫ পঠিত

নাইক্ষ‌্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন ঘুমধুম।মিয়ানমারের সাথে লাগোয়া বাংলাদেশের জল ও স্থল সীমান্ত রয়েছে।খুব সহজেই চোরাই পথে এপার ওপার সীমান্তের চোরাগোপ্তা পথ দিয়ে যাতায়াত রয়েছে চোরাকারবারীদের।ইয়াবা-মাদক,স্বর্ণ ও চোরাচালান পাচার এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।পাশাপাশি অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও।সীমান্তে চোরাচালানের পণ্য আটক কিংবা জব্দ হচ্ছেনা এমন কোন দিন নেই।প্রায় প্রতিদিন আটক কিংবা জব্দের তথ্য মিলছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পরও সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা-মাদক,স্বর্ণ পাচার ও চোরাচালান থেমে নেই।মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত পথ সহজ হওয়ায় পাচার যজ্ঞ চালাতেই ঘুমধুম সীমান্ত কে কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারীরা।

এ সুবাদেই ঘুমধুম সীমান্তের জলপাইতলী-খিজারীঘোনা,তুমব্রু পশ্চিমকুল কেন্দ্রিক গড়ে ওঠে ভাই-ভাই ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেট।এ সিন্ডিকেটের প্রধান ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জলপাইতলী-খিজারীঘোনা এলাকার ছৈয়দ আলম-সোনা মেহের দম্পতির ছেলে জসিম উদ্দিন ও জকির আহমদ ওরপে জকিরা। সিন্ডিকেটের প্রধান জসিম উদ্দিনের রয়েছে একাধিক নাম পরিচয়।ভিন্ন নাম ও ঠিকানা পরিচয়ে চট্রগ্রামে অবস্থান করে উখিয়া,টেকনাফ,নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, কোটবাজার ক্লাসাপাড়া,উখিয়ার দরগাহবিল ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঠানো ইয়াবার চালান গ্রহণ ও বিক্রি করে থাকেন।ইয়াবার চালান পাঠানো আর টাকার লেনদেন করেন সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড,বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ির বিএনপি-যুবদল নেতাদের আশির্বাদপুষ্ট বহিস্কৃত যুবদল নেতা, বড়ভাই জকির আহামদ,তাদের বাবা ছৈয়দ আলম,মাতা সোনা মেহের ও ঘুমধুমের ক্যাম্প পাড়ার বাঁহা সুলতানের ছেলে মুজিবুল হক বাবু,বাবুর বোন মনোয়ারা সহ এলাকার কয়েকজন সুবিধাভোগী ব্যক্তি।ভাই-ভাই সিন্ডিকেটের প্রধান জসিম উদ্দিন ইয়াবাসহ চট্রগ্রামের চান্দগাঁও থানায় ২০১৫ সালে আটক হয়েছিল।ভুয়া নাম ঠিকানায় জামিনে বেরিয়ে লাপাত্তা।বছর দেড়েক পূর্বে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় জসিমের ইয়াবার চালান নিয়ে একটি কার গাড়ী ও এক সহযোগী আটক হয়।ওই মামলায় জসিম উদ্দিন ২নং পলাতক আসামী।

সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড জকির আহমদ গত বছরের ২৭ জুলাই ৯ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা, ৪র্থ স্ত্রী শাহানারার পারিবারিক ঘনিষ্ঠ আত্নীয় ও আরোও ৪ সহযোগী সহ কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে র‍্যাব-১৫’র হাতে আটক হয়ে জেলে যায়।এসময় ইয়াবা বহন কাজে ব্যবহ্নত একটি নোয়াহ গাড়ীও জব্দ করে র‍্যাব।মোটা টাকার বিনিময়ে মাত্র সাড়ে ৪ মাসের মাথায় জামিনে বেড়িয়ে আসে জকির।জকির জেলে গেলেও চট্রগ্রামে বসে জসিম উদ্দিন এবং ঘুমধুমে থেকে বাবা ছৈয়দ আলম, মাতা সোনা মেহের এবং কয়েকজন পারিবারিক আত্নীয় ইয়াবার সাম্রাজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছেন।ইয়াবার কালো টাকায় গড়েছে বিশাল দালান বাড়ি ও কোটি-কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়।ছৈয়দ আলমের পুরো পরিবারই ইয়াবা কারবারে জড়িত।দৃশ্যমান কোন ব্যবসা নেই।জসিম-জকির পরিবারের ভাই-ভাই সিন্ডিকেটের অপরাপর পারিবারিক সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে পারিবারিক ইয়াবা সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে আরোও কারা জড়িত তার অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দেশপ্রেমিক জনতার দাবী।এখন ভাই-ভাই সিন্ডিকেটের ইয়াবা কারবারের সমস্ত কার্যক্রম জসিম-জকিরার বাবা ছৈয়দ আলম ও মাতা সোনা মেহের’র ইশারায় চলে।দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও গড়ে তুলেছে কোটি টাকা মুল্যের দালান বাড়ি,রয়েছে একাধিক বাগান বাড়ি,দোকানপাট ও বিপুল বিত্তবৈভব।তাদের বিলাসী জীবনযাপনে মাসে ব্যয় কয়েক লক্ষাধিক টাকা।দৃশ্যমান বৈধ ব্যবসা ছাড়া আয়ের উৎস কোথায়?।

ঘুমধুম সীমান্তের ভাই-ভাই ইয়াবা সিন্ডিকেট একটি আলোচিত নাম।ভাই-ভাই সিন্ডিকেট থেকে এখন আলোচিত আরেকটি নাম”ঘুমধুমের ৮ বোনের ইয়াবা সিন্ডিকেট”।এই দুই আলোচিত সিন্ডিকেট চট্রগ্রামে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে ইয়াবা আর চোরাচালানের সাম্রাজ্য।

ঘুমধুমের ৮ বোনের সিন্ডিকেটের মধ্যে ৩সদস্য আপন বোন ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭’র হাতে আটক হয়েছে।তাদের কাছ থেকে ১৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।অভিনব কায়দায় পাচারকালে এসব ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারী বিকেলে চট্রগ্রাম মহানগীর হাটহাজারী থেকে তাদের আটক করে ১৮
ফেব্রুয়ারি(শুক্রবার)বিকালে র‌্যাব-৭ জানিয়েছে,বিশেষ কায়দায় কক্সবাজার থেকে ১৯ হাজার পিস ইয়াবা আনার পথে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে সিন্ডিকেটের প্রধান বড়বোন কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার হোসেন আহমদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে মনু,একই এলাকার আব্দুর রহিমের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩২) ও জসিম উদ্দিনের স্ত্রী আসমাউল হুসনা (২৬)।
র‌্যাব বলছে,ফাতেমাদের ৮ বোনের সবাই এ ব্যবসায় সরাসরি জড়িত। প্রথমে বহনকারী হিসেবে কাজ করলেও এখন নিজেরাই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বাড়ি কক্সবাজারের রামুতে বলা হয়েছে। তাদের প্রকৃত বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বেতবনিয়ার কুলালপাড়ায়।আটক তিন বোনের বাবার নাম মৃত নুর আহমদ। তারা ঘুমধুম ইউনিয়নের নোয়াপাড়ার মৃত গোরা মিয়ার ছেলে আবদুল হকের স্ত্রী, সিন্ডিকেট প্রধান সেলিনা আক্তার ও চট্টগ্রামে বসবাস করা আটক ফাতেমা বেগম মনুনীর নির্দেশ মত ইয়াবার চালান বহন,পাচার ও সরবরাহ করতো অপরাপর সদস্যরা মিলে।তারা ৮ বোন ইয়াবা পাচারের জন্য একেক সময় একেক নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে বাসা ভাড়া নিতো।যাতে ইয়াবা বহন, পাচার, সরবরাহ ও বেচাবিক্রিতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়।চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম ইউসুফ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

৮ বোনের সিন্ডিকেট সদস্যরা হলো,আনোয়ারা বেগম,ফাতেমা বেগম মনুনী,সেনোয়ারা বেগম,সেলিনা আকতার,সাবেকুন্নাহার সাবু,রবিজা খাতুন,আসমা ও হালিমা।

স্থানীয়দের বরাতে অনুসন্ধানে জানা গেল, ৮ বোনের সবার বড় ঘুমধুম ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের কবির আহমদ ওরপে দারোগা কবিরের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম।কবির আহমদ নিজেও ইয়াবা আসক্ত এবং কারবারি।এক সময়ের ফেরিওয়ালা মাটির হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করতো কবির আহমদ।গত কয়েক বছরের ব্যবধানে একাধিক বাড়ি,গাড়ী,বেতবনিয়ার বিশালাকারের ক্রোকারিজ দোকানপাট,কয়লার শহর এলাকায় স’মিল,রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক গাছ-বাঁশের ব্যবসা,তুমব্রুতে বনায়ন প্রকল্প সহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক।এতসব ব্যবসায় পুঁজি কাটালো কোথায় থেকে? আয়ের উৎস কোথায়।উত্তর একেবারে সহজ।দারোগা কবির পারিবারিক ভাবে ইয়াবা কারবারে জড়িত।তার মেঝ ছেলে ইউসুফ এক বছরের বেশী সময় ধরে কক্সবাজার কারাগারে।রামুর চেইন্দা এলাকায় র‍্যাবের হাতে ৭ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা নিয়ে আটক হয়ে জেলের ঘানি টানছেন।কবির আহমদের বড় ভাই সাম্প্রতিক সময়ে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ উখিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে আছেন।

কবির আহমদের ভায়রা আবদুল হক,যিনি ৮ বোন সিন্ডিকেটের অন্যতম ইয়াবা সম্রাজ্ঞী সেলিনার স্বামী।
আবদুল হকদের পারিবারিক কোন সহায়-সম্পত্তি ছিলনা।বাবা মৃত গোরামিয়ার বসত ভিটিতে ৫/৬ভাইয়ের ঘনবসতি।আবদুল হকের ভাই ও ভাইপোরাও ইয়াবা,স্বর্ণ, মাদক, চোরাচালানে কমবেশী জড়িত।আবদুল হকের ভাইপো মোঃ আমিন ইয়াবাসহ ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের টহল দলের হাতে আটক হয়ে জেল খাটেন।আরেক ভাইপো জসিম উদ্দিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হয়ে কক্সবাজার জেলে আছেন।ছোট ভাই ছৈয়দ কাসেম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বিয়ে করে ইয়াবাসহ নানা চোরাচালান কাজে জড়িত।আবুল কাসেমের ছেলেরা জড়িত।আবদুল হক সেলিনা দম্পতির সম্পদের হিসাব তারাও দিতে পারবেনা কত সম্পদ তাদের আছে।

ঘুমধুম ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান,নোয়াপাড়ায় কোটি টাকার বিশালাকৃতির দালান বাড়ি,পশ্চিম পাড়ায় আওয়ামীলীগ নেতা জাহেদ হোসেনের বাড়ীর সামনে কোটি টাকার চারপাশ ঘেরা বিরাট জায়গা,মোহসিন মিস্ত্রির বাড়ির পূর্ব-দক্ষিণে কয়েক কোটি টাকা মুল্যের নির্মাণাধীন দালান বাড়ি,বান্দরবান শহরে কোটি টাকার ফ্ল্যাট বাড়ি,চট্রগ্রাম শহরে নামে-বেনামে সিএনজি-মাহিন্দ্রা গাড়ীর শোরুম,
সৌদিআরবে আরেক প্রবাসীর গার্মেন্টস কারখায় পার্টনারশীপ ব্যবসা,নগদ টাকা,নামে-বেনামে জায়গা-জমি সহ অন্তত অর্ধকোটি টাকার মালিক বলে আবদুল হক ও সেলিনা দম্পত্তি,এলাকায় এমন প্রচার আছে।

জানা গেছে, ৮বোনের বাসা-বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের বেতবনিয়ার কুলাল পাড়া,নোয়া পাড়া,তুমব্রু,
কক্সবাজারের রুমালিয়ার ছড়া,বান্দরবান শহরে,
চট্রগ্রামের হাটহাজারী অক্সিজেন মোড়,আগ্রাবাদ,
বায়েজিদ বোস্তামী রোড সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের ভাড়া বাসা বেশী নিরাপদ মনে করতো তারা।

৮ বোনের বাবা মৃত নুর আহমদ ছিল হতদরিদ্র।বাবা পেশায় মাটির হাঁড়ি-পাতিল,কলসী তৈরি করে জীবীকা নির্বাহ করতো।বার্ধক্যজনিত রোগে বাবা মারা যান এক যুগেরও বেশী সময় পূর্বে।জিবীকার তাগিদে মাতা সহ বোনরা বাড়িতে জিলাপী তৈরি করে মাথায় নিয়ে ফেরি করে পাড়ায়-পাড়ায় বিক্রির পাশাপাশি মিয়ানমারে নিয়ে যেতো।মিয়ানমার থেকে ফেরার পথে জিলাপী বিক্রিতে পাওয়া ধান-চালের ভিতর করে ছোটখাটো চোরাই পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসতো।এভাবে ধীরে-ধীরে চোরাচালানে জড়াই বাপ মরা বোনরা।প্রতি বোনদের রয়েছে দালান বাড়ি আর বিপুল সম্পদ।তারা ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি চট্রগ্রাম থেকে গাঁজা আর ফেনসিডিলের চালান পাচারেও জড়িত।তাদের মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ ও নির্বিঘ্ন করতে তাদের রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী,জনপ্রতিনিধি, নেতা,প্রশাসনের কতিপয় লোক আর প্রভাবশালী লোকজন।যাদের নিয়মিত বখরা দিয়ে থাকেন।৮ বোনের জাফর আলম নামের তাদের এক বড় ভাই টেকনাফে বিয়ে করে বসবাস করছে।ভাই জাফরও ইয়াবা নিয়ে আটক হয়ে জেল খাটেন।৮ বোনের ইয়াবা সাম্রাজ্যের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা যথারীতি নজরদারি শুরু করেছে।কিন্তু এসব সদস্যরা এলাকা থেকে বাড়িঘর ছেড়ে আত্নগোপনে রয়েছে।

৮ বোনের সিন্ডিকেট সদস্যদের বাসা-বাড়ি ও সম্পদের ছবি ও ভিডিও করতে গেলে খবর পান ৮বোনের প্রভাবশালী বোন সেলিনা আক্তারের স্বামী আবদুল হক,তিনি নিউজ না করার জন্য বারণ করে মাহমদুল হক বাবুল নামের এক ভাইপোকে পাঠান।বাবুলের ফোন থেকে কথা বলেন আবদুল হক।প্রস্তাব দেন কিছু খরচ পাতি নিয়ে বিরুদ্ধে সংবাদ নয় আবদুল হক নাকি চিংড়ী পোনা ব্যবসায়ী এটি যেন প্রচার করা হয়।

ঘুমধুম কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহজাহান বলেন,ইয়াবা কারবারিরা ঘুমধুম কে কলংকিত করেছে।সব ইয়াবা কারবারিদের পূর্বের অবস্থান আর বর্তমান সময়ের সম্পদ অর্জনের রহস্য উদঘাটন করে আইনের আওতায় আনা হউক।

ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন,মাদকের সাথে জড়িতরা যতবড় ক্ষমতাশালীই হউক,আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সোহাগ রানা বলেন,মাদকের সাথে জড়িত কেউ রেহাই পাবেনা।মাদক নির্মুলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা বাস্তবায়নে কাজ করছি।ইয়াবা কিংবা মাদক কারবারিরা যতবড়ই শক্তিশালী হউক আইনের আওতায় আনা হবে।
ইতিমধ্যে আমি ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আসার পর বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান সহ আনেক মাদক কারবারি আটক করে জেলে পাঠিয়েছি।মাদকের ব্যাপারে আমার কাছে ছাড় নেই।

৮ বোনের ৩ জন র‍্যাবের জালে পড়ে জেলে।অপরাপর সিন্ডিকেট সদস্যদের গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের আশ্রয়দাতা, সুবিধাভোগী, হটাৎ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার পিলে চমকানোর মতো অনেক রাঘববোয়ালদের নাম ও অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহলের দাবি করেন।

সব মিলিয়ে ঘুমধুম সীমান্তের চোরাচালান সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে জলপাইতলী-খিজারীঘোনার,তুমব্রু পশ্চিম কুলের ভাই-ভাই সিন্ডিকেট ও ঘুমধুমের ৮ বোনের সিন্ডিকেট।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD