1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
চকরিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন; কৃষকরা সোনালী ধান ঘরে তুলে নিচ্ছে - DeshBarta
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পদ্মার উত্তাল ঢেউ কর্ণফুলীর তীর চট্টগ্রামেও হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ে পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে থানা পুলিশের আনন্দ শোভাযাত্রা। পদ্মা সেতুতে প্রথম টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কবিতাঃ পদ্মা সেতু -লায়ন এম এ ছালেহ্ মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বস্ত্র বিতরণ শুভ জন্মদিন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি জিদান জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘ঝরা পালক’ মুক্তি পেল পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চন্দনাইশ থানা পুলিশের র‍্যালি পদ্মা সেতু ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পটিয়া শ্রমিকলীগ সভাপতি সামশুল ইসলাম’র মাক্স বিতরন

চকরিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন; কৃষকরা সোনালী ধান ঘরে তুলে নিচ্ছে

  • সময় শনিবার, ২১ মে, ২০২২
  • ২৬ পঠিত

জেপুলিয়ান দত্ত জেপু,চকরিয়াঃ

কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজার মূলত লবন ও মৎস চাষের উপযোগী হলেও এবার বোরো ধানের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মাঠ জুড়ে সোনালী ফসলের উপর বাতাসে ঢেউ বয়ে যাওয়ার দৃশ্য যেন মনোমুগ্ধকর।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার ৫০৩.৭৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে দুই ফসলি জমির পরিমান ২২২২০ হাজার হেক্টর। মোট আয়তনের কৃষিজ ফলন হয় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে । আবাহাওয়া অনুকূলে থাকার ফলে তুলনামূলক এবার বোরো ধানের চাষও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

হেমন্তের ফলন হলেও গ্রীষ্মের তাপদাহে কৃষকরা মনের আনন্দে গোলায় তুলবে এবারের সোনালী ধান। চকরিয়ার গ্রাম-গন্জে ঘুরে দেখা গেছে কৃষাণ- কৃষাণি উৎফুল্ল মনে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যাস্ততম সময় পার করছে। এ সময় দেখা গেছে,পথে প্রান্তরে ও কৃষকের উঠোনে পড়ে থাকা সোনালী ধানের স্তুপ । এ সময় কৃষাণীরা গামছা বাধা ভাতের থালা নিয়ে মাঠের এক প্রান্তে অপেক্ষা করছে কৃষকের জন্য । মনোমুগ্ধকর গ্রামীণ এ দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে মনে পড়ে পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের কবিতা,প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা আরো কত লেখকের লেখা।

এ প্রতিনিধি চকরিয়ার মাঠে-ময়দানে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করলে আনন্দের হাসি দিয়ে কৃষকরা জানান,কালবৈশাখী ঘুর্ণিঝড় “অশনী”কে ভয় পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, এবার বুঝি সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারব না। বিধাতা হয়তো আমাদের আর্জি শুনেছে। যার ফলে কালবৈশাখী হোক বা না হোক এর আগেই আমরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে পারব।

এদিকে,শ্রমিকের অভাবে নিজেদের কষ্ট করে ফসল কাটা ও মাড়াই করতে হচ্ছে।এ ছাড়াও হারভেস্টার মেশিনের সংকটের কারণে ধান কাটা ও মাড়াই করতে সময় লেগে যাচ্ছে।

প্রখর সূর্যের তাপ উপেক্ষা করে কৃষক- কৃষাণীরা তাদের ছেলে-মেয়েসহ মাঠে ধান কাটাতে ব্যস্ত। গ্রামের চায়ের দোকানগুলো অনেকটা লোকশূন্য সবাই মাঠে-ময়দানে নেমে পড়ছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসবে। আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কৃষক-শ্রমিকরা মাঠ থেকে উঠে গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে জমায় আড্ডা। অনেক কৃষক-শ্রমিক মোবাইলের মাধ্যমে ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, লালনগীতি ও আঞ্চলিক গান বাজিয়ে মাঠে ধান কাটায় ব্যাস্ত। এ সময় তাদের ফুরফুরে মেজাজে থাকতে দেখা গেছে।

সূর্য উঠার পুর্বে কৃষাণিরা ঘুম থেকে উঠে ধান মাড়াইয়ের কাজ শুরু করে দেয়। পান্তা ভাত খেয়েই তারা দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাতের যোগান দেওয়ার জন্য এ মৌসুমে কঠোর পরিশ্রম করছে রাতদিন। মাঝে মধ্যে কঠোর পরিশ্রম ও গরমের ফলে অসুস্থও হয়ে পড়ছে অনেকে। তখন তারা হতাশায় ভোগে।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড় আসার আগেই কৃষকরা মাঠ থেকে বোরো ধান কেটে গোলায় তোলার চেষ্টা করছেন। এ কারণে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের এ মৌসুমে শ্রমিকদের মজুরি পড়ছে ৯’শ টাকার অধিক। কোনো কোনো ইউনিয়নে এক হাজার টাকাও মজুরি গুনছে শ্রমিকরা।

আবাহাওয়া অনুকূলে থাকলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি ফলন আসবে। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মণ ধান আশা করা যাচ্ছে বলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। বাজারে নতুনধানের দামও ভালো রয়েছে। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮’শ টাকার উর্ধ্বে। যার ফলে কৃষকরা খুশিতে আত্মহারা। কৃষকরা এবার ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে বলেও আশা প্রকাশ করা যাচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের কৃষক বাশি দে বলেন,৩০ কানি বা ৩৬ বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ করেছি। জমির ধান পাকায় এলাকার শ্রমিক নিয়ে ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু করছি। আশা করছি, আবাহাওয়া অনুকূলে থাকলে অল্প ক’দিনে পাকা ধান কেটে মাড়াই করে গোলায় তুলতে পারব। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ মৌসুমে ক্ষেতের ধান ভাল হয়েছে। তাই মনের আনন্দে ধান কাটা- মাড়াই করতে পরিশ্রম মনে হয় না। তবে মাঝে-মধ্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে মনে ভয় হয় বুঝি কালবৈশাখের ছোবল হাওয়া শুরু হচ্ছে। তবু আশা ছাড়ি না, ফসলের টানে খেয়ে না খেয়ে ধান কাটার জন্য নেমে পড়ি মাঠে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এস.এম.নাসিম হোসেন জানান,বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষিজ ফলন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে চকরিয়া উপজেলায় এবার বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার উন্নয়ন শাখার উপসহকারী কৃষি অফিসার রাজীব দে এ প্রতিনিধিকে জানান,চকরিয়ায় এবারের লক্ষ্যমাত্রার ১৭২১৫ হেক্টরের মধ্যে ৫০০০ হেঃ হাইব্রিড ও ১২২১৫ হেঃ উফশী ধানের ফলন হয়েছে। তবে এবার গতবারের চেয়ে ভাল ফলন হয়েছে।সময়মত রাবার ড্যামের পানি ধারণ ক্ষমতার ফলে এবার বোরো চাষ ভাল হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান,বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মাঠে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় ৯০% ধান কাটা হয়েছে বলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও পাঁচটি হারভেস্টার চকরিয়ায় বোরো ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছে। বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার গতবারের চেয়ে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সবাই।

চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কৃষকরা খাদ্য শস্যের ব্যাপক চাষ করেন। যার ফলে উপজেলায় খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটানোর পরও কৃষকরা দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় খাদ্য শস্যের যোগান দেয়।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD