1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
ফিতরা কী, কেন ও টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে কিনা- একটি বিশ্লেষণঃ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী  - DeshBarta
বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ হবে সবচেয়ে নিরাপদ চন্দনাইশে আ.লীগ নেতা ওয়াহিদ মাস্টারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত জাহিদ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ইতিহাস৭১.টিভির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে আলোচনা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান সম্পন্ন ”কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম জনগনের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে এবং আপোসযোগ্য অপরাধ নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে” – উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আনোয়ারা। চন্দনাইশে খাল পূনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করেন এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এস আলমের পন্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় নবনির্মিত কালারপোল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ক্ষোভ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি পদে গোলাম কিবরিয়াকে কেন অপরিহার্য- যিকরু হাবিবীল ওয়াহেদ কম ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের মুদ্রা দ্বিতীয় স্থানে – ড. সেলিম মাহমুদ

ফিতরা কী, কেন ও টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে কিনা- একটি বিশ্লেষণঃ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী 

  • সময় শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৭ পঠিত
উপসম্পাদকীয়ঃ
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম আমাদের মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ধনী-গরীব সকলে মিলে যেন সমানভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য ইসলাম ব্যবস্থা করেছে সাদাকাতুল ফিতর নামে একটি দানের খাত। এই দানকে বলা হয় সাওমের কাফফারা।
সাদকাতুল ফিতর কী?
ফিতরা আরবি শব্দ। সদকা মানে দান, ফিতর মানে রোজার সমাপন বা শেষ। ফিতর বলতে সকালের খাদ্যদ্রব্যকেও বোঝানো হয়, যা দ্বারা সাওম পালনকারীরা তাদের সাওম ভঙ্গ করেন। সুতরাং সাদকাতুল ফিতর হলো ঐ সব খাদ্যবস্তু দান করা, যা দ্বারা সিয়াম পালনকারী তাদের সাওম ভঙ্গ করেন। সোজা কথায়, ফিতরা হলো এমন খাদ্যসামগ্রী দান করা, যা দ্বারা গরিব দুঃখীরা ঈদের দিনে খেয়ে খুশি হয়। আর এই দান প্রতিটি সাওম পালনকারীকেই প্রদান করতে হবে।
ফিতরা কেন দিতে হয়?
পবিত্র রমাজানে সিয়াম পালন করতে গিয়ে প্রতিটি মানুষেরই অবচেতনমনে কোনো না কোনো ভাবে সিয়ামের অনেক সাধারণ ভুলত্রুটি (যেমনঃ গীবত করা, অশ্লীল কথাবার্তা, গালাগালি করাসহ নানান ছোটখাটো সগিরা গুনাহ) হয়ে থাকে। সিয়াম পালন করতে গিয়ে সেই ত্রুটি-বিচ্যুতিরই ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনী হচ্ছে সাদকাতুল ফিতর। জাকাত যেমন অর্থ-সম্পদকে পবিত্র করে, ঠিক তেমনি ফিতরাও সাওমকে পবিত্র করে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, “সদকাতুল ফিতর দ্বারা সাওম পালনের সকল দোষত্রুটি দূরীভূত হয়, গরিবের পানাহারের ব্যবস্থা হয়।” -(আবু দাউদ)
কার উপর ফিতরা ওয়াজিব?
ফিতরা সেই মুসলিমের উপর ওয়াজিব যার ঈদের রাত ও দিনে নিজের এবং পরিবারের আহারের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত খাদ্য মজুদ থাকে। পরিবারে যতজন সদস্য আছে, ততজনের ফিতরা আদায় করতে হবে। সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য জাকাতের সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত নয়। ফিতরা ব্যক্তির উপর ওয়াজিব, সম্পদের উপর নয়।
কখন আদায় করতে হয়?
সাদকাতুল ফিতর আদায়ের ফজিলতপূর্ণ সময় হলো ঈদের দিন সূর্যোদয়ের পর থেকে ঈদের সালাতের পূর্ব পর্যন্ত। ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায় করা যায়। কেননা সাহাবায়ে কেরাম এরূপ করেছেন। ঈদের নামাজের পর সদকাতুল ফিতর আদায় করা শুদ্ধ নয়। ইবনু উমার (রা.) বলেন, “নবী (স.) লোকেদের ঈদের নামাজের জন্য বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন” (বুখারী ১৫০৯)। সুতরাং ঈদের দিন ফিতরা আদায় করা সর্বোত্তম।
ফিতরা কাকে দিব?
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে। একদল আলেম মনে করেন, যারা জাকাতের হকদার তারাই সাদকাতুল ফিতরার হকদার। তাদের দলিল হলো, ফিতরাকে রাসুল (সা.) জাকাত ও সাদাকা বলেছেন। তাই যেটা জাকাতের খাত হবে, সেটা ফিতরারও খাত হবে। সাদাকার ৮ টি খাত আল্লাহ তায়ালা সুরা তওবায় উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “জাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে; এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সুরা: আত তাওবাহ, আয়াত: ৬০)
অন্য একদল আলেম মনে করেন, ফিতরা কেবল ফকির মিসকিনদের হক, অন্যান্যদের নয়। তাদের  দলিল হলো, ইবনে আব্বাস (রা.) এর হাদিস। তিনি বলেন, “আল্লাহ তায়ালা ফিতরা ওয়াজিব করেছেন রোজাদারের অশ্লীলতা ও বাজে কথা-বার্তা হতে পবিত্রতা এবং মিসকিনদের আহার স্বরূপ …” (আবু দাউদ, জাকাতুল ফিতর নম্বর ১৬০৬)। সুতরাং উপরোক্ত হাদিসে স্পষ্ট যে, মিসকিনদের, তথা গরিব, দুঃস্থ, অসহায়, অভাবগ্রস্থকেই ফিতরা প্রদান করতে হবে। অধিকাংশ আলেম উলামাদের মতে, দ্বিতীয় মতটিই অধিক সহীহ। কারণ, এই মতের পক্ষে স্পষ্ট দলিল (হাদীস) বিদ্যমান। আর প্রথম মতটি একটি কিয়াস (অনুমান) মাত্র। আর দলিলের বিপরীতে কিয়াস বৈধ নয়।
কী দিয়ে ফিতরা দিতে হয়?
আমাদের উপমহাদেশে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা হলেও হাদিসে খাদ্য দ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায়ের কথা এসেছে। আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত: “রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় আমরা সাদকাতুল ফিতর বাবদ এক সা‘ খাদ্য (গম) বা এক সা‘ খেজুর বা এক সা‘ যব বা এক সা‘ পনির অথবা এক সা‘ কিসমিস দান করতাম। আমরা অব্যাহতভাবে এ নিয়মই পালন করে আসছিলাম। অবশেষে মুআবিয়াহ (রা.) মদিনায় আমাদের নিকট আসেন এবং লোকেদের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আমি শাম দেশের উত্তম গমের দু’ মুদ্দ পরিমাণকে এখানকার এক সা‘র সমান মনে করি। তখন থেকে লোকেরা এ কথাটিকেই গ্রহণ করে নিলেন। আবু সাইদ (রা.) বলেন, আমি কিন্তু সারা জীবন ঐ হিসাবেই সদকাতুল ফিতর পরিশোধ করে যাবো, যে হিসাবে আমি রসূলুল্লাহ (স.)-এর যুগে তা পরিশোধ করতাম। (সুনানে ইবনে মাজাহ-১৮২৯)। অতএব, হাদিস দ্বারা সুস্পষ্ট যে, রাসুলুল্লাহ (স.) থেকে  ফিতরা আদায়ের নির্দেশ হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য, যেমন— গম, খেজুর, যব, পনির, কিসমিস দ্বারা। এই পাঁচটি নিয়মিত খাদ্য দ্বারাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সময়ে  ফিতরা আদায় করা হতো। আর খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় হচ্ছে সুন্নত।
ফিতরার পরিমাণ?
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ হচ্ছে তৎকালীন প্রচলিত খাদ্যদ্রব্যের এক সা দ্বারা একজনের ফিতরা আদায় করা। সেই হিসাবে আমাদের উপমহাদেশে প্রচলিত খাদ্যদ্রব্য হচ্ছে চাউল এবং আটা। সুতরাং সুন্নাহ হলো চাউল বা আটা দ্বারা এক সা করে একজনের ফিতরা আদায় করা। মাঝারি দেহের অধিকারী মানুষের হাতের চার “মুদে” এক ‘সা’ হয়। অর্থাৎ দুই হাতের কব্জি মুনাজাতের মতো একত্রিত করে তাতে যতটুকু ফসল নেয়া যায়, ততটুকুকে বলা এক “মুদ “।
টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে?
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা বিভিন্ন কারণে সমস্যাযুক্ত। ফলে বিভিন্ন আলেম উলামারা খাদ্যদ্রব্যের হিসাব করে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায়ে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। আমাদের উপমহাদেশে গমের বা আটার মূল্য ধরে সর্বনিম্ন ফিতরা আদায় করা হয়। একইভাবে

খেজুর, কিশমিশ, পনির, যব দ্বারাও টাকার পরিমান করা হয়। যুক্তি হলো, শুধু খাদ্য দিয়েই একজন মিসকিন জীবনযাপন করতে পারেন না। তার প্রয়োজনীয় সবকিছু পূরণ করতে হলে টাকার প্রয়োজন। টাকা দিয়ে ঐ মিসকিন তার পছন্দের খাদ্য কিনে খেতে পারবেন। এ বিষয়ে অধিকাংশ উলামায়ে কেরামগণের ঐক্যমত্যের কারণে ইনশাল্লাহ- তা কবুল হয়ে যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
লেখকঃ প্রাবন্ধিক, গবেষক ও গণমাধ্যম কর্মী

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD