1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
ভোগান্তি উত্তরণে জনস্বার্থে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান-এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ - DeshBarta
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

ভোগান্তি উত্তরণে জনস্বার্থে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান-এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ

  • সময় রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৬ পঠিত

এদেশে যে সকল মুবাল্লিগে দীন ইসলাম প্রচার—প্রসারে অবদান রাখেন, তাদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম হযরত আল্লামা শাহ্ সূফী সৈয়দ আহ্মদ ইসলামাবাদী (রাহ.) অন্যতম প্রসিদ্ধ ইসলামী সমাজ সংস্কারক ও অলীয়ে কামিল। তিনি ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৮১৫ সালে ইয়েমেন থেকে ভারতে আগমন করেন। ১৮২০ সালে তিনি দিল্লী থেকে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলীয় দেয়াং পাহাড়ের পাদদেশে এসে অবস্থান নেন। পরে কর্ণর্ফুলী ও ইছামতী নদী হয়ে রাঙ্গুনিয়ার মোগলেরহাট এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করে স্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলেন। এখানে অবস্থানকালে তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বোয়ালখালী, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম বিস্তারে অসাধারণ অবদান রাখেন। তাঁর স্বহস্তে লিখিত বুখারী শরীফের অনুবাদ গ্রন্থ, তাসাওউফের কিতাব ও শাজরাহ্ শরীফ রয়েছে। তিনি শরীআত, ত্বরীক্বত ও তাসাওউফে আলা মাকামের শায়খ ছিলেন। চট্টগ্রামে ইসলাম বিস্তারে অবদানের জন্য ১৮৪০ সালে ‘চাট্গাঁ উলামা—মাশায়িখ পরিষদ’ কতৃর্ক তিনি ‘ইসলামাবাদী’ খেতাবে ভূষিত হন।

ইসলামী সাহিত্যিক ও মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন সমীপে হযরত আল্লামা শাহ্ সূফী সৈয়দ আহ্মদ ইসলামাবাদী (রাহ.)—এর স্মৃতিধন্য বসতএলাকা জান মুহাম্মদপাড়া, পেয়ার মুহাম্মদপাড়া, আশ্রয়ন প্রকল্প ও রাজঘাটা এলাকার সমন্বয়ে ‘পশ্চিম সাবেক’ গ্রামের অর্থবহ নতুন নামকরণ ‘সৈয়দাবাদ’ প্রস্তাব করেন।
১৯৯৯ সালের ৬ জুন স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভায় ইউনিয়নের তৎকালীন ১ নম্বর ওয়ার্ড পরবর্তী ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গ্রাম ‘পশ্চিম সাবেক’—এর স্থলে ‘সৈয়দাবাদ’ নামকরণ যুক্তিযুক্ত ও অর্থবহ হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা শেষে প্রস্তাবনাটি সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়। পরবর্তী ৪ জুলাই নিয়মিত মাসিক সভায় তা অনুমোদিত হয়। যা ইউপি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গেজেট নোটিফিকেশন : স্ব—রা/৫—৭/৯৯ মতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হলে উভয় সভায় তা অনুমোদিত হয়। পরে তা যথানিয়মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। তখন থেকে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ও সরকারী—বেসরকারী কার্যক্রমে এ গ্রামের নাম ‘সৈয়দাবাদ’ লেখা হয়ে আসছে। গ্রামের স্ব স্ব পাড়া ও এলাকার জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের জন্ম—মৃত্যু নিবন্ধন সনদ, জাতীয়তা সনদ, ওয়ারিসান সনদ, পাসপোর্ট, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহ রেজিস্ট্রি, জমি রেজিস্ট্রি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিদ্যুৎ বিল, সিটিজেন চার্টার ও ডারেক্টরী ইত্যাদিতে গ্রামের নাম ‘সৈয়দাবাদ’ লিখে আসছেন। তাই তা প্রতিনিয়ত গেজেট হয়ে আসছে।
তবে পরিতাপের বিষয় হল, সম্প্রতি বিতরণরত অনেকের স্মার্ট কার্ডে ‘সৈয়দাবাদ’ গ্রামের স্থলে অধুনালুপ্ত অর্থহীন ‘পশ্চিম সাবেক’ লেখা দেখে সংশ্লিষ্টদের হতাশ করেছে। যেহেতু গ্রামবাসীর সরকারী—বেসরকারী বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও রেকর্ডপত্রে গ্রামের নাম দু’ধরনের হয়ে যাচ্ছে। ফলে জনগণ চরম ভোগান্তিতে নিপতিত হচ্ছে। যা অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্খিত, বিদ্বেষপ্রসূত, হয়রানীমূলক ও মর্মান্তিক।
তাই আশা করি ভোগান্তি উত্তরণে সংশ্লিষ্ট স্ব স্ব পাড়া ও এলাকার জনগণকে শ্রম্নতিমধুর, ধর্মীয় অনুভূতিমিশ্রিত ও অর্থবহ ‘সৈয়দাবাদ’ গ্রামের নামটি অবাধে লিখার ক্ষেত্রে হৃদয়বান ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নূর উল্লাহ্ সদয়শীল হয়ে ভূমিকা রাখবেন। ভূক্তভোগীরা আশা করছেন, গ্রামবাসীর ধর্মীয় অনুভূতিসম্পন্ন জনস্পর্শকাতর বিষয়টির প্রতি তিনি আন্তরিক হবেন এবং গ্রামের নাম ‘সৈয়দাবাদ’ পুনজ্জর্ীবিত করে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেবেন। যেহেতু মানুষের দায়িত্বকাল ক্ষণস্থায়ী ও ক্ষণিকের। তবে ভাল—মন্দ কাজই চিরস্থায়ী। ভালটি যেমন সকলের জন্য সুখকর ও প্রশান্তির, তেমন খারাপটিও বেদনাদায়ক। যা মন্দ বা অপকর্মের নিকৃষ্ট উদাহরণ। হে আল্লাহ্, সকল দায়িত্ববানদেরকে সর্বাবস্থায় সত্য, সুন্দর ও উত্তমটা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের তাওফীক দিন।
তাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নূর উল্লাহ্র প্রতি গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, * বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির অবসানে জনগণকে শ্রম্নতিমধুর, ধর্মীয় অনুভূতিমিশ্রিত অর্থবহ ‘সৈয়দাবাদ’ নামটি অবাধে লিখার ক্ষেত্রে তিনি সদয়শীল হবেন। * সৈয়দাবাদ লেখায় বাধ্যবাধকতা না থাকলেও লেখার ক্ষেত্রে প্রতিবদ্ধকতার মত মানবাধিকার পরিপন্থী ও জনস্পর্শকাতর বিষয়টি অবারিত রাখতে তিনি আন্তরিক হবেন। * গ্রামের নাম ‘সৈয়দাবাদ’ পুনজ্জর্ীবিত করে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেবেন।
মানুষের দায়িত্বকাল ক্ষণস্থায়ী ও ক্ষণিকের। ভাল—মন্দ কাজই হল চিরস্থায়ী। ভালটি যেমন সকলের জন্য সুখকর ও প্রশান্তির, তেমন খারাপটি বেদনাদায়ক। যা মন্দ বা অপকর্মের নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকে। হে আল্লাহ্, সকল দায়িত্ববানদেরকে সর্বাবস্থায় সত্য, সুন্দর ও উত্তমটা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের তাওফীক দিন।

নিবেদক
সৈয়দাবাদ গ্রামবাসীর পক্ষে

সৈয়দ মুহাম্মদ ইয়াসির
মাওলানাবাড়ী, জান মুহাম্মদপাড়া
গ্রাম সৈয়দাবাদ, ডাকঘর স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।
০১৮৩০—১৩৭০৯২

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD