1. bappy.ador@yahoo.com : admin :
  2. salehbinmonir@gmail.com : News Editor : News Editor
জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য - DeshBarta
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য

  • সময় শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২
  • ১৮ পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব রকমের জ্বালানী তেলের দাম হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেওয়ার পরই পরিবহনখাতে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে দেশব্যাপী। ক্ষোভে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেছে। ভাংচুর করা হয়েছে যানবাহন। অনেক পেট্রোল পাম্পে জ্বালানী তেল শেষ হয়ে যায় দাম বৃদ্ধির খবর প্রচার হওয়ার পরপরই। দাম বৃদ্ধির খবরে রাতেই পুরাতন দামে তেল কিনতে রাতে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক ও চালকরা। সকালে মানুষ ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়ার সময় পড়তে হয়েছে বিপাকে। মাঝে-মধ্যে দুই/একটি বাস আসলেও তাতে উঠার জন্য শুরু হয় হুড়োহুড়ি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম কমার খবর প্রচার হয়েছে গতকালই। অথচ, যেদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগের জায়গায় চলে এসেছে তখন বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়লো। সেটাও আবার বাড়ানো হয়েছে অস্বাভাবিক হারে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২.৫% বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। পেট্রোলের দাম ৫১.১৬% বেড়ে প্রতি লিটারের দাম হয়েছে ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম বেড়েছে ৫১.৬৮%, প্রতি লিটার কিনতে গুনতে হবে ১৩৫ টাকা। অতীতে কখনো একসাথে এতবড় লাফ দেয়নি তেলের দামে। ফ্যাসিবাদী সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত কার্যকর হতেই সাধারণ মানুষের জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকেই জ্বালানী তেলের বাড়তি মূল্যের সাথে সমন্বয় করে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এই দাবীতে ঢাকাসহ সারা দেশে অঘোষিতভাবে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। সীমিত পরিসরে যান চলাচল করলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ইচ্ছেমত বর্ধিত ভাড়া। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। চাকরিজীবী ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষদের দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়ে দেন সিএনজি-চালিত অটোরিকশা চালকরাও। ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা হাঁকাতেও দেখা গেছে তাদের। বন্ধ ছিল অ্যাপসে রাইড শেয়ার করাও। মোটরসাইকেল চালকরা অ্যাপস বন্ধ রেখে চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করেছেন, সেখানেও সাধারণ মানুষকে গুণতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া।

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বাজারে জিনিসপত্রের দাম আগে থেকেই চড়া ছিল। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর ফলে এবার জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে। এতে নিম্নবিত্তের মানুষের জীবনকে আরও কঠিন হয়ে পড়বে। দেশের সব পরিবারেরই মাসিক খরচের হিসাব নতুন করে সাজাতে হবে। ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা জেনারেটর চালানোর খরচ বেড়ে যাবে, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্পেও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আঁচ পড়বে। মাছ ধরা ট্রলারগুলোরও জ্বালানি ডিজেল, তাই সেখানেও খরচা বাড়বে। কৃষিক্ষেত্রে সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলারে ডিজেলে ব্যবহার হয় বলে কৃষকেরও ব্যয় বাড়বে।

নজিরবিহীন দাম বৃদ্ধি:

প্রায় শতভাগ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। পরিবহন খাতের ৯০ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩৪ শতাংশ জ্বালানী তেল নির্ভর। যে চার ধরনের তেলের দাম বাড়ল, তার মধ্যে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়েছিল ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর। তখন প্রতি লিটারে দাম ৬৫ টাকা থেকে ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৮০ টাকা। নয় মাসের মাথায় তা এক লাফে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকায় নেওয়া হল। অকটেন আর পেট্রোলের দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল। সেই হিসাবে ছয় বছর ২ মাস পর বাড়ল এ দুই তেলের দাম। ৮৬ টাকার পেট্রোল এখন দিতে হবে ৪৪ টাকা বেশি। আর ৮৯ টাকার অকটেন ৪৬ টাকা বেড়ে হল ১৩৫ টাকা। একবারে ৫০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ঘটনা আর কখনও ঘটেনি। এই দামবৃদ্ধি নজিরবিহীন বলা চলে।

ঢাকায় বাস কম, গুনতে হচ্ছে বেশি ভাড়া:

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজধানীর সড়কে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বাস চলাচল কম ছিল। যাত্রীরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেই বাস পায় নি। বাস পেলেও ঝুলে ঝুলে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে।

মাজার রোড ও টেকনিক্যাল মোড়ে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকক্ষণ পর কোনো বাস এলে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু বাসগুলো আগে থেকেই যাত্রীতে পূর্ণ। বাসের পাদানিতেও অনেক দাঁড়িয়ে ছিলেন। একই অবস্থা ছিল মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, মহাখালী, বনানী, মিরপুরসহ অন্যান্য সড়কেও।

যাত্রীরা জানান, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। যেসব বাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে ২০-৩০ টাকা ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে, সিটও পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে দূরপাল্লার গণপরিবহনের ভাড়াও। এছাড়া অনেক দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। এতে বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরাও।

অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন অটোরিকশা-বাইক চালকেরা:

বাস সংকটের কারণে পোয়াবারো রিকশাচালক, সিএনজি-চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের। সুযোগ বুঝে তারাও ইচ্ছেমত ভাড়া বাড়িয়েছেন। যাত্রীরা বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা চাইছে। রাইড শেয়ার করা মোটর সাইকেলের চালকরা ইচ্ছা করে অ্যাপস বন্ধ করে রেখেছে। তারাও অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকছে। আর রিকশা চালকরাও ২০ থেকে ৫০ টাকা করে বেশি ভাড়া চাচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ-ভাঙচুর:

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্যামলীতে শিশু মেলার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় রাস্তা দিয়ে একটি পুলিশের গাড়ি যাচ্ছিল। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়িটি ঘিরে ধরে ভাঙচুর করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি মিছিল হয়েছিল। মিছিল থেকে পুলিশের একটি গাড়ি আটকে জানালার কাঁচ ভাঙচুর হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কোন থানার গাড়ি ছিল সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাইনি।
এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করায় তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।

খবরটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক দেশ বার্তা
Theme Customized By TeqmoBD