1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
জননেতা মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী ইতিহাসের অংশ - তসলিম উদ্দিন রানা - DeshBarta
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

জননেতা মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী ইতিহাসের অংশ – তসলিম উদ্দিন রানা

  • সময় শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২
  • ৪৬ পঠিত

বীর চট্রলার গর্বিত সন্তান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শ্রম,সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী,ইষ্টার্ন জোনের চেয়ারম্যান,চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জননেতা জহুর আহম্মদ চৌধুরীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা ও স্মরণ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম এক উজ্বল নক্ষত্রের নাম জহুর আহমেদ চৌধুরী।যাকে বলা হত চট্টলার রাজনীতির বরপুত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি যে কয়জন বলিষ্ট ভুমিকা রেখেছেন তাদের একজন জহুর আহমেদ চৌধুরী। পরিশ্রম, সততা, নিষ্টা এবং একাগ্রতা তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য এক পরিচিতি। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই তিনি আগরতলা গিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংযজ্ঞ বিশ্ববাসির কাছে তুলে ধরেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশের পক্ষে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগ করেন মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার। অনুরোধ করেন অসহায় বাংলাদেশীদের পাশে থাকার। তিনি আগরতলায় বাংলাদেশের এমএনএ এবং এমপি’দের সাথে বৈঠক করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করেন।
প্রখ্যাত এ রাজনীতিবীদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রীর সভার অন্যতম সদস্য ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ দেশ গড়ার নানান আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এমপি, এমএলএ, পৌর কমিশনারসহ নানান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বরণ্য এ রাজনীতিবীদ রাজনৈতিক জীবনের সিংহভাগ সময় কেটে জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে নিরীহ বাঙালির উপর হামলা শুরু করে পাক হানাদার বাহিনী। হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ফোন করে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর জহুর আহমদ চৌধুরীর দামপাড়া বাসায়। তখন জহুর আহমদ চৌধুরী ব্যস্ত ছিলেন চট্টেশ্বরী রোডের ওয়াপদা গেস্ট হাউজে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে নানান নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ফোন করে জহুর আহমদ চৌধুরীর সাথে কথা বলতে চান। কিন্তু ওনাকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ডা.নুরুন নাহার জহুরকে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র লিখতে বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু নির্দেশ মতো নুরুন নাহার জহুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি লেখেন। পরবর্তী সময়ে তা দ্রুততার সাথে বিষয়ে স্বামী জহুর আহমদ চৌধুরীর অবহিত করেন।সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের নির্দেশে শত শত বাঙালী শ্রমিক কর্মচারী গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
শ্রমিক সংগঠনের নেতা হওয়ার কারণে জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা করেন ও পরে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেন।বিনা বিচারে স্বৈরচ্ছারী আইয়ুব খান নিরহ বাঙালীর আন্দোলনকে অবৈধ ও দাঙ্গাহাঙ্গামা বলে ঘোষণা করেন ও বহু বাঙালীকে হত্যা করেন যা নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড।কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বদেশ আন্দোলনে যোগ দেন।
১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন করতে পারে নাই বলে বঙ্গবন্ধু আফসোস করে বলেছিলেন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এম এ আজিজ সাহেব মনোনয়ন দিতে পারিনি যা আমার জন্য দুর্ভাগ্য।তবুও তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দলের জন্য কাজ করেছেন।তখন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি স্বাধীকার আদায়ের জন্য প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন।বীর চট্টগ্রামে তার নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম চলে।

ইতিহাসের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর জহুর আহমেদ চৌধুরী একটি নাম নয় ইতিহাস।তার অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়।ইতিহাসের নায়ক বীর জহুর আহমেদ চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ তথা বীর চট্রলার গর্বিত সন্তান।যার জন্য চট্টগ্রামে তার নাম আজীবন মানুষের মনের কোঠায় আছে থাকবে।তিনি শুধু আদর্শিক চেতনার ধারক নয় সাহসী বীরের নাম।বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার দরদ ছিল অসম্ভব।বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন।আপদমস্তক রাজনীতিবিদ ছিলেন বলে চট্রগ্রামের প্রতি অসম দরদ ছিল।সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন বহু যা লিখে শেষ করা যাবেনা।স্বাধীনতার এই সাহসী বীর এর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।আপনার কর্ম আপনাকে আজীবন বাঙালী স্মরণ করবে।
মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসাবে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ত্ব দেন। রাজনীতির সুবাদ পুরুষ কিংবদন্তি জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী মত আদর্শিক ও সাহসী নেতা ছিলেন বলে দেশ আজ স্বাধীন।মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জাতির পিতার আদর্শের উজ্জীবিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়া ছিল তার প্রধান কাজ।দেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য তিনি ছিলেন অকুতোভয় দুঃসাহসী যোদ্ধা।১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭৩ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভায় ৪ টা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির সুবাদ পুরুষ কিংবদন্তি জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দক্ষতার দেশ পরিচালনা করেন।এই মেধাবী সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর জহুর আহমেদ চৌধুরীর অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন।
চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া দামপাড়া নিজ বাসভবনের সামনে আজও সমাহিত আছে দেশপ্রেমিক, বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক বীর জহুর আহমেদ চৌধুরী। ১৯৭৪ সালে সালে ১লা জুলাই চট্রগ্রামে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় বীর জননেতা মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী। নিজ বাড়িতে জানাযা নামাজের পর তার পারিবারিক কবরস্থান চট্রগ্রাম দামপাড়া পিতা মাতার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।তার জানাযায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীসভার অনেক সদস্য ছিলেন।তার মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু শোকে কাতর হয়ে যান।
যুগে যুগে তিনি তার কর্ম দিয়ে দেশ ও জাতির নিকট বিপ্লবীদের প্রেরণার উৎস,আদর্শিক,শ্রমিক শ্রেণির
বটবৃক্ষ,দুঃসাহসিক,বঙ্গবন্ধু প্রেমিক,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,বরেণ্য সমাজসেবক হিসাবে মানুষের মণিকোঠায় বেচে থাকবে।সত্যিকারের একজন বীরের চলে যাওয়া মানে দেশ ও জাতির প্রভুত ক্ষতি সাধিত হল।তার কর্ম ও চিন্তা চেতনা নিয়ে আজকের প্রজন্ম এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর।আজীবন মানুষের মনের কোঠায় তিনি অম্লান ও শ্রদ্ধার পাত্র হিসাবে বেচে আছে।

লেখকঃ
কলামিস্ট ও সদস্য, অর্থ পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD