1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
মহান ভাষা আন্দোলনে সন্দ্বীপিদের ভূমিকা অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান - DeshBarta
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পদ্মার উত্তাল ঢেউ কর্ণফুলীর তীর চট্টগ্রামেও হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ে পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে থানা পুলিশের আনন্দ শোভাযাত্রা। পদ্মা সেতুতে প্রথম টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কবিতাঃ পদ্মা সেতু -লায়ন এম এ ছালেহ্ মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বস্ত্র বিতরণ শুভ জন্মদিন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি জিদান জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘ঝরা পালক’ মুক্তি পেল পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চন্দনাইশ থানা পুলিশের র‍্যালি পদ্মা সেতু ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পটিয়া শ্রমিকলীগ সভাপতি সামশুল ইসলাম’র মাক্স বিতরন

মহান ভাষা আন্দোলনে সন্দ্বীপিদের ভূমিকা অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান

  • সময় বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৬২ পঠিত

ফেব্রুয়ারি মানে প্রতিবাদের মাস। সূত্র মতে, বিশ্বে চলমান ভাষার সংখ্যা ৬৭০০, মতান্তরে ৬৯১২, মতান্তরে ৬০৬০। বহুল ব্যবহৃত ভাষা হিসেবে বিশ্বে বাংলাভাষার অবস্থান সপ্তম। বিশ্বে প্রায় ২ শত ৩০ কোটি মানুষ এ ভাষায় কথা বলে। ভাষার ইতিহাসে বাংলা একমাত্র ভাষা, যে ভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে, দিতে হয়েছে রক্ত। ১৯৫২ সালের পূর্বে এ ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছিল না।

ভাষা আন্দোলনের পর্যায় দু’টি। প্রথম পর্যায়: (১৯৪৮-এর ফেব্রুয়ারি-মার্চ)। দ্বিতীয় পর্যায়: (১৯৫২-এর জানুয়ারি-মার্চ)।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদিকবি মীননাথ এর নিবাস ছিল সন্দ্বীপ। যেখানে উচ্চারিত হয়েছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি পংক্তিমালা ‘চর্যাপদ’। যে সন্দ্বীপে উত্থান ঘটেছিল সুলতান দিলাওয়ার খাঁর’র মত একজন স্বাধীন বাঙালী নৃপতির-যখন সন্দ্বীপ ছাড়া বাকী বাংলাদেশ মোগল সাম্রাজ্যের অধীন-বাংলাভাষাকে ব্রাত্য জ্ঞানকারীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে গর্জে উঠেছিলেন সমকালীন সন্দ্বীপের বাঙালী কবি আব্দুল হাকিম,
‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় নজানি।’

ভাষা আন্দোলনে সন্দ্বীপের যে সকল কৃতিসন্তান অংশগ্রহণ করেন বয়োজ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নিম্নে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল:

কমরেড মুজফফর আহমদ:
বাঙালী মুসলমানদের শিকড়ে প্রত্যাবর্তনের মতো যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা-তাতে কলকাতাস্থ ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’ ও এর মুখপত্র ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’র ভূমিকা প্রশংসনীয়। ১৯১১ সালে ‘সমিতি’র এবং ১৯১৮ সালে ‘পত্রিকা’র শুরু থেকেই ছিল কমরেড মুজফফর আহমদের সার্বক্ষণিক আত্মিক সম্পর্ক। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৮৮৯ সালের ৫ আগস্ট মুছাপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর কলকাতায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম মনসুর আলি এবং মাতার নাম চুনাবিবি।

অধ্যাপক রাজকুমার চক্রবর্ত্তী:
অধ্যাপক রাজকুমার চক্রবর্ত্তী ১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি নিজে এক সংশোধনী উত্থান করেন, যাতে শুধুমাত্র করাচিকে অধিবেশন অনুষ্ঠানের স্থান বিবেচনা না করে, বছরে অন্তত: একবার ঢাকাকেও অনুরূপ অধিবেশন অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৮৯৫ সালের ২ এপ্রিল ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কলকাতায় পরলোক গমন করেন। তাঁর পিতার নাম হরেকৃষ্ণ চক্রবর্ত্তী এবং মাতার নাম অনন্তময়ী চক্রবর্ত্তী।

এ এম ফোরকান উদ্দীন চৌধুরী:
এ এম ফোরকান উদ্দীন চৌধুরী ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশের ধরপাকড়ের শিকার হয়ে সুত্রাপুর থানায় বন্দি হন এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক ‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় যে সকল ছাত্ররা তৎক্ষণাৎ সমস্বরে ‘নো’ ‘নো’ বলে প্রতিবাদ করে উঠেছিলেন, ফোরকান চৌধুরীও তাদের অন্যতম ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশের এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়ে দৌড়াদুড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯২১ সালের ১৩ জানুয়ারি বাউরিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সালের ৬ মে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম মুজাফ্ফর হুসেন চৌধুরী এবং মাতার নাম আসিয়া খাতুন চৌধুরাণী।

এ এল বি দুজা:
এ এল বি দুজা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল স্কুলের ছাত্রদের প্রস্তাবে গঠিত ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ চট্টগ্রাম এর আহ্বায়ক ছিলেন। উক্ত পরিষদ গঠনে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউটের উত্তর পূর্বকোণার মাঠে পর পর তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯২২ সালের জানুয়ারিতে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলভী জিয়াউল হক এবং মাতার নাম গুল আফরোজ বেগম।

অধ্যাপক আসিফুল হক খান:
অধ্যাপক আসিফুল হক খান ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে লক্ষ্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে চোস্ত উর্দুতে তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতার বঙ্গানুবাদ, “লোকে আপনাকে নুরুল আমীন (বিশ্বাসের আলো) বলে জানে। আমি বলবো আপনি ‘জুলুমুল আমীন (জুলুমে বিশ্বাসী)’। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯২৩ সালে হরিশপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৫ সালের ১৫ জুন ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলানা আব্দুল হাকিম খান এবং মাতার নাম বিবি হালিমা খাতুন।

এ কে এম রফিক উল্লাহ চৌধুরী:
এ কে এম রফিক উল্লাহ চৌধুরী পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তমদ্দুন মজলিসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং এভাবেই তাঁর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ শুরু। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯২৬ সালের ১ জুলাই কালাপানিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম এ কে এম হালিম উল্লাহ চৌধুরী এবং মাতার নাম নজিবুন্নেছা চৌধুরী।

মোদাচ্ছের আহমেদ:
মোদাচ্ছের আহমেদ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই উত্থাল দিনে বাংলা ভাষার সমর্থনে প্রস্তুতকৃত লিফলেট, পোস্টার, ফেস্টুন বহন করে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনমুখী মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি মর্মস্তুদ ঘটনার পর স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে বাংলা ভাষার সপক্ষে মাইকে প্রচারকৃত জ্বালাময়ী বক্তব্যে তিনি অংশগ্রহণ করেন। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯৩০ সালের ৩ জুলাই রুহিনী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ সন্দ্বীপে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম সেকান্দর হোসেন এবং মাতার নাম আফিয়া খাতুন।

অ্যাডভোকেট এ ডি এম মোয়াহেদুল মাওলা:
অ্যাডভোকেট এ ডি এম মোয়াহেদুল মাওলা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনমুখী যে মিছিল বের হয় তাতে তিনি মাইকে/চুঙ্গায় উদ্দীপনামূলক শ্লোগানদাতাদের অন্যতম। ২১ ফেব্রুয়ারি মর্মস্তুদ ঘটনার পর স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে বাংলা ভাষার সপক্ষে পরিচালিত সকল কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য দেন। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯৩২ সালে রহমতপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৯ সালের ১৪ মে সন্দ্বীপে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম মুন্সি দেলোয়ার হোসেন এবং মাতার নাম আজমলেন নাহার।

অ্যাডভোকেট এ কে এম শামসুল হুদা:
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে সামনে রেখে অ্যাডভোকেট এ কে এম শামসুল হুদার চট্টগ্রাম কলেজের হোস্টেল কক্ষে শলাপরামর্শ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক রাতে এ ধরণের সভা চলাকালে পুলিশের হানায় তিনি গ্রেফতার হয়ে তিন দিন হাজতবাসের শিকার হন। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯৩৫ সালের ১ আগস্ট মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলভী ফয়েজ আহমদ এবং মাতার নাম আবেদা খাতুন।

এ বি এম সিদ্দিক চৌধুরী:
এ বি এম সিদ্দিক চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত, হতাহতের শিকার বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতার সাথে এসেম্বলি হল থেকে আসা এমএলএ-দের ঘেরাও করেন। এ মহান ভাষাসৈনিক ১৯৩৫ সালের ১২ নভেম্বর বাউরিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ ইছমাইল চৌধুরী এবং মাতার নাম চেমন আফরোজ চৌধুরী।

রাষ্ট্র কর্তৃক উদ্যোগ নেয়া হলেও আজও ভাষাসৈনিকদের তালিকা প্রণয়ন হয়নি। মহান অমর একুশে ফেব্রুয়ারি’র ৭০তম বার্ষিকীতে ভাষাসৈনিকদের তালিকা প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।

তথ্যঋণ: ‘ভাষা আন্দোলনে সন্দ্বীপ’ (একটি গবেষণামূলক বই)। লিখক: ডা. এম ফারুক ইউ চৌধুরী (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিসিএস-১৯৮২), প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা। প্রকাশনায়: ‘সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ’ পত্রিকা। প্লিজ লেখাটি কপি করলে সূত্র উল্লেখ করুন।
.
লেখক:
অধ্যক্ষ, তাহের-মনজুর কলেজ, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD