1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
বৈচিত্র্যময় ও মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর - DeshBarta
মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চন্দনাইশে আ.লীগ নেতা ওয়াহিদ মাস্টারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত জাহিদ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ইতিহাস৭১.টিভির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে আলোচনা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান সম্পন্ন ”কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম জনগনের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে এবং আপোসযোগ্য অপরাধ নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে” – উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আনোয়ারা। চন্দনাইশে খাল পূনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করেন এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এস আলমের পন্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় নবনির্মিত কালারপোল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ক্ষোভ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি পদে গোলাম কিবরিয়াকে কেন অপরিহার্য- যিকরু হাবিবীল ওয়াহেদ কম ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের মুদ্রা দ্বিতীয় স্থানে – ড. সেলিম মাহমুদ পটিয়াতে প্রত্যয়ের উদ্যোগে রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী অনুষ্ঠান

বৈচিত্র্যময় ও মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

  • সময় শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২
  • ২১ পঠিত

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী

আরবিতে লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রাত এর ফারসি হলো শবে কদর। এ রাতেই জীবন্ত মুজিজা ও বৈচিত্র্যময় ও বিজ্ঞানময় মহাগ্রন্থ আল–কোরআন নাজিল হয়। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার জাবালে রহমত তথা হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.)–এর মাধ্যমে মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি কোরআন অবতীর্ণের সূচনা হয়। তাই এটি বছরের শ্রেষ্ঠ বরকতময় রাত।

শবে কদর কি – তা আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন। পবিত্র কুরআনে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি এ মহিমান্বিত রজনীতে (শবে কদরে)। হে নবী (স.), আপনি কি জানেন এ মহিমান্বিত রজনী কি? এ মহিমান্বিত রজনী হলো হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাত্রিতে ফেরেশতারা এবং রুহ (আত্মা) জমিনে অবতরণ করেন, তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে শান্তির বার্তা নিয়ে। এ শান্তির ধারা অব্যাহত থাকে ফজরের উদয় পর্যন্ত’ (সুরা কদর, আয়াত: ১-৫)।

মহানবী (স.) একদিন সাহাবাদের সাথে বনী ইসরাঈল গোত্রের একজন মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ঐ মুজাহিদ একহাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জিহাদে মশগুল থেকেছেন। মুসলমানগণ এ কথা শুনে বিস্মিত হলে আল্লাহ পাক সূরা কদর নাজিল করে কদরের রাতের তাৎপর্য তুলে ধরেন। এতে মুহাম্মদের ( স.) উম্মতের জন্য কেবল মাত্র এক রাত ইবাদতই ঐ মুজাহিদের একহাজার মাস ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবতার মুক্তির দিশারি রূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো’ (মুসলিম)। এ রাতগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯। আরবিতে দিনের আগে রাত গণনা করা হয়। অর্থাৎ ২০, ২২, ২৪, ২৬ ও ২৮ রমজান দিবাগত রাত্রসমূহ।

মুফাসসিরিনে কিরাম বলেন, আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয়ে ৯টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে। আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় ৩ বার রয়েছে। ৯ কে ৩ দিয়ে গুণ করলে বা ৯ কে তিনবার যোগ করলে ২৭ হয়। তাই ২৭ রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি (তাফসিরে মাজহারি)। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’(হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন); (ইবনে মাজহ)।

সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি শরিফ, ইমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ২৫, খণ্ড: ১)।

শবে কদরে যেসব আমল করা যায়: নফল নামাজ—তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইত্যাদি। নামাজে কিরাআত ও রুকু–সিজদা দীর্ঘ করা। কোরআন শরিফ: সুরা কদর, সুরা মুজাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, ইয়া-সিন, সুরা ত-হা, সুরা আর রহমান ও অন্যান্য ফজিলতের সুরা তিলাওয়াত করা। দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; তাওবা–ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আসকার ইত্যাদি করা; কবর জিয়ারত করা। নিজের জন্য, পিতা–মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মুমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনা করে দোয়া করা।

এই রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডেকে ডেকে বলেন, ‘কে আছ অসুস্থ? আমার কাছে চাও, আমি শেফা দান করব। কে আছ অভাবগ্রস্ত? আমার কাছে চাও, আমি প্রাচুর্য দান করব। কে আছ বিপদগ্রস্ত? আমার কাছে চাও, আমি বিপদমুক্ত করে দেব।’

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য নবীজি (সা.) শেষের ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ওফাতের আগ পর্যন্ত প্রত্যেক রমজানের শেষের ১০ দিন রাসুল (সা.) ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারি: ২৩২৬, মুসলিম: ১১৭২)। ‘কিন্তু তিনি যে বছর ওফাত পান, সে বছর ২০ দিন ইতিকাফ করেন।’ (বুখারি: ৪৯৯৮)। ‘রাসুল (সা.)–এর ওফাতের পরও তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারি: ২০২৬, তিরমিজি: ৭৯০)।

লেখকঃ গবেষক, প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যম কর্মী।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD